প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুনামগঞ্জে মে দিবস পালন করেছে ট্রেড ইউনিয়ন

আল-হেলাল: মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে রায়পাড়াস্থ অস্থায়ী কার্য্যালয়ের সম্মুখে গণ জমায়েত ও শনিবার সকাল ১০ টার সময় লাল পতাকা র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সংগঠনের সভাপতি বাদল সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক রত্নাংকুর দাস জহর,কবি ও লেখক ইকবাল কাগজী,যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ আক্তার, সাইফুল আলম ছদরুল, সদস্য আমির উদ্দিন, বারকী শ্রমিক সংঘের সভাপতি নাসির মিয়া, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি লিলু মিয়া,হকার্স শমিক সংঘের সাধারন সম্পাদক তাজুল ইসলাম,সহ সভাপতি শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিনন্দ কর প্রমূখ। বক্তারা বলেন,৮ ঘণ্টা কর্ম দিবসের দাবিতে ১৮৮৬ সালের ১লা মে, শিকাগোর হে মার্কেট চত্ত্বরে প্রায় ৪০ হাজার প্রতিবাদী শ্রমিক, মালিক শ্রেণির বিরুদ্ধে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ আতংকিত করে তুলেছিল ইউরোপ-আমেরিকার শাসক গোষ্ঠীকে।

আন্দোলন ভয়ে ভীত মালিক পক্ষ শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ দিয়ে হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থলে ১১ জন শ্রমিককে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে প্রহসনমূলক বিচার নাটক সাজিয়ে ১৮৮৭ সালের ১১ই নভেম্বর আরও ৬ জন শ্রমিক নেতাকে ফাঁসির কাঁষ্টে ঝুলিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। ৮ ঘণ্টা কাজের দাবীতে সংগঠিত পহেলা মে’র সেই রক্তক্ষয়ী উত্তপ্ত আন্দোলন এখনও শোষিত মানুষের শ্রেণি সংগ্রামের প্রেরণা। সেই মে দিবসের চেতনায় আজও দুনিয়ার দেশে-দেশে শ্রমজীবী মানুষ পুঁজিবাদী শোষন-বঞ্চনা ও শ্রম দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মেহনতি মানুষের বাঁচার এই সংগ্রাম বাংলাদেশও অব্যাহত আছে। মালিক শ্রেণির বেপরোয়া শোষণ- লুন্ঠনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলেছে বাঁশখালীতে, গার্মেন্টসে, বন্ধ পাটকল-চিনিকলে, চা বাগানসহ হকার-রিক্সা শ্রমিক ও ক্ষেত-খামারে। বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক হত্যা আমাদের শিকাগোর হে মার্কেটের হত্যাকান্ডের কথা স্মরন করিয়ে দেয়, তেমনি স্মরন করিতে দেয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক ২৫ মার্চ,৭১ এর কালো রাত্রির গনহত্যার কথা।

পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নির্দেশে সেনাবাহিনী যে ভাবে নিরিহ বাংগালীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গনহত্যা সংগঠিত করেছিল, ঠিক তেমনটি মালিকশ্রেণির স্বার্থরক্ষাকারী আওয়ামী লীগ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনী বিনা উস্কানিতে বাঁশখালী শ্রমিক সমাবেশে গুলি চালিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের হত্যা করেছে। এই নির্মম হত্যাকান্ডের হোতা খুনি এস আলম গ্রুপের মালিক ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই এবং নিহত পরিবারদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিকরণ, শ্রম আইনের কর্ম ঘণ্টা ও ওভারটাইম সম্পর্কিত ধারাসমূহ স্থগিতের প্রজ্ঞাপন জারি ও কর্মরত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ ৪ দফা দাবিতে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলিকে একতাবদ্ধ ভাবে আন্দোলনের জোট গঠন করে শ্রেণিসংগ্রাম ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার যথার্থ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তুলার আহবান জানাই । শ্রমিক, কৃষক, আধা-সর্বহারা ও শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামী ঐক্যের ভিত্তিতে ও একটি দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামের মধ্যদিয়েই সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন বিকশিত হতে পারে । তাই, অতিতের মতো শুধু কিছু প্রতিবাদ, মিটিং- মিছিল করেই যেন শ্রমিকদের এই আন্দোলন শেষ হয়ে না যায়। রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ ও সরকারের পোষ্য বাহিনীর বিরুদ্ধে বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তুলতে , প্রয়োজন শ্রমিক সংগঠনগুলির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামী প্লাটফর্ম ।

বাঁশখালীর শ্রমিক হত্যা ও ঢাকায় মুনিয়া হত্যার বিচার, করোনাকালে জেলা ও উপজেলায় করোনা টেস্ট ল্যাব স্থাপন, শ্রমিক-কৃষক, গরিব, মেহনতি মানুষের খাদ্য, রেশন, নগদ অর্থ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরনসহ শ্রমিক শ্রেণীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের গনতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি সারাদেশে সংগঠিত মালিক শ্রেণির বীভৎস আক্রমণের বিরুদ্ধে শ্রমিক,কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে তীব্র শ্রেণী সংগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত ভাবে বামপন্থী দল ও শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ও সমাজ বদলের আন্দোলন জোরদার করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নাই।

সর্বাধিক পঠিত