প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঞ্জুরে খোদা টরিক: দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে যা চলছে, তা কীসের আলামত?

মঞ্জুরে খোদা টরিক: শিক্ষার মান কমছে- সে কথা আমরা সবসময় বলছি। এখন বলতে হবে, শিক্ষার মানের চেয়ে শিক্ষা প্রশাসনের মান-অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আমরা গর্ব করতাম। কিন্তু সে গর্বের জায়গা আর নেই, তা একদম তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের রাজনীতি দলাদলি আগেও ছিলো এবং দলীয় সমর্থক-অনুগত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেতেন। যেমন বিএনপির ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, আওয়ামী লীগের ড. এ কে আজাদ চৌধুরী ইত্যাদি। শিক্ষক হিসেবেও তাদের সুনাম ছিলো এবং প্রশাসক হিসেবে তারা নোংড়া, ছ্যাচরা, দুর্নীতিবাজ ছিলেন না। এখন দলবাজ লোকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারাও দলীয় কর্মীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। পাকিস্তান এবং কোনো সামারিক শাসকের আমলেও এতোটা অধপতন চিন্তার সুযোগ ছিলো না, যা এখন হচ্ছে।

[১] বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অনৈতিক নিয়োগ বাণিজ্য করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাসে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আছে।

[২] একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বিশ্বাস করেন যে, ভিসিগিরির চেয়ে যুবলীগের সভাপতি হওয়টা তার কাছে অনেক গৌরবের ও মর্যদার!

[৩] বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসে না গিয়ে ঢাকার বাসায় বসে বছরের পর বছর অফিস করেন, টকশো করেন ইত্যাদি।

[৪] বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কথা শুনলে মনে হয় না তিনি একজন একাডেমিশিয়ান, মনে হয় রাজনৈতিক দলের আঞ্চলিক নেতা, তাদের আচরণ সরকার দলীয় লাঠিয়ালদের মতো।

[৫] তারা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তিতে- ছাত্রলীগ করাটা একটি বাড়তি যোগ্যতা ও প্রতিভা।

[৬] বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মনে করেন ১০ টাকার ছা-সিঙ্গারা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটর!

[৭] বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা মনে করে সরকারের দলীয় নীতি-কর্মসূচি বাস্তবায়ন তাদের কর্মপরিধির অন্তর্গত ও নৈতিক দায়িত্ব। ফেসবুকে কোন ছাত্র-শিক্ষক সরকারের বিরুদ্ধে কী লিখলো তার নজরদারি করা তাদের কাজ।

[৮] বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন- বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে, যাকে এবং যাদের নিয়োগ করা হবে- তাদের রেজাল্ট, দক্ষতা, যোগত্যার ওপর ভিত্তি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করার দক্ষতা-যোগ্যতা, ফলাফল দিয়ে নয়।

[৯] বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নারী নির্যাতন-কেলেঙ্কারিতেও পিছিয়ে নেই। সেটাও সংবাদ শিরোনাম হয়।

[১০] বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হবেন দলীয় লোক, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেবেন দলীয় কর্মীদের। দলীয় কোটায় নিয়োগ পাওয়া এসব দলীয় শিক্ষকরা আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বেশী নাম্বার দিয়ে ভালো ফল করাবেন। আর দলীয় চক্রনীতির সুবিধায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাবেন। বাকিরা চলে যাবে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে-স্থানে। তাদের মাধ্যমেই হবে দেশের উন্নয়ন।

একটা জাতিকে মেধাহীন করে ধ্বংস করতে আর কি লাগে? সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে যা চলছে তা কীসের আলামত? জ্ঞান-বিজ্ঞান, যুক্তি, বুদ্ধি, বিবেক, মর্যদা ও সংগ্রামী চেতনার  জায়গাগুলো এভাবে দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে দিয়ে আপনারা কী অর্জন করতে চান? ভুল শিক্ষা, ভুল মানুষ দিয়ে দেশের উন্নয়ন করতে চান? ভুলে ভরা অভিযুক্ত প্রচণ্ড নীতিহীন স্বার্থপর মানুষেরাই আপনাকে ঘিরে আছে। তাদের কাছে ক্ষমতার নিরাপত্তা আশা করেন, ভুল ব্যাকরণে চলছেন। সমস্যা হচ্ছে দেশ অনেক পিছিয়ে যাচ্ছে, জাতিকে অনেক মূল্য দিতে হবে। লেখক ও গবেষক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত