প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদেশফেরতদের ছেড়ে দিতে সবার চাপ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে: প্রতিদিন সহস্রাধিক যাত্রী আসছেন বাংলাদেশে

নিউজ ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে বিশ্বের সব দেশেই চলছে জোর প্রচেষ্টা। বাংলাদেশে বিদেশ থেকে কেউ এলে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেছে সরকার। কিন্তু অনেকেই এই নির্দেশনা মানছেন না। বিমান ও সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জন বিদেশ থেকে দেশে আসছেন। কেউ আসছেন বেড়াতে, কেউ আসছেন পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় রিনিউ করাসহ বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে। আবার কেউ আসছেন বিয়েশাদি করতে। দেশে এসে তারা তিন দিনের বেশি কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চাচ্ছেন না। কোয়ারেন্টাইনে না রেখে তাদের ছেড়ে দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওপর চাপও বাড়ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন মহল থেকে এই চাপ দেওয়া হচ্ছে। আবার বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করার জন্যও বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওপর। এদিকে শর্তসাপেক্ষে সরকার দোকানপাট-শপিংমল খুলে দিয়েছে। কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও ছিল, কিন্তু সেটিও কার্যকর হচ্ছে না।

এ কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা করোনার তৃতীয় ঢেউ আসার আশঙ্কা করে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং কোয়ারেন্টাইনে না থাকার কারণে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। চিকিত্সা সেবা দেওয়ার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। পার্শ্ববর্তী ভারতের করুণ অবস্থা দেখে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। ভারতের চিকিত্সা সেবার সক্ষমতা আমাদের চেয়ে ভালো। তার পরও সেখানে বর্তমানে অক্সিজেনের অভাবে অনেকে মারা যাচ্ছে। ভারত থেকে কিংবা বিদেশ থেকে যারা আসবে তাদের মাধ্যমে করোনার নতুন ভ্যারিয়্যান্টের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, করোনা ভারতে ভয়াবহ থাবা বসিয়েছে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ইতিমধ্যে দেশে প্রবেশ করেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট আগেই এসেছে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ইতিমধ্যে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে ব্যাপক হারে ছড়িয়েছে। আমাদের দেশে যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য ভারত বা বিদেশফেরতদের দুই সপ্তাহ বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু তাদের কোয়ারেন্টাইনে না রেখে ছেড়ে দিতে প্রচণ্ড চাপ আছে। এটা কি না জেনে তারা চাপ দিচ্ছেন, নাকি জেনে চাপ দিচ্ছেন? যারা জেনে সরকারকে চাপ দিচ্ছেন তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এটা করছেন। প্রতিদিন তদ্বিরের জ্বালায় আমরা অস্থির থাকছি। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কারণ দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছি। আর তৃতীয় ঢেউ এলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। তারা বলেন, লকডাউনের কারণে করোনা সংক্রমণ এখন কম। তবে এই অবস্থা কতক্ষণ থাকবে তা কেউ বলতে পারে না। সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বিদেশ থেকে যেসব শ্রমিক আসছেন, যাদের নিজস্ব খরচে কোয়ারেন্টাইনে থাকা সম্ভব না, সরকারি খরচে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। এজন্য সরকারকে প্রতি মাসে ২ কোটি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কারণে আমরা করোনার চরম ঝুঁকিতে আছি। তাই সবার সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ভারত কিংবা বিদেশফেরতদের দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে থাকতেই হবে। করোনা থেকে রক্ষা পেতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ কমেছে। তবে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট খুবই ভয়ঙ্কর। তাই বিদেশ থেকে যারা আসবে তাদের দুই সপ্তাহ বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলা এবং কোয়ারেন্টাইনে রাখা না হলে সামনে করোনার ভয়ঙ্কর থাবা আসবে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মানাতে হবে।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ভারতে করোনার যে অবস্থা হয়েছে তা তারা আগে বুঝতে পারেনি। সক্ষমতার ঘাটতিও ছিল। তবে আমাদের এখন সতর্ক হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দোকানপাট ও শপিংমলে বেচাকেনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীলরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। যার যে দায়িত্ব তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বিদেশফেরতদের দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নইলে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

মুগদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, আমরা এমনিতেই ঝুঁকিতে আছি, ভয়ে আছি। ভারতের অবস্থা করুণ। লকডাউনের কারণে আমাদের দেশে সংক্রমণ কমেছে। কিন্তু সামনে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের কাছে লিখিত শর্ত ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে দোকানপাট ও শপিংমল খুলেছে তারা। তবে সেই শর্ত মানা হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত। এতে যে কী অবস্থা হবে তা অনেকে বুঝতে পারছে না। বাচ্চা ফোটার আগেই ডিম ফেটে যাবে। স্বাস্থ্যবিধি মানানোর দায়িত্ব যাদের ওপর, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতার প্রেক্ষিতে তৃতীয় ঢেউ শুরু হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। মানুষ অক্সিজেন পাবে না, চিকিত্সার অভাবে মারা যাবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সবার দায়িত্ব। এটা নিয়ে কারোর রাজনীতি করা উচিত নয়। স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করে সরকারকে দায়ী করলে হবে না। – ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত