প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড.কামরুল হাসান মামুন: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রেস্তোরাঁ কেন বানাতে হবে, অনেক কষ্ট করেও বুঝতে পারলাম না

অধ্যাপক ড.কামরুল হাসান মামুন: ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হচ্ছে ৭ রেস্তোরাঁ, কাটা পড়ছে গাছ’-এই উদ্যানের ওপর এতো রাগ কেন? ১টি রেস্তোরাঁ না, ২টি রেস্তোরাঁ না। ৭টি রেস্তোরাঁ কেন? কার মাথা দিয়ে এই গোবর মার্কা চিন্তা এসেছে? এমনিতেই ঢাকা শহরে অক্সিজেন দেওয়ার মতো যথেষ্ট গাছ নেই। এমনিতেই ঢাকা শহরের মোট জায়গার যতো শতাংশ জায়গা খোলামেলা গাছ-গাছালিতে ঘেরা জায়গা থাকা দরকার তার অর্ধেকের অর্ধেকও নেই। আর ঢাকা শহরের জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করলে পুস্তকে যতোটুকু জায়গা গাছ-গাছালিতে ঘেরা থাকার কথা আমাদের তার চেয়ে অনেক বেশি থাকার দরকার। অথচ আমাদের যতোটুকু খোলামেলা গাছ-গাছালিতে ঘেরা জায়গা ছিল সেগুলোকেও হত্যা করে ফেলছি। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই উদ্যানে এমন একটি দিন নাই যেদিন জগিং করি নাই অথবা হাঁটতে যাই নাই। ওখানে যেতাম তার আরো একটা অন্যতম কারণ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রথিতযশা শিক্ষক এবং কবি সাহিত্যিকরাও যেতেন। আমি নিজে যখন ক্যাম্পাসে ছিলাম তখনও প্রায় প্রতিদিন জগিং করতে যেতাম। যদিও ততোদিনে অনেক গাছ কেটে উদ্যানটিকে কংক্রিটের উদ্যান বানানো হয়ে গেছে।

বাকি ক্ষতি যতোটা করা দরকার সেটি এইবার মেট্রোরেল আর রেস্তোরাঁ বানানোর মাধ্যমে হচ্ছে। বিশে^ এমন আরেকটি দেশ পাবেন না যার রাজধানীকে দিনে দিনে নষ্ট করে। সবাই চেষ্টা করে রাজধানীকে কীভাবে আরো নান্দনিক সুন্দর করা যায়। আমাদের কাছে সুন্দর করা মানে ভবন বানানো আর অবকাঠামো নির্মাণ। এতো অসভ্য অশিক্ষিত দেশ এখন খুব কমই আছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রেস্তোরাঁ কেন বানাতে হবে অনেক কষ্ট করেও বুঝতে পারলাম না। এটি কি মেট্রোরেলের প্রজেক্টের একটি পার্ট? এই কাজ যারা করছে সেটি যেমন অন্যায় আবার যারা এই কাজের প্রতিবাদ করছে না সেটি আরো বড় অন্যায়। জনগণ প্রতিবাদ করে না বলেই শাসকরা অন্যায় কাজ করে যেতে পারে। এইদিকে সুন্দরবনে বারবার আগুন লাগছে! বনকে জমি বানানোর কি সহজিয়া তরিকা। আমরা কোনদিন মানুষ হব না। লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বাধিক পঠিত