প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছুটির সময়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি

এ বি এম কামরুল হাসান: সারা দুনিয়াতে ধর্মীয় উৎসব বা অন্য কোন ছুটির সময় জরুরি সেবাসমূহ চালু থাকে। খোলা থাকে বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এটাই বৈশ্বিক রীতি। প্রশ্ন হচ্ছে, জরুরি সেবা কি ? বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিফোন, ইন্টারনেট সর্বোপরি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা। এ সবই। পাশাপাশি ছুটির দিনগুলো যাতে বিনোদনে কাজে লাগাতে পারে তার জন্য বিনোদন কেন্দ্রও খোলা থাকে। উৎসব পালনের জন্য সাধারণ সেবাসমূহ বন্ধ থাকে। সর্বকালে সবদেশে যুগ যুগ ধরে এ প্রথা চলে আসছে। মোটাদাগে যে সব সেবা জরুরি আর বিনোদন শ্রেণীভুক্ত- সে সবই ছুটির সময়ে খোলা থাকে।

বিগত ৬ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ একটি আদেশ জারি করেছে। শিরোনামে রয়েছে ঈদের দিন সরকারি হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন। শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যহীন ভাবে আদেশের কপির ভেতরে রয়েছে ঈদের ছুটিতে কি কি খোলা থাকবে। আদেশে বহি:বিভাগ খোলা রাখার কথা বলে হয়েছে। ঈদের ছুটিতে বহিঃবিভাগ খোলা রাখার আদেশ অযৌক্তিক, অপ্রয়োজনীয় ও অবিবেচনাপ্রসূত। প্রথমে জেনে নেয়া যাক, সারা দুনিয়ায় ঈদের দিন হাসপাতালে কি কি খোলা থাকে ? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বিভাগ ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ। এটি পূর্ণোদ্যমে খোলা থাকে। অন্ত:বিভাগ খোলা থাকে। যারা ছুটির পূর্বেই সেখানে ভর্তি থাকেন তাদের সেবা পূর্ণ পরিসরে চালু থাকে। পালাক্রমে সেখানে ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয়, সুইপার, নিরাপত্তা কর্মি- সবাই নিয়োজিত থাকেন। অথচ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ওই আদেশে অন্ত:বিভাগ খোলা রাখার ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি- যেটা আবশ্যিক। জরুরি অপারেশন চালু থাকে- জীবন রক্ষাকারি শৈল্য চিকিৎসা। প্রসূতি মায়েদের জন্য নরমাল ডেলিভারি বা শৈল্য চিকিৎসা পূর্ণ পরিসরে চালু থাকে।

সীমিত পরিসরে খোলা থাকে ল্যাব ও রেডিওলজি সার্ভিস। অন্তঃবিভাগে যারা ভর্তি থাকেন বা জরুরি বিভাগ হয়ে ছুটির সময়ে ভর্তি হবেন অথবা যারা জরুরি ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগের শরণাপন্ন হবেন, তাদের জন্য এ সুযোগ। এসব সার্ভিস চালু রাখতে হাসপাতালের লোকবলের একটি বড় অংশ নিয়োজিত থাকে। শুধু বন্ধ থাকে বহি:বিভাগ । যার সুবাদে কিছু কর্মি পরিবারের সাথে ছুটি কাটায়, ধর্মীয় বা অন্যান্য উৎসব পালন করে । বহি:বিভাগে এমন কোন রোগির সেবা দেয়া হয়না, যেটি ছুটির পর দেখলে সমস্যা হয়। যাদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, তারা তো জরুরি বিভাগে যাচ্ছেই । তাহলে ছুটির সময় বহি:বিভাগ চালু রাখার প্রয়োজনটা কি ? স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ যদি এই প্ৰয়োজনীয়তা যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করেন, তাহলে দেশ বিদেশের স্বাস্থ্য কর্মিদের বুঝতে সুবিধে হয়। ছুটির সময়ে হাসপাতাল খোলা রাখার এ মডেল অন্যান্য দেশও অনুসরণ করতে পারে ।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের দায়িত্ব হচ্ছে ছুটির সময় জরুরি বিভাগ ও অন্ত:বিভাগের সেবা নিশ্চিত করা। জরুরি বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানো। ডেঙ্গু ও কোভিডকাল মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্য কর্মিদের ছুটি বন্ধ প্রায় দু’বছর। এহেন পরিস্থিতিতে এ ধরণের অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় আদেশ স্বাস্থ্য কর্মিদের সাথে সরকারকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই স্বাস্থকর্মীরা ফুঁসছে, বিরূপ মন্তব্য করছে। বহি:বিভাগ জরুরি সেবাকেন্দ্রও নয়, বিনোদন কেন্দ্রও নয় যে ছুটির সময় খোলা রাখতে হবে। বরং ছুটির সময় বহি:বিভাগ নয়, জরুরি বিভাগের লোকবল ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত