প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিফুল হাসান: ২৬ জন মানুষের প্রাণ চলে গেলো একসঙ্গে, এর দায় কার?

শরিফুল হাসান: ২৬ জন মানুষের প্রাণ চলে গেলো একসঙ্গে। এর দায় কার? আচ্ছা, এই লকডাউনের মধ্যে এতো চোখ এড়িয়ে কীভাবে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে একটা স্পিডবোট চলে? এই উত্তর দেওয়ার জন্য কাউকেই খুঁজে পাবেন না এখন। বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, ইজারাদার কেউ এখন দায় নেবে না। আমার মনে আছে, আরও একযুগে আগে এই স্পিডবোট চলাচল নিয়ে নিউজ করেছিলাম। এ যেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পদ্মায় স্পিডবোটে যাত্রী বহনে কোনো বৈধতা নেই। অধিকাংশ স্পিডবোটের কোনো নিবন্ধন নেই। তারপরেও চলছে। বছরের পর বছর। কিন্তু কেউ দেখে না। শুধু যে দেখে না তাই নয়, মাওয়া (বা শিমুলিয়া)-শিবচর (বাংলাবাজার) রুটে যারা স্পিডবোটে যাতায়াত করেন তাদের মধ্যে এই স্পিডবোট চালক এবং ঘাটে তাদের সহযোগীদের অসভ্যতা, দূর্ব্যবহার এবং গালাগালির সম্মূখীন হননা এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। তাদের একটা আচরনের প্রতিবাদ করলে আপনি সুস্থভাবে বাসায় ফিরতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। মহিলা সাথে থাকলেতো আর কথাই নেই। তাদের এতো শক্তির উৎস কোথায়? টাকার ভাগ কোথায় কোথায় যায়? ভেবে দেখেন, লকডাউন। মাওয়া থেকে শিবচরে লঞ্চ ভাড়া ৩৫ টাকা। লকডাউন চলছে তাই লঞ্চ বন্ধ। কিন্তু ৩০০ টাকায় একেকজন স্পিডবোটে পার হতে পারবেন। একটার পর একটা ছেড়ে যাচ্ছে সবার চোখের সামনে। একজন আরকজেনর উপর গাদাগাদি করে বসছেন। ১০ জন ধারণক্ষমতার একটি বোটে ২০-২৫ জনও উঠে। লাইফজ্যাকেট নেই। কিন্তু এসব কেউ দেখবে না।  আচ্ছা স্পিডবোট চললে লঞ্চ বন্ধ কেন?

আচ্ছা নদী পারাপারের জন্য যদি স্পিডবোট চলতেই হয়, একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে সমস্যা কোথায়? কেন সবার লাইফ জ্যাকেট থাকবে না? কেন ধারণক্ষমতার চেয়ে কম যাত্রী নেবে না? নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে কেন এসব দায়িত্ব দেওয়া হয় না? এসব দেখার দায়িত্ব কার? জানি জবাব মিলবে না। একবার ভাবেন তো ছোট্ট শিশু মীমের কথা। নয় বছরের এই শিশুটি চোখের সামনে তার বাবা, মা ও দুই বোনের লাশ দেখলো। ঘটনার পর মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তার প্রথম প্রশ্ন, আমার মা-বাবা-বোনেরা কোথায়? কী জবাব দেব মেয়েটাকে আমরা? কী জবাব দেব নিহতদের স্বজনদের? আজ তো আমি আপনি যে কেউই মরতে পারতাম। জানি এসব বলে কোন লাভ নেই। তারপরেও বলছি কারণ আজ আমি আপনি যে কেউ মারা যেতে পারতাম। এই যে ২৬ জন মানুষ মারা গেল এর দায় কে নেবে? অবশ্য, ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যস দায়িত্ব শেষ। কমিটি সময় নিয়ে একটা রিপোর্ট দেবে।

কেউ সেগুলো খুলেও দেখবে না। এই রিপোর্টও আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ উল্টোটাও হতে পারতো। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ, ইজারাদার, স্থানীয় জনগন জনপ্রতিনিধি সবাই বসতে পারতো। কী কী করলে এই দুর্ঘটনা বন্ধ হবে সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারতো। সমস্যা সমাধানের জন্য করণীয় ঠিক হতে পারতো। সবাই মিলে কাজ করে এমন দুর্ঘটনা বন্ধ করা যেত। কিন্তু সেই পথে আমরা কখনো হাঁটি না। কারণ এর নাম বাংলাদেশ। এখানে সবকিছুর দাম আছে শুধু মানুষের জীবনের দাম নেই। তাই এখন একটার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটবেই। এখন পরেরটার জন্য অপেক্ষা করেন। তারপর ফের তদন্ত কমিটি। ফের আলোচনা। এই তো বাংলাদেশ। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত