প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার বাসায় পৌঁছে দিতে ছুটে চলেছেন ঢাকার সুহানা

ফাতেমা আহমেদ : [২] ঢাকার পান্থপথের বাসিন্দা শেখ সুহানা ইসলাম। পেশায় একসময় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থাকলেও সেটি ছেড়ে দিয়ে গত কয়েক বছর স্বেচ্ছাসেবী নানা কাজের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির পর থেকে গত এক বছরে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় কোভিড১৯ রোগীর জন্য অক্সিজেন পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

[৩] মহামারির শুরু থেকে সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ করছিলেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এক পর্যায়ে এসে রোগীদের জন্য বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু করেন তিনি। ‘যারা হাসপাতালে যেতে পারছিল না সেই সব রোগীদের আমরা অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া শুরু করলাম,’ বলছিলেন সুহানা ইসলাম।

[৪] করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির পর থেকে বাংলাদেশে হু-হু করে বেড়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম। যে সিলিন্ডার এক সময় পাঁচ হাজার টাকায় পাওয়া যেতে সেটির দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৫ হাজার টাকায়। ফলে অক্সিজেন সরবরাহ করার খরচও বেড়ে গেছে তিন গুন।

[৫] সুহানা বলেন, ‘বিভিন্ন জনের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা জোগাড় করে এখন পর্যন্ত ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনা হয়েছে।’ নিজের ব্যক্তিগত স্কুটিতে রাত-বিরাতে রোগীদের বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটেছেন শেখ সুহানা ইসলাম। ১০০’র বেশি রোগীকে এই সেবা দিয়েছেন তিনি। ‘একটা সিলিন্ডার যখন একটা বাসায় যায় তখন সেটা ২৪ ঘণ্টা ব্যবহার করলেই কাজ শেষ হচ্ছে না। অনেকের এক সপ্তাহ কিংবা ১৫দিনও লাগে। অনেকে ফোন করে প্রতিদিন। কিন্তু সিলিন্ডার কম হওয়ায় আমরা সবাইকে এ সেবা দিতে পারি না,’ বলেন সুহানা।

[৬] বাংলাদেশের করোনাভাইরাসের প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউ যখন আঘাত করে তখন অনেকেই হাসপাতালে কোন জায়গা পাননি। অথচ শ্বাসকষ্ট নিয়ে তীব্র যাতনায় বাড়িতে কাটাতে হয়েছে। এদের একজন ঢাকার শহিদবাগের শারমিন ভুঁইয়া শিপা। করোনা আক্রান্ত হবার পর সুহানার সরবরাহ করা অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল তার জন্য আশীর্বাদ।

[৭] করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে রাত-বিরাতে ছুটে চলা বাংলাদেশের সমাজে একজন নারীর জন্য সহজ কাজ নয়। শহরের অধিকাংশ পরিবার যখন করোনা সংক্রমণের আশংকায় নিজেদের নানা কাজ থেকে গুটিয়ে নিয়েছিল তখনও অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে চলেছেন শেখ সুহানা। বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের মধ্যেও প্রথম দিকে উদ্বেগ ও অস্বস্তি ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেটা কেটে গেছে। বলছিলেন শেখ সুহানার ছেলে। সূত্র : বিবিসি বাংলা

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত