প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সংবাদ মাধ্যম কাজ করে ফরজে কিফায়ার ধারণা মত, ফরজে আইন নয়

নাঈমুল ইসলাম খান: [২] ফরজে আইনের অধীন বিষয়গুলো প্রত্যেক বান্দার ব্যক্তিগত ভাবে অবশ্য পালনীয়। কেউ সেটা অমান্য করলে এই অপরাধের জন্য সাজা নিশ্চিত।

[৩] ফরজে কিফায়ার একটি অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ। কেউ কেউ যখন এই জানাজার নামাজ আদায় করে দেন তখন ঘনিষ্ঠ অন্যদের ফরজের দায়িত্ব পালন হয়ে যায়। অর্থাৎ কেউই যদি জানাজার নামাজ না পড়ত ঘনিষ্ঠ সকলেরই সেই অপরাধে সাজা মেনে নিতে হতো।

[৪] একটি দেশের সকল সংবাদমাধ্যম সব সময় সব খবর সমান গুরুত্ব দিয়ে অবশ্যই প্রকাশ করবেন তেমনটা নানাবিধ কারণে সম্ভব নাও হতে পারে। অনেকগুলো সংবাদমাধ্যম যখন একটি দুর্নীতি, অপরাধের বা অনিয়মের খবর প্রকাশ করে সকল সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে এই ফরজে কিফায়া প্রতিপালিত হয় বলে ধরা যেতে পারে।

[৫] মুনিয়ার আত্মহত্যা এবং সায়েম সোবহান আনভীরের বিষয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকাধীন সংবাদ মাধ্যমগুলো ফরজে কিফায়ার নিয়ম অনুসারের অপরাধের দায়মুক্তি পেতেই পারে।

[৬] আমি মনে করি বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদ মাধ্যমগুলো এ বিষয়ে কোন খবর বা লেখালেখি প্রকাশ না করে ভালোই করেছে। কারণ এই খবরের মধ্যে গ্রুপের মূল মালিক অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর অভিযুক্তের কাঠগড়ায়। তারা কাভারেজ দিতে গেলে হয়তো প্রবলভাবে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করতে হত। তখন সেটাই অপসাংবাদিকতা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কতা থাকত। (যেমন কিছু অপসাংবাদিকতা করেছে সময়ের আলো এবং দেশ রুপান্তর।)

[৭] আমরা অনেক সময় লক্ষ্য করি হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট পর্যায়ে বিচারকরা তাদের সামনে আনীত বিষয় বা ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক বা ঘনিষ্ঠতা থেকে থাকলে ‘স্বার্থের সংঘাত অর্থাৎ কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ এর কারণ দেখিয়ে ওই মামলা বিচারের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেন।

[৮] আমি মনে করি বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়াগুলো এখন উপরে উল্লেখিত সুপ্রতিষ্ঠিত কার্যকারণেই মুনিয়া বিষয়ক কোন খবর ছাপাচ্ছেন না।

[৯] অনেক সমালোচক হয়তো বলবেন, অন্য সংবাদমাধ্যমও যথাযথ গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেনি। এটা অবশ্যই পরিতাপের এবং নিন্দনীয়, তবে এর কারণ বুঝতে হলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের সার্বিক স্বাধীনতা, সক্ষমতা এবং বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনা করে তবেই কোন মতামতে পৌঁছানো উচিত হবে।

[১০] আমরা সবাই জানি ‘রিপোর্টার উইদ আউট বর্ডারস (আরএসএফ) এর ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী পৃথিবীর একশো আশিটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান একশ বায়ান্ন তম।

[১১] একটি ক্লাসে যদি একশো আশি জন শিক্ষার্থী থাকে, তার মধ্যে বাংলাদেশ নামে শিক্ষার্থীর অবস্থান যদি হয় একশো বায়ান্ন তম তখন তার কাছে প্রেস ফ্রিডমের প্রত্যাশা কি হবে সেটা আশা করি যেকোন কমনসেন্স সমৃদ্ধ মানুষ সহজেই অনুমান করতে পারেন। একশ বিরাশিতম স্বীকৃত অধ:স্তনের কাছে আমরা শীর্ষস্থানীয়র পারফমেন্স বা ভূমিকা আশা করা কি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য বা সুবিবেচনা প্রসূত হবে?

[১২] এখন অনেকে বলবেন আমাদের সংবাদমাধ্যমের এই দুরাবস্থা কেন? তো এই দুর অবস্থার কারণ অনুসন্ধান এবং এর বিচার বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের উচ্চতর স্বাধীনতা ও সামর্থের অবস্থানে পৌঁছাতে এদেশের রাজনৈতিক সামাজিক শক্তি বা সুশিল সমাজ এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি সহ সকল ক্ষেত্রেই অনেক মৌলিক পরিবর্তন, উন্নয়নের প্রয়োজন হবে। দেশে দুর্নীতি দমন, সুশাসন ও গণতন্ত্রের সুপ্রতিষ্ঠা ছাড়া কেবল সংবাদমাধ্যমের কাছে শ্রেষ্ঠতম ভূমিকা প্রত্যাশা করা অতি শিশুতোষ প্রত্যাশা হবে নাকি? অনুলেখক: অন্যন্যা আফরিন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত