প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শপিংমলগুলোতে ঈদ বাজার জমে উঠেছে, মুখে হাসি ফিরে এসেছে বিক্রেতাদের

শাহীন খন্দকার: [২] ঈদের আগে কয়েক লাখ ক্রেতা শপিংমল, বাজার এবং রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে পোশাক, জুতা, ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম, ঘরের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য ফ্যাশন সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন। বাংলাদেশের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এই সময়টা কেনাকাটার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা রমজান মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয় পাইকারি ও খুচরা বিক্রির প্রায় এক তৃতীয়াংশ সারাবছরের এই সময়ে হয়ে থাকে।

[৩] গত বছর করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত দীর্ঘ লকডাউনের কারণে ব্যবসায়িক মন্দাবস্থা দেখার পর এ বছরের পয়লা বৈশাখ এবং ঈদে বেচাকেনার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা। সংক্রমণের হার মার্চের মাঝামাঝি থেকে বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দেশে ৫ এপ্রিল সাত দিনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা খুচরা বিক্রেতাদের ভালো বিক্রির আশায় জল ঢেলে দেয়।

[৪] এরপর থেকে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কয়েকবার বাড়ানো হয়, ঢাকাকে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং এমনকি একটি জেলা অন্য জেলায় ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। যদিও তা বাস্তবায়নে কিছুটা ঢিলেঢালাভাব দেখা যায়। ১২ দিনের কর্মবিরতির পর সরকার ২৫ এপ্রিল থেকে শপিংমল, দোকান এবং বাজারগুলো আবার চালু করার অনুমতি দিলে ব্যবসায়ীদের আশা পুনরুজ্জীবিত হয়। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানান, বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রত্যাবর্তন করেছে, তবুও এটি মহামারির আগের অবস্থার ৫০ শতাংশ নিচে নেমেছে।

[৫] আড়ং, লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,‘গত কয়েকদিনে বিক্রি ভালো হয়েছে। তবে আরও কয়েক ঘণ্টার জন্য দোকান খোলা রাখার সুযোগ পেলে আমরা আরও বেশি ক্রেতা পেতাম।’ আশরাফুল আলম বলেন, ‘অন্যান্য বছরগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে আমরা ৭০০-৮০০ অতিরিক্ত কর্মী নিযুক্ত করতাম। এ বছর আমরা মাত্র ২০০ জনকে নিয়োগ করেছি।’

[৬] মোহম্মদপুর জাপানসিটি গার্ডেন অ্যাগোরা মার্কেট কসমেটিকস দোকানের মালিক আবেদ আহমেদ বলেন, এখন প্রতিদিন ১০-১২ হাজার টাকা বিক্রি করেন, যেখানে করোনার আগে ১৮-২০ হাজার টাকা বিক্রি করতেন। মহামারি ব্যবসা ধ্বংস করে দেওয়ার কারণে গত বছর আমি ঋণ নিয়েছিলাম এবং তা পরিশোধ করার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। এর চেয়ে বড় কথা, আমাকে কর্মচারীদের বেতন ও বোনাসও দিতে হবে’, বলেন তিনি।

[৭] বাংলাদেশ ফ্যাশন উদ্যোক্তা সমিতির সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ‘আমরা ব্যবসা কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা করেছিলাম, তার তুলনায় ব্যবসা সত্যিই ভালো হয়েছে। যেহেতু রমজানের শেষ সপ্তাহে বিক্রি সবসময় বেশি হয়, আশাকরি এবারও এটি ত্বরান্বিত হবে।

[৮] ট্রান্সকম ইলেক্ট্রনিক্সের বিপণন ব্যবস্থাপক সৈকত আজাদ জানান, ফ্রিজের বিক্রি বাড়লেও এয়ারকন্ডিশনার ও টেলিভিশনের বিক্রি কমেছে। আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে খুব বেশি সাড়া পাচ্ছি না। ঈদের ১দিন বাকি রয়েছে এবং আমি আশাকরি বিক্রি কিছুটা বাড়বে। কিন্তু, নির্ধারিত বিক্রির লক্ষ্য অর্জন করা আমাদের পক্ষে খুব কঠিন হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত