প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বীথি সপ্তর্ষি:  জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলে কঠিন হতে হয়!

বীথি সপ্তর্ষি:  জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলে কঠিন হতে হয়। নিজের প্রতি, অন্যের প্রতিও। ধরেন, আপনি ৮ হাজার টাকার চাকরি করেন। তা দিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাবেন, এসাইনমেন্ট প্রিন্ট আউট করাবেন, হাত খরচ চালাবেন। ভুলেও বাপের সন্তানের দায়িত্ব নিতে যাবেন না। যদি খুব খচখচ করে তো একটা বিরিয়ানি খাওয়ার টাকা দিয়ে দেন। কিন্তু নিজের বাপের দায়িত্ব নিজের বলে কখনো নিজের কাঁধে নিতে যাবেন না। নিজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সেটাই আপনার বাপের প্রতি আপনার দায়িত্ব পালন হল। নিজেই নিজের বাপ সেজে বাপের বাকি সন্তানদের বাপ সাজতে যাবেন তো মরবেন। কেউ বিপদে পড়েছে? ঝুঁকি নিয়ে তাকে আশ্রয় দিতে যাবেন না। কী করবে সেটা তাকে খুঁজে নিতে, বুঝে নিতে দেন। কারণ প্রয়োজন শেষ হলে আপনাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার সময় আপনি সেলফ অবসেসড, নিজেকে ছাড়া কিছু বোঝেন না, নিও লিবারেল সেলফিসনেস চর্চা করেন বলে-টলে অপমান করে যাবে। কারো ইমোশনাল ব্রেকডাউন সামলাবেন? সময় দেবেন? সে ভাববে, আপনি তাকে সময় দিতে বাধ্য। আপনার সদিচ্ছা, সংবেদনশীলতার কোনো মূল্য কোনোদিন কারো থেকে পাবেন না।

কৃতজ্ঞতাবোধ বাদ দেন, ন্যূনতম স্বীকৃতিটুকুও পাবেন না। কথাগুলো স্বার্থপর মনে হচ্ছে তো? বিশ্বাস করেন আর নাই করেন- যে ভাইয়ের জন্য ৮ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠাবেন, জাস্ট ৫টা বছর পর সেই ভাই আপনার গালে থাপ্পড় মেরে বুঝিয়ে দেবে আপনি আসলে তার জীবনে কোনো ভ্যালু অ্যাড করেননি। আপনাকে বলবে, আপনি ঠিকমতো টাকা দেননি বলে সে পড়াশোনা করতে পারেনি। ফোন করলে অপমান করে কানের ওপর সশব্দে ফোন কেটে দেবে। যাকে সাহায্য করার জন্য নিজে দুইটা কম খাবেন সে অন্যের কাছে গিয়ে বদনাম করবে যে তাকে কম খেতে দিয়েছেন। যাকে সাহায্য করার জন্য অফিসে ২ঘণ্টার স্যালারি কাটা গেছে সে বলবে আপনি খালি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তখন আপনি না পারবেন নিজের পাপমোচন করতে, না পারবেন পেছনে গিয়ে নিজের এফোর্ট উইথড্র করতে। নিজেও কষ্ট করলেন, আরেকজনের থেকেও কষ্ট পেলেন। এর চেয়ে ওই সময়টুকু পড়াশোনায় দিলে, নিজের কাজে বিনিয়োগ করলেই উপকার পেতেন।

মানুষের সীমাহীন প্রত্যাশা পূরণের চেয়ে নিজের স্বপ্নের পিছু ধাওয়া নিরাপদ। তাই বলে কি কাওকে সাহায্য করবেন না? কারো পাশে দাঁড়াবেন না? কাওকে ভালবাসবেন না? অবশ্যই করবেন, পাশে দাঁড়াবেন, ভালবাসবেন। কিন্তু দেয়ালটা তুলে রাখবেন। আগে নিজের সুবিধা, নিজের আরাম, নিজের সামর্থ্য, নিজের ভালোটুকুর যত্ন নিয়ে তারপর। তারপর স্বীকৃতির ধার না ধেরে, ন্যূনতম সম্মান পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে মানুষের কাছে যাবেন। তাতে করে উপেক্ষার যন্ত্রণার চেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তির আনন্দটুকু রয়ে যাবে। মানুষের মতো ক্রিটিক্যাল, অকৃতজ্ঞ প্রাণীদের গা ঘেঁষে বাঁচতে হলে এই ধরণের ডিফেন্স মেকানিজমের বিকল্প নেই। এটা আমার মতো দুর্বল অন্তরের মানুষদের জন্য ঘরোয়া টোটকা। জীবনপাঠ। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত