প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনিস আলমগীর: দিদির বিজয়ের নেপথ্যে প্রশান্ত কিশোর অ্যান্ড কোং!

আনিস আলমগীর: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের ৩০ শতাংশ ভোট এবার পুরোটাই তৃণমূল পেয়েছে সে কারণে বাম এবং কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে এমন তত্ত্বও আছে। বাস্তবে মাইনরিটি ভোট পুরোটাই তৃণমূলতো পেয়েছেই ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটারদের যারাই বামফ্রন্ট-কংগ্রেসের সমর্থক ছিল তারাও বিজেপি ঠেকাও প্রশ্নে ‘ভোট নষ্ট’ না করে তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। ‘হিন্দুরা বিপদে, ৭০ শতাংশ ভোটার তোমরা কেন একজোট হয়ে হিন্দুদের উদ্ধার করছো না’- বিজেপির এই পুরনো ভাওতাবাজি এখানে খাটেনি কারণ দেখা যাচ্ছে যেসব এলাকায় মুসলমানের সংখ্যা ৫ শতাংশ সেখানেও বিপুল ভোটে তৃণমূল জিতেছে। ভোট হয়েছে বিজেপি বনাম সব দল। সে কারণে অন্য সব দলের অস্তিত্ব নেই ফলাফলে। ভোট হয়েছে মমতা বনাম মোদি নয়, মমতা বনাম শূন্যতা।

কারণ মমতার বিকল্প রাজ্যে কোনো লিডার ছিলো না বিজেপির যাকে মমতার উচ্চতায় সামনে আনতে পারে। আসলে ভোট কারিগর প্রশান্ত কিশোরের টিম আইপ্যাক এই নির্বাচনকে বাঙালি বনাম বহিরাগত রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে। বাঙালির  যতো গৌরবময় অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রনাথ-বিদ্যাসাগর-নেতাজি-সত্যজিৎ রায় থেকে শুরু করে যতো কৃতিমান বাঙালি রয়েছে গত প্রায় দুই বছর ধরে তাদের জীবিত করার চেষ্টা করেছে। হিন্দুত্ববাদী স্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’ এর বিপরীতে ‘জয় সীতারাম’ প্রতিষ্ঠিত করেছে। নির্বাচন কালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এনেছে। বিজেপি যখন যোগী আদিত্যনাথদের ডেকে মুসলমানদের ভিটেমাটি, দেশছাড়া করার হুমকি দিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের টিম মমতাকে মুসলমানদের একমাত্র রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেছে আবার শুভেন্দু অধিকারী নামের মমতার ডানহাত বিজেপিতে গিয়ে তাকে ‘বেগম মমতা’ বলে কটাক্ষ করলে মমতাকে কালীর পুজারিও বানিয়েছে।

মমতা হিন্দুত্বত্যাগ করেননি প্রমাণ দিতেন জনসভায় নানা মন্ত্র পড়েছেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে  যতোটাই হিন্দুত্ববাদের জোয়ার আনতে চেয়েছে, হিন্দিভাষী বক্তা এনে জনসভা করেছে, রথযাত্রা করেছে, গেরুয়া রংয়ে ঢেকে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে- সবই তাদের বিরুদ্ধেই কাজে লাগিয়েছে আইপ্যাক। মমতার প্রতি সংহতি জানাতে এসেছেন বাংলার সঙ্গে সম্পর্কীত নেতা ও ব্যক্তিত্বরা, যেমন জয়া ভাদুড়ী বচ্চন। আর বিজেপির জন্য এসেছে স্মৃতি ইরানীর মতো হিন্দি সিরিয়ালের এককালের নায়িকা, বর্তমানের বিজেপি নেতা। বিজেপি প্রেসিডেন্ট জগৎ প্রকাশ নাড্ডা, অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথতো পড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পদের কোনো লোক এর আগে একরাজ্যে এতো জনসভা করেনি, নরেন্দ্র মোদি এবার যা করেছেন পশ্চিমবঙ্গে। সব মিলিয়ে মমতার ভোট পরিকল্পকরা এসবকে বাঙালি বনাম বহিরাগত, বাঙালির সংস্কৃতি ধ্বংসকারী উত্তর ভারতের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হিসেবে দেখিয়েছে। এমনকি নরেন্দ্র মোদির ‘দিদি..ওওওও দিদিইই’ ব্যাঙ্গাত্বক বাক্যকে যৌন হয়রানির হিসেবে তুলে ধরেছে। উদাহরণ এসেছে যোগীর ইউপির নারী নির্যাতন চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের নারীদের একজোট করা হয়েছে এবং তারাই ছিল মমতার প্রধান সমর্থক গোষ্ঠী। তার সরকার নারী, শিশু, কিশোরের জন্য অনেক ভালো কাজ করেছে- তারও প্রতিদান দিয়েছে মহিলারা। সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করলে এটা বাংলার মানুষের মমতার প্রতি ভালোবাসা নয়, মোদি এবং তার বিজেপির রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ। অন্যদিকে, একের পর এক নেতারা তৃণমূল ছেড়ে গেছেন। সবাই তাতে তৃণমূল দুর্বল হবে ভেবেছিলেন কিন্তু তাদের দলত্যাগের আসল কারণ প্রশান্ত কুমারের টিম, যেখানে একান্তভাবে সহায়তা করেছে মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি। এই টিমের রিপোর্টের ভিত্তিতে যারা জিততে পারবেন না তাদের তালিকা করা হয়েছিল। নমিনেশন পাবেন না এই পূর্বাভাস জেনেই তারা বিজেপিতে ভিড়েছে। আর বিজেপি আগে থেকে যারা ত্যাগী নেতা তাদের বাদ দিয়ে তৃণমূল থেকে আসা ‘বিরাট নেতাদের’ প্রার্থী করেছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে তারাই সিংহভাগ হেরেছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত