প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদ মুহিউদ্দিন: ঈদ আর বন্ধুবান্ধবের ঝগড়া আখ্যান

খালেদ মুহিউদ্দিন: কৈশোরে তারুণ্যে ঈদের আগে এরকম দারুণ এক সপ্তাহ আসতো। কিশোর বা তরুণ বয়সের কথা বলছি বটে আমরা বড় হয়েও মানে বিয়ে শাদি করে বাপ চাচা হয়েও আমরা দারুণ সব ঈদ পেয়েছি। মানে ৩০-৩৫ বছর ধরেই। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কারো না কারো দখলে এরকম একটা বাসা আসতো যে বাসার সবাই ঈদ করতে বাড়ি চলে গেছে। আমরা সবাই চাকরি করি তখন। কিন্তু অফিস শেষ হলেই দৌড়ে সে বাসায়।

ঘরের লোকজন খুব আপত্তি করতো না, কারণ ঘরে তখন পুরোদমে ঈদের প্রস্তুতি চলছে, সব ধোয়া মোছা সব কোটা বাছা, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা ইত্যাদি। আমাদের যে বন্ধুরা ঢাকার বাইরে থাকে তারা দুই চারদিন ছুটি নিয়ে আসতে শুরু করেছে। আমাদের ছুটি শুরু ঈদের আগের দিন। অল্প কয়েকজন ছাড়া সবাই রোজা বলে দিনের বেলায় খাওয়া দেওয়ার খুব পাট নেই। বিছানা বালিশে দলা পাকিয়ে আড্ডা ঝগড়া আর টোয়েন্টি নাইন। আমরা ঝগড়া করতামও। উফ গলা ফুলিয়ে চিৎকার করে সবাই সবার সঙ্গে ঝগড়া আর মারামারি।

হেন বিষয় নেই যা নিয়ে আমাদের মধ্যে ঝগড়া লাগতো না, আমরা নিষ্ঠুর আর হিংস্র হয়ে একজন আরেকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তাম। ঘর সংসার শুরু করার পর আমাদের বউ-বাচ্চারাও খুব অবাক হতো। বন্ধুত্ব মানে কী সারাক্ষণ এরকম গলাবাজি করা? ঈদ বা বড় কোনো খুশির দিনে সবাই একসঙ্গে হলে আমরা কার্ড খেলার ফাঁকে স্রেফ ঝগড়াই করতাম। আমি অনেক ভেবে দেখলাম দেশের বাইরে এসে সেইসব ঝগড়াই মিস করি শুধু। ফোনে কথা বলে সেই আমেজ পাওয়া যায় না কারণ আমাদের কথা বলার আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ ছিলো হাত আর পা। লাথি থাপ্পড় আর ঘুষি দিয়ে দৌড়ে পালান ছাড়া আড্ডা দিতে শিখিনি যে! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত