প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিবাকর বিশ্বাস: যতো দোষ, সাংবাদিক ঘোষ!

দিবাকর বিশ্বাস: নিউজ ফিড গরম। বড় একটা অংশ সাংবাদিকদের একদম ধুয়ে দিচ্ছে ‘মুনিয়ার মৃত্যুর পর সাংবাদিক কেন শিল্পপতির নাম প্রকাশ করলো না? শিল্পপতি কি সাংবাদিকদের ভাসুর হয়? হু? কেউ পারলে আগে সাংবাদিককে গালাগালি করে পরে জানতে চায় আসলে কি হইছে? আই রিপিট আগে গালি দিয়ে পরে জানতে চায় ঘটনা কি? আহা। অন্যকে  গালাগালি করায় যে কী সুখ! এসব মিস করা যায় নাকি? ঘটনা সে পরেও জানা যাবে। কিন্ত সাংবাদিককে গালি দেওয়া কোনোভাবেই মিস করা যাবে না। যে ব্যক্তির সংবাদ, সাংবাদিকতা নিয়ে ধারণা নেই সে ও ফাঁকতলে বিশাল জ্ঞানীর ভান করে দুই চার কথা শুনিয়ে দিচ্ছে ‘বুঝলে দেশের মিডিয়া সব বিক্রি। সাংবাদিকতা কেমন হওয়া উচিত এই ব্যাপারে তিনিও ফাঁকে জ্বলাময়ি স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। তো জনাব, এবার   কয়েকটা সোজা প্রশ্ন করি?

[১] এই যে মুনিয়ার মৃত্যু…এটা আপনি জানলেন কীভাবে? আপনি নিজে গিয়ে তদন্ত করে বের করেছেন, নাকি কোনো সাংবাদিকের করা নিউজ থেকে জেনেছেন? [২] ঘটনার সাথে যে বসুন্ধরার মালিকের গুণধরপুত্র জড়িত শেষ পর্যন্ত এই গ্রুপের নাম বা গ্রুপ মালিকের গুণধর পুত্রর নাম আপনি জানলেন কীভাবে? আপনি বাসা থেকে বের হয়ে সব তদন্ত করে বের করেছেন, নাকি কোনো সাংবাদিকের করা নিউজ থেকে পেয়েছেন? আপনি কোনো সাংবাদিকের করা নিউজ থেকে সব জানলেন, আবার ঢালাওভাবে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত সবাইকে, আই রিপিট সবাইকে গালাগালি করছেন ‘কেন তারা বসুন্ধরা আর গ্রুপের মালিকের গুণধর পুত্রের নাম নিচ্ছে না ব্যাপারটা কি সাংঘর্ষিক নয়? সব সাংবাদিক ধোয়া তুলসির পাতা সেটা বলছি না।

পৃথিবীর যেকোনো পেশার সবাই যেমন ভালো নয়, তেমনি সবাই খারাপও নয়। আপনি যে পেশায় আছেন তার কি সবাই  খারাপ? না। সবাই ভালো? উত্তর না। এখন তাই বলে কি অন্যরা ঢালাওভাবে আপনার পেশার সবাইকে খারাপ বলতে পারে কি? গণমাধ্যম দেশের চতুর্থ স্তম্ভ। এসির বাতাস খেতে খেতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত সবাইকে গালি দেওয়া সহজ। কিন্তু নিউজ করার ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে তা জানেন কি? একটা সময় দেশে প্রচুর অনুসন্ধানী রিপোর্ট হতো, এখন কম হয়। কেন? সাংবাদিকরা মানুষ না, তাই তাদের নিরাপত্তার দরকার নেই। সাংবাদিকরা মরলেও কিচ্ছু এসে যায় না। সাগর-রুনি নেই তাতে কি হইছে? কারো কিছু এসে যায় নাই। কয়েক দিন সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল হইছে, এরপর সব স্বাভাবিক।

শুধু সাগর-রুনির ছেলে মেঘ বড় হচ্ছে বাবা….মা ছাড়া। এতে সাধারণ মানুষের বয়েই গেছে। হার্ডলাইনের নিউজ, স্পর্শকাতর নিউজ করার সময়ও অনেক ব্যাপার মাথায় রাখতে হয়। কারণ ক্ষমতাবান, বিত্তশালীরা সামান্য ভুল পেলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্বয়ং সাংবাদিককেও ফাঁসিয়ে দিতে পারে। এই চিচিংফাঁক তো রয়েই গেছে। হ্যাঁ, বিজ্ঞাপন, কমার্সিয়াল ব্যাপার আছে কিন্ত এর থেকেও বড় ব্যাপার নিরাপত্তা। যাই হোক যে শিল্পপতির নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন  মর্মে তামাম সাংবাদিক সমাজকে যে শূলে চড়ান হলো শেষ পর্যন্ত কি তার নাম বের হয়ে আসে নাই? বসুন্ধরা মালিকের গুণধর পুত্র সায়েম সোবহান আনভীরের নাম কি আপনারা কোন সাংবাদিকের করা নিউজ থেকেই পান নাই? দুনিয়ায় সবচেয়ে সহজ কাজের একটি সাংবাদিককে গালি দেওয়া।

সত্য প্রকাশ করলে সাংবাদিককে গালি, নিউজ কারো বিপক্ষে গেলে সাংবাদিককে দে গালি, প্রকাশিত নিউজের পছন্দ হচ্ছে না সুতরাং সাংবাদিকের সাত পুরুষ উদ্ধার করে, ভুয়া বলে দে গালি। যে মিডয়া হাউজ বিক্রি হয়, যে সাংবাদিক বিক্রি হয় তার সামালোচনা করেন আপত্তি নেই। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য, নির্দিষ্ট কোনো হাউজের জন্য পুরা সাংবাদিক সমাজকে শুলে চড়ান কেন? এর দায়ভার তো নির্দিষ্ট ওই সাংবাদিক বা মিডিয়া হাউজের, ওই দায়ভার সব সাংবাদিক নিতে যাবে কেন? একটা চ্যানেল শিল্পপতির ছবি ঝাপসা করে দিয়ে, মুনিয়ার ছবি প্রকাশ করে নিউজ করেছে…খোজ নিয়ে দেখুন শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সাংবাদিকদের বড় একটি অংশই এর প্রতিবাদ করেছে। আর কোন পেশার মানুষ নিজেদের পেশার মানুষকে নিয়ে সমালোচনা করার এমন কলিজা দেখায়? দেশের বড় একটা অংশ নিউজের কমেন্টে সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ মনে করে গালি দিয়ে অর্গাজম সম সুখ লাভ করার মাধ্যমে জীবনের বড় প্রাপ্তি খোঁজে। সব দোষ, এ যেন সাংবাদিক ঘোষ। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত