প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভাসানচরের ৯০০ একর ভূমি ব্যবহারে নীতিমালার সুপারিশ

নিউজ ডেস্ক: ভাসানচরে বাঁধ দিয়ে তার মধ্যে মিয়ানমার থেকে আসা উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এ বাঁধ এলাকার মধ্যে অব্যবহূত জমির পরিমাণ প্রায় ৯০০ একর। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় অব্যবহূত এ ভূমি ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

‘নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নস্থ ভাসানচরে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় এ সুপারিশ করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

সভার কার্যপত্রের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচরে বাঁধ এলাকার মধ্যে জমির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭০২ একর। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রায় ৪৩২ একরে। নৌবাহিনীর জন্য নির্ধারিত রয়েছে প্রায় ৩৫২ একর। বাকি প্রায় ৯০০ একর জমি অব্যহূত।

বৈঠকের কার্যপত্র সূত্রে জানা গিয়েছে, সভা চলাকালে প্রকল্পটির পরিচালক জানান, ভাসানচরে ভবিষ্যতে আরো রোহিঙ্গাকে নেয়া হবে কিনা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা তা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে বাঁধের মধ্যকার জমি বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে। এসব সংস্থার মধ্যে পুলিশ ও কোস্টগার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও রয়েছে। তাই এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক গাইডলাইন বা নীতিমালা প্রয়োজন।

এ সময় সভার সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস জানান, ভাসানচর এলাকাটি সরকারি খাস জমি। এ জমি বরাদ্দের বিষয়টি পিএসসি সভার অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়া সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সভায় সুপারিশ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য একটি কারিগরি উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন ওই প্রকল্পের পিএসসিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি সচিব মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ বলেন, আমরা এখনো এ ধরনের সুপারিশ হাতে পাইনি। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে ঈদের পর বিষয়টি নিয়ে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, চলমান করোনা মহামারীর কারণে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত ডিপিপির ভিত্তিতে ৯ থেকে ১৯ ফুট বাঁধের উচ্চতা সম্প্রসারণের কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। একই কারণে মেরিন জেটি, জাতিসংঘ ও আরআরআরসি (শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার) ভবনের কাজ প্রকল্পের বর্তমান মেয়াদে (আগামী নভেম্বর পর্যন্ত) সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। তাই প্রকল্পের ব্যয় ব্যতিরেকে মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে সভায় উপস্থিত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের মে পর্যন্ত না বাড়িয়ে অর্থবছরের সমাপ্তি ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা যেতে পারে। সভায় উপস্থিত সব সদস্য একমত পোষণ করায় এ প্রস্তাবও সুপারিশ হিসেবে গৃহীত হয়।

প্রকল্প পরিচালক সভায় আরো বলেন, ভাসানচরে ১২০টি ক্লাস্টার হাউজের প্রতিটি ক্লাস্টারের ১২টি ঘরে ৭৬৮ জন এবং ১২০টি শেল্টারের প্রতিটিতে ৯২ জন করে রাখার পরিকল্পনা অনুযায়ী এ প্রকল্পের অধীন মোট ১ লাখ ৩ হাজার রোহিঙ্গার সংস্থান হবে। তবে বংশবৃদ্ধির হার ও প্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে-পরবর্তী নতুন পরিবার গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গার সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে ৮০-৯০ হাজার করা যেতে পারে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস সভাকে জানান, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর-সংক্রান্ত নীতিমালা গ্রহণের বিষয়টি আলোচ্য প্রকল্পের আওতাধীন নয়।

এছাড়া সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ভাসানচরে ১৪ হাজার ৬৬ জন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এনজিও কর্মরত রয়েছে ৪৩টি। এছাড়া বাংলাদেশ রুরাল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিআরডিবি), বাঁশ বেত ফাউন্ডেশনসহ কারিতাস ও অন্যান্য সংস্থা কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ছোট পরিসরে জীবিকাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করলে তাদের বিভিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত হবে ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ জন। এজন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বাড়াতে হবে। – বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত