প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চীনের নভোযানের ধ্বংসাবশেষ পতনের শঙ্কা জানিয়েছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, সতর্ক অবস্থানে ইতালি

আখিরুজ্জামান সোহান: [২] পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে চীনের বৃহত্তম নভোযান লংমার্চ ফাইভ বির ধ্বংসাবশেষ, ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চল সম্পর্কে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সিএনএন

[৩] বিবৃতিতে বলা হয়েছে পৃথিবী পৃষ্ঠের ৪১.৫ এন থেকে ৪১.৫ এস অক্ষাংশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যেকোন অঞ্চলে ভূপাতিত হতে যাচ্ছে নভোযানটি। যার মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের দক্ষিণাংশ, গোটা আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়াসহ এশিয়ার দক্ষিণ জাপান এবং ইউরোপের স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি এবং গ্রিস।

[৪] ইতালির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা শঙ্কা জানিয়েছেন, সেটি ইতালির জনবহুল কোনো এলাকায় আঘাত হানতে পারে।

[৫] এদিকে ইতোমধ্যে ইতালির উমব্রিয়া, লাজিও, আবরুজ্জো, মোলিসে, ক্যাম্পানিয়া, ব্যাসিলিকাটা, পুগলিয়া, কালাব্রিয়া, সিসিলি ও সার্ডিনিয়া— এই দশ অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী রোববার (৯ মে) স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে এই দশ অঞ্চলের যে কোনো একটিতে আছড়ে পড়তে পারে ধ্বংসাবশেষটি।

[৬] চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিকর্ষ শক্তির টানে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা ওই ধ্বংসাবশেষটি আসলে লংমার্চ ফাইভ বির ১০০ ফুট লম্বা একটি অভ্যন্তরীণ অংশ, যার ওজন প্রায় এক টন।

[৭] পৃথিবীর কক্ষপথে নিজেদের মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে চীন। সেই মহাকাশ স্টেশনের নামও ইতোমধ্যে ঠিক করা হয়েছে- তিয়ানহে মহাকাশ স্টেশন। সেই মহাকাশ স্টেশনের একটি মডিউল (অংশ) পরীক্ষামূলকভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করতে গত ২৮ এপ্রিল ওয়েনচ্যাং স্পেস সেন্টার থেকে ‘লংমার্চ ৫ বি’ নভোযানটি উৎক্ষেপণ করেছিল চীনের মহাকাশ সংস্থা।

[৮] আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম স্পেসনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নভোযানটি সফলভাবে মহাকাশ গবেষণা স্টেশনের মডিউলটিকে স্থাপনে সক্ষম হলেও নিজেকে আর গ্রাউন্ড স্টেশনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি; ঘুরে চলেছে পৃথিবীর কক্ষপথে।

[৯] তবে সেটির অভ্যন্তরের একটি অংশ মূল নভোযান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দিন কয়েকের মধ্যেই পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ঢুকে পড়তে চলেছে। রাডারে তা ধরাও পড়েছে।

[১০] বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নভোযানের ধ্বংসাবশেষটি এখন পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে এবং এটি বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে ঢুকছে। যার মানে হল, এটি পৃথিবীর চারিদিকে বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে নেমে আসছে।

[১১] প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আরো বলা হয়েছে, ধ্বংসাবশেষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে সেটিকে গোলা ছুড়ে নিচে নামিয়ে আনার কোন পরিকল্পনা আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

[১২] এদিকে, নভোযানটির ধ্বংসাবশেষ জনবহুল অঞ্চলে বিধ্বস্ত হতে পারে বলে গত কয়েকদিন ধরে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে চীনের অন্যতম রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস। দেশটির মহাকাশ বিশেষজ্ঞ সং ঝংপিংয়ের বরাত দিয়ে গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, চীনের স্পেস মনিটরিং নেটওয়ার্ক এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে নজর রাখবে এবং কোথাও কোন ক্ষতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

[১৩] তবে শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াঙ ওয়েনবিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘বিষয়টি উদ্বেগজনক, কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধ্বংসাবশেষটি যে জায়গায় পড়বে, সেখানে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা খুবই কম।’

[১৪] ২০২০ সালের মে মাসে চীনের আর একটি নভোযানে একই ঘটনা ঘটেছিল। সেবার পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টে গ্রামীণ এলাকায় আছড়ে পড়েছিল ওই নভোযানটির ধ্বংসাবশেষ। বাতিল ওই ধ্বংসাবশেষে ৩৯ ফুট দীর্ঘ একটি ধাতব পাইপও ছিল। তবে ওই ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত হননি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত