প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্দিনে স্বস্তি দিচ্ছে টিসিবির পণ্য

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা মহামারির দুর্যোগে আয়-রোজগার কমে যাওয়া ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির উভয় সংকটে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য। আগামীতে টিসিবির আরও সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এবার রমজানে টিসিবির পণ্য বিক্রি বাড়ানো এবং মনিটরিং জোরদার করায় দাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ায় দেশে দুর্যোগের এ সময়ে নিত্যপণ্য সাধারণ মানুষের জন্য যৌক্তিক মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে টিসিবির মাধ্যমে আরও পণ্য বিক্রি বাড়াতে নানা বাড়তি উদ্যোগ নিতে পরিকল্পনা করছে সরকার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন  বলেন, এবার ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা চলছে। দেশে এ পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে রমজানে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর পণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিত্যপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।

ভোজ্যতেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক মাসে ১০৪ শতাংশ বেড়েছে। টিসিবি এ পণ্য মাত্র ২৫ শতাংশ বাড়তি দামে বিক্রি করছে। খুচরা বাজারের চেয়েও ৪০ শতাংশ কম দামে পাচ্ছেন ক্রেতারা। এ ছাড়া খুচরা বাজারের তুলনায় চিনি, মসুর ডাল ও ছোলা ২৮ শতাংশ কম দামে দিচ্ছে টিসিবি। এতে টিসিবির পণ্য কিনে অনেকটা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানান ক্রেতারা।

রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়িতে বৃহস্পতিবার টিসিবির ট্রাকের লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছিলেন রাজাবাজারের বাসিন্দা জিনাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাজারে পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই সময়ে টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে অন্য এক ক্রেতা বলেন, মহামারির দুর্দিনে টিসিবির পণ্য না পেলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। অসময়ে আমাদের ভরসা টিসিবির পণ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম শফিকুজ্জামান  বলেন, এবার বাজারের চাহিদার ১০ শতাংশের বেশি ভোজ্যতেল বিক্রি করেছে টিসিবি। অন্যান্য পণ্যও চাহিদার ৫ থেকে ৭ শতাংশ হবে। টিসিবির পণ্য বিক্রি করায় পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আগামীতে টিসিবির সক্ষমতা বাড়াতে গুদামসহ নানা অবকাঠামো তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান  বলেন, এবার অন্য সব বছরের চেয়ে পণ্য বিক্রি বাড়ানো হয়েছে। গত বছর টিসিবি ২৩ হাজার টন পেঁয়াজ বিক্রি করেছে। এবার ৭৮ হাজার টন বিক্রি করা হয়েছে। গত বছর ২৫ হাজার টন ভোজ্যতেল বিক্রি করা হয়। এবার তা বাড়িয়ে ৩৩ হাজার টন করা হয়েছে। বাজারে দাম বেশি থাকলে চাহিদা অনুযায়ী আরও বিক্রি বাড়ানো হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেভাবে চাহিদা বাড়ছে, তাতে টিসিবির সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। খুব কম সংখ্যক জনবল নিয়ে এবার কার্যক্রম চালাতে হয়েছে। আগামীতে এই কার্যক্রম বাড়াতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আঞ্চলিক কার্যালয় ও জনবল বাড়ানো হবে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান  বলেন, বাংলাদেশে টিসিবি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে এমনটা কেউ আশা করছে না। তবে আপৎকালীন সময়ে সাধারণ মানুষকে নিত্যপণ্যের বাজারে সহায়তা দেবে- এমনটা সবাই চান। এবার করোনাদুর্যোগে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভূমিকা রেখেছে সংস্থাটি। তবে স্বল্প আয়ের মানুষের নিরিখে এ কার্যক্রম ব্যাপক হয়েছে এমন নয়। শহরের মানুষ পেলেও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পায়নি। তিনি বলেন, টিসিবিকে সত্যিকারের বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করতে আরও পরিকল্পিতভাবে এর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাজার চাহিদার অন্তত ২৫ শতাংশ পূরণ করতে হবে টিসিবির বিক্রি বাড়িয়ে। এ ছাড়া গুটিকয়েক পরিশোধন কোম্পানি ভোজ্যতেল ও চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এটি ভাঙতে হলে এ দুটি নিত্যপণ্যের ২৫ শতাংশ উৎপাদন ও পরিশোধন সরকার করতে পারলে ভালো হবে।

গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, সানেমের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে করোনাকালে আরও বেশি মানুষ দরিদ্র হয়েছেন। খোলাবাজারের চেয়ে ন্যায্যমূল্যের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এবার বাজারের এই বাস্তবতার খাতিরে পণ্য বিক্রি বাড়িয়েছে টিসিবি। সংস্থাটির এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, টিসিবিকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। যদিও টিসিবির বাজার অর্থনীতিতে তেমন কার্যক্রম থাকবে না। তবে দরিদ্র মানুষের জন্য কার্যক্রম সারাদেশে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিশেষ করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশে এমন সংস্থা অনেক শক্তিশালী। দেশেও সেভাবে সক্ষমতা বাড়ানো উচিত। এ জন্য আগামী বাজেটে আলাদা বরাদ্দ বাড়িয়ে আলাদাভাবে অর্থের ব্যবস্থা করা উচিত।

টিসিবি সূত্রে জানা যায়, এবার রমজানে সারাদেশে প্রতিদিন ৫০০ ট্রাকে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাকে ১২০০ লিটার তেল, ৬০০ কেজি চিনি, ৩০০ কেজি মসুর ডাল ও ৪০০ কেজি ছোলা এখন বিক্রি করা হচ্ছে। এর আগে পেঁয়াজ ও খেজুর বিক্রি করেছে। গত দুই দিন ধরে এ পণ্য দুটির চাহিদা কম থাকায় বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। বাজারে এ পণ্য দুটির দামও যৌক্তিক পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া এখন পেঁয়াজের মৌসুম চলছে।

রমজান উপলক্ষে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১০০ টাকা ও ৫৫ টাকা দরে চিনি, মসুর ডাল ও ছোলা বিক্রি করছে সংস্থাটি। বর্তমানে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৪০ টাকা লিটার এবং চিনি ৭০ টাকা কেজি। ছোলা ও মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে। এ হিসাবে টিসিবির কার্যক্রমে ভোক্তাদের ভোজ্যতেলে লিটারে ৪০ টাকা ও অন্য পণ্যে ১৫ থেকে ২০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এই পণ্য বিক্রি কার্যক্রম আগামী ৬ মে পর্যন্ত চলবে। এর পরেও বাজারে পণ্যের দাম অস্বাভাবিক থাকলে বিক্রি বাড়াতে পারে। সূত্র: সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত