প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শামীম আজাদ: করোনা পরবর্তী নিউ নরমাল জীবন

শামীম আজাদ: লকডাউনে সব বন্ধ হলেও জিহ্বা বন্ধ নেই। নেই শরীরের অন্যান্য চাহিদাও। বরং অষ্টপ্রহর ঘরে থেকে তা বেড়ে গেছে। এর জন্য কাজও বেড়েছে। কিন্তু এসব ‘মেয়েলী কাজের’,  জন্য বাইরে থেকে সাহায্যকারী আরেক মেয়েও আসতে পারছেন না। যাদের বাসায় স্থায়ী সহকারী নেই, যেখানে আধুনিক রান্নাঘর নেই, নেই যান্ত্রিক কোনো সহায়তা- সেখানে ঘর মোছা, কাপড় ধোয়া, কুটা-বাছা সবই করছেন মেয়েরা। সারাক্ষণ বাড়িতে থাকার জন্য পারিবারিক সদস্যদেরও খাই খাই বেড়ে গেছে। খাবার পর বা রান্নার পর খালা বাসন হাঁড়ি-পাতিল ধোয়া কিংবা ফ্রিজে খাবার তোলা, মোছা, টয়লেট ও বাথরুম পরিষ্কার তো আছেই। আরও যুক্ত হয়েছে করোনার জন্য বিশেষ সতর্কতা। ধোয়া-মোছার যেন শেষ নেই। তার ওপর করোনা সতর্কতা। এতো বেশি ক্ষার ব্যবহারে অনেকের হাত ও নখের অবস্থা ও শোচনীয়। এ অবস্থা শুধু পূর্ণবয়সী নারী নয়, পরিবারের কিশোরী, তরুণীর ও প্রবীণদেরও একই অবস্থা। বাড়িতে এ্যাবিউজকারী পুরুষ থাকলে করোনার কালে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে। অথচ নারীই করে যাচ্ছেন সব চেয়ে বেশি কাজ।

তা যেকোনো দেশেই হোক। তবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে নারীর কাজ অনেক অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এর অন্যতম একটি কারণ হলো, অল্প সংখ্যক ছাড়া আমাদের অধিকাংশ পুরুষরা ঘরের কাজকে ‘কাজের কাজ’ মনে করেন না। করলেও তা মেয়েলী কাজ বা তা মেয়েদের কাজ বলে গণ্য করেন। আর অফিস ফেরত কর্তা- মেয়েদের কাজের ফিরিস্তি তারা অনুযোগ হিসেবেই নেন। সংবেদনশীল কিছু পুরুষ কিন্তু সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন (যারা সবসময়ই আসেন) বটে কিন্তু মূল এবং অতিরিক্ত কাজ নারীর উপরই এসে পড়েছে। তবে এটা নতুন কিছু না। যুদ্ধে, রোগে, দূর্ভক্ষে নারীই ক্ষতিগ্রস্থ হয় বেশি। পরিবারের পুরুষ সদস্যের অভাবে অর্থনৈতিক চাপটাও তাকে সামলাতে হয়। প্রতিপক্ষ তাদেরই উপর নির্যাতন করে ঝাল মেটায়। যুদ্ধের সময় দেখেছি পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ফিরে এসে বা ভিন্নসূত্রে তাদের আপন নারীদের সে নির্যাতন ও কষ্টের কথা কল্পনায় দেখতে সচেষ্ট হয়ে গ্লানি বোধ করেছেন কিন্তু তার মাত্রা উপলব্ধি করতে চাইলেও পারেন না। কারণ কষ্ট তার দেহ যার।

করোনায় পুরুষ মৃত্যুর হার নারীর চেয়ে বেশি। কেন তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে । কারণ কি? তবে আমার ধারণা পুরুষরা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কম ভাবেন। কম করেন। (তাদেরটা ও সম্ভবত পরিবারের নারীরাই নিশ্চিত করেন। তাদের মাস্ক, তাদের সাবান, বাইরের পোশাক ইত্যাদি ধোয়া)। পুরুষরা সামাজিক দূরত্ব কম মানছেন।

জামাতে নামাজ না পড়লেই হচ্ছে না। সিগারেট খেতে একটু বাইরে যেতেই হয়। আর তার নিমিত্তে একটু আড্ডা হয়েই যায়। দরকারি কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রতিবেশী বা বন্ধুর সাথে একটু বাড়তি গল্প করা ও তাদেরই হয়। এদিকে মেয়েরা নানান রকমের কাজ ও মানসিক চাপ সহ্য করে করে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরুষের চাইতে বাড়িয়ে ফেলেছে। কান্নাকাটি করে, ফোনে সখি সঙ্গে নিজের সব বেদনা শেয়ার করে, টিকে থাকার নতুন ফন্দি ফিকির বের করে, নতুন প্রক্রিয়ায় যুদ্ধ করে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় প্রতিকূল অবস্থাতে মনোবল রাখতে তুলনামূলক ভাবে বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

প্রচণ্ড প্রতিকূলতা জয় করায় মেয়েদের গড় আয়ু বেড়েছে। বাড়ির প্রধান নারী করোনা আক্রান্ত হলে এই প্রথম পুরুষরা অত্যন্ত কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করতে পারছেন সংসারে নারীর কি বিস্তৃত কাজের পরিধি। কি তার অবদান। দেখেছেন অসুস্থ হয়েও সে কীভাবে সেবাদান করে চলেছে। প্রিয়জন বিয়োগে চিৎকার করে কাঁদছে তবু তাকেই গিয়ে রান্না চড়াকোন হচ্ছে। তার শোক করার নেই অবসর। রাতে সে চোখের চলে একাকার হয়ে বিনিদ্র থেকে ভোরে শরীর টেনে টেনে তাকেই উঠতে হচ্ছে সবার আগে। আমি ভাবি পুরুষদের এবার একটা সম্মোক উপলব্ধি হয়তো হবে, কিছুটা বদলে যাবেন তারা। করোনা পরবর্তী নিউ নরমাল জীবনে আমাদের ছেলেরা ভিন্ন হবেন। তাদেরও আয়ু বাড়বে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত