প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিপ্লব পাল: ভারতজুড়ে অক্সিজেন, এম্বুলেন্স, রেমডেজিভিরের কালোবাজারি, সেসব ঠেকাতে সরকারের উদ্যোগ কী?

বিপ্লব পাল: ১৮৯৮। প্লেগের মরক কলকাতায়। সবাই শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। চারিদিকে গুজব। ব্রিটিশ এডমিনিস্ট্রেশন দিশেহারা। এগিয়ে এলেন স্বামী বিবেকানন্দ। কোলকাতাবাসীদের উদ্দেশ্য করে লিখলেন, ‘প্লেগ ম্যানিফেস্টো’। তখন ও বিজ্ঞান জীবানু নিয়ে এতো কিছু জানেনি। স্বামীজি কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেই ম্যানিফেস্টোতে পারসোনাল হাইজিন, পারসোনাল ইমিউনিটি থ্রু বেটার ডায়েট, এক্সাসারসাইজ করে শরীর সবল রাখার কথা বলেছিলেন-যা আজকে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনও বলছে। না, স্বামীজী কতো যুগের থেকে এগিয়েছিলেন, মর্ডান ছিলেন তা প্রমাণ করতে এই লেখা লিখছি না। আমি লিখছি, তার ম্যানিফেস্টোর একটা গুরুত্বপূর্ণ বাক্য নিয়ে যেখানে তিনি লিখলেন, ‘Brother, if there is no one to help you, then send information immediately to the servants of Shri Bhagavan Ramakrishna at Belur Math. There will be no dearth of help that is physically possible. By the grace of the Mother, monetary help will also be possible’ অর্থাৎ কেউ এগিয়ে না আসলেও বেলুড় মঠ এগিয়ে আসবে আপনাকে (প্লেগ আক্রান্ত রোগীকে) বাঁচাতে। এটা এমন একটা সময় যখন প্লেগ আক্রান্ত রোগীকে কেউ ছুঁত না। স্বামীজি ভগিনী নিবেদিতা এবং স্বামী সদানন্দের সহযোগিতায় কোলকাতার সাহসী যুবকদের নিয়ে প্লেগে আক্রান্ত রুগীদের সাহায্য করতে বিশাল ভলিউন্টিয়ার বাহিনী গড়ে তোলেন। তার ম্যানিফেস্টোর দুই নাম্বার পয়েন্টটা ছিলো, প্লেগের রোগীর সেবা করতে গিয়ে, হতেই পারে আমাদের মৃত্যু হলো। কিন্তু সে মৃত্যুকে আমরা ভয় পাবো কেন?

মানুষ মাত্রই ঈশ্বর-তাই ঈশ্বরসেবার জন্য মৃত্যু হলে জানবো তা পরম সৌভাগ্যের। তিনি এসব কিছু করেছিলেন এমন এক সময়ে যখন কলোনিয়াল বৃটিশ সরকার থেকে তারা কিছুই সাহায্য পেতেন না। সব কিছু নিজেদেরই অর্গানাইজ করতে হতো। আমি একটা খুব সাধারণ প্রশ্ন তুলছি। বিজেপি তো সারাক্ষণ বিবেকানন্দ ভজনা করে। দেখে মনে হবে বিজেপির নেতা থেকে ভক্তকূল সবাই বিবেকানন্দে আপ্লুত। আজকে এই সংকটের দিনে তারা কোথায়? যেখানে শিখেরা গুরদ্বোয়ারা খুলে মানুষকে বিনে পয়সায় অক্সিজেন দিচ্ছে বেলুর মঠ, মন্দির খুলে দিয়ে কোভিড হাসপাতাল বানিয়ে দিচ্ছে। সেখানে বিজেপির ভক্তকূল দেখছি শুধুই প্রচারে ব্যস্ত যে তারা করোনা মোকাবেলায় নাকি দুর্দান্ত কাজ করছে। লোকে শুধু দেখছে রাস্তায় বসে লোকে অক্সিজেন নিচ্ছে আর শ্বশানে লাশ পুড়ছে। গোটা ভারতজুড়ে অক্সিজেন, এম্বুলেন্স, রেমডেজিভিরের কালোবাজারি। সেসব ঠেকাতে সরকারের উদ্যোগ কী? বিবেকানন্দের আদর্শ এপিডেমিকে রোগীর সেবায় প্রাণ দেওয়াটাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম, সেই হিন্দু আদর্শের দেশে কী

করে করোনাগ্রস্ত রোগীদের আরো বিপদে ফেলার জন্য কালোবাজারি চলছে অবাধে? বিজেপির নেতা ভক্তরা কী জবাব দেবে? ধর্ম কী রামমন্দিরে রামলীলা না কোভিডের মতো প্যান্ডেমিকে সেবাকার্যে সম্পূর্ণ নিয়োজিত করা? বিবেকানন্দ কিন্ত হিন্দু ধর্ম বলতে দ্বিতীয়টাই বুঝতেন। রোগীর সেবা। আর্তের সেবা। বিবেকানন্দের হিন্দু ধর্ম সেই সেবাধর্ম এবং সেটা তার প্লেগ ম্যানিফেস্টোতে খুব পরিষ্কার। বিবেকানন্দকে ভাঙিয়ে ভোট চাওয়া সহজ। কিন্ত স্বামীজির পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করা? আসল হিন্দু ধর্ম পালন করা? তখন দেখছি শুধু শিখ সম্প্রদায়ের লোকেদের, ভারত সেবাশ্রমের সাধুদের আর রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদেরই দেখা মেলে। নেতাদের পাত্তা পাওয়া যায় না। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত