প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালকে সেফ হোম করার প্রস্তাব, ল্যাবের তৈরি অক্সিজেন পৌছানো হবে কোভিড রোগীদের বাড়ি

মেহেদী হাসান: [২] হাসপাতালে বেডের অভাব, অক্সিজেনের অভাবে ত্রাহি ত্রাহি রব। এই অবস্থায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিল যাবদপুর বিশ্ববিদ্যালয়। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে রাজ্য যখন বেসামাল তখন মানবিক উদ্যোগ নিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

[৩] এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক উল্লেখ করেছে, ২০২০-র ভয়াবহতা কাটিয়ে ছন্দে ফিরেছিল রাজ্য। কিন্তু, বছর ঘুরতেই ফের ভয়ঙ্কর আকার নিয়ে করোনা মহামারী। কার্যত ধুঁকছে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য অবকাঠামো। আর এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে ফের একবার হাত বাড়াল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সাধারণ মানুষের সমস্যা খানিকটা সমাধান করতে এবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যেই সেফ হোম তৈরির প্রস্তাব রাখলেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ল্যাবের অক্সিজেন সিলিন্ডারও করোনা চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা।

[৪] গত বছর মহামারী পর্বের শুরু থেকেই কখনও স্বল্প দামের মাস্ক, স্যানিটাইজার তৈরি করে আবার কখনও ‘কমিউনিটি কিচেন’ খুলে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা । দ্বিতীয় পর্বের করোনা সংক্রমণ শুরু হতেই আবার মাঠে নেমেছে তারা। গত বছর দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে যাদবপুরের শিক্ষার্থীদের উদ্যেগেই তৈরি হয়েছিল ‘যাদবপুর কমিউন’। সংকটময় পরিস্থিতিতে সেই কমিউনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের ভিতরে সেফ হোমের দাবি জানিয়ে উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

[৫] করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাময়িক ভাবে প্রশাসনিক বিভাগ খোলা থাকলেও অন্য কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে যাদবপুরেও। শিক্ষার্থীদের দাবি, কাজে লাগছে না এমন ক্লাসরুম, অব্যবহৃত ঘরগুলিকে সেফ হোমের জন্য ব্যবহার করুক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই সেফ হোম পরিচালনা করা হোক। ইতিমধ্যেই যাদবপুরের অসংখ্য প্রাক্তনী, যাদবপুর কমিউনের সদস্যরা এমন কিছু অভিজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীদের মতামত নিয়ে সেফ হোমের জন্য খসড়াও তৈরি করে ফেলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্যুইপ বিল্ডিংয়ে আগামী ৫ মের মধ্যে যাবতীয় সুবিধা সহ সেফ হোম, আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ। অন্যদিকে এই দাবির সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত চুক্তি ভিত্তিক কর্মীকে বিনামূল্য মাস্ক, স্যানিটাইজার, গ্লাভস, কিট দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

[৬] একইসঙ্গে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে যাদবপুরের এসএফআই ইউনিট। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরির সমস্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার কোভিড রোগীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাঁদের পক্ষ থেকে। এই উদ্যোগে তাঁরা পাশে পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। সুরঞ্জন দাসের সম্মতি নিয়ে পরীক্ষাগারের সমস্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার কোভিড রোগীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন।

[৭] অন্যদিকে, আপতকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সংস্কৃতি কর্মীরাও। কোথায় অক্সিজেন পাওয়া যাচ্ছে, কোন হাসপাতালে বেড মিলছে, চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতি মুহূর্তে আপডেট করছেন তাঁরা। দেব, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, বিরসা দাশগুপ্তদের পাশাপাশি সেই তালিকায় নাম রয়েছে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রেরও। কোভিড রোগীদের জন্য রান্না করা খাবার কোথায় পাওয়া যাচ্ছে, সেই খবরও দিচ্ছেন তাঁরা। রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত