প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের করোনার ঝুঁকি বেশি: ডা. আবু রায়হান

শাহীন খন্দকার: [২] শ্যামলী টিবি হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ডা. আবু রায়হান আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রায় দেড় বছর ধরে করোনাভাইরাসের মহামারি চলছে। এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৫ কোটির বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং বুধবার পর্যন্ত ৩২ লাখ ৫৭,৬০৩ জন মানুষ এই ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন।

[৩] তিনি বলেন, করোনা রোগীদের অধিকাংশের মধ্যেই ফুসফুস ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারা করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের বড় একটি অংশের ফুসফুসে তীব্র সংক্রমণ হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছে।

[৪] ডা.রায়হান গবেষণার ফলাফল বুল্লেখ করে বলেন, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ১২ শতাংশ রোগী অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ ধরনের রোগীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক গুণ বেশি। মৃত্যুঝুঁকিও বেশি। সুতরাং অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীরা করোনা আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় বড় বিপদ হতে পারে।

[৫] এদিকে গ্লোবাল ইন ইনিশিয়েটিভ ফর অ্যাজমা (জিনা) তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে করোনাকালে অ্যাজমা রোগীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক বছরে অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীদের ইনহেলার এবং ওষুধ নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে অক্সিজেন থেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

[৬] ডা.রায়হান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্তদের করোনা সংক্রমণজনিত জটিলতার ঝুঁকি অনেক বেশি। তাদের মৃত্যুঝুঁকিও অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। তাই যাদের অ্যাজমা আছে কিংবা জ্বরে আক্রান্ত তাদের করোনা হোক বা না হোক নিজস্ব তত্বাবধানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রয়োজন।

[৭] তিনি আরও বলেন, তাদের বাসাবাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টের রোগী করোনা আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিতে হবে। যেসব হাসপাতালে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা আছে, সেখানে ভর্তি হতে হবে।

[৮] ডা.আবু রায়হান আরও বলেন টেলিহেলথ সেন্টার এর গবেষণায় দেখা গেছে। গত বছরের ১৫ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ৪৫ দিনে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে আগে থেকে ৩৬ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপ, ৩৬ শতাংশ ডায়াবেটিস,অ্যাজমায় ১২ শতাংশ, হৃদরোগজনিত সমস্যায় ৪ শতাংশ, কিডনি সমস্যা ৩ শতাংশ এবং ৯ শতাংশ রোগী অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। আইসিইউতে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিন্ড্রোম (এআরডিএস) আক্রান্ত ছিলেন অনেকে। এ জন্য তাদের আইসিইউ সাপোর্ট দিতে হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আবার অনেককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

[৯] স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমিতদের কতজন কোন রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং মৃতদের কতজন কোন রোগে আক্রান্ত ছিলেন সে সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটি পুরোপুরি সম্পন্ন হলে প্রকাশ করা হবে।

[১০] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি মানুষ অ্যাজমায় ভুগছে। বাংলাদেশে ৭ শতাংশ মানুষ অ্যাজমায় আক্রান্ত। বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের ২০১০ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশে এক কোটি ১০ লাখ মানুষ অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত বলে জানানো হয়।

[১১] জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল সুত্রের এক গবেষণায় জানা যায় যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন, তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর দিচ্ছে না। এ কারণে গবেষণা কাজ করা সম্ভব হয় না। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত