প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নেপালে বিপর্যয় ঘটাচ্ছে করোনার ভারতীয় ধরন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিমালয়কন্যা নেপালে করোনা সংক্রমণ এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। করোনার ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার কারণে দেশটিতে এখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে নেপালের। কাঠমান্ডুভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৩০ জনের। গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৮৩১ জনের। কয়েকদিন ধরেই দেশটিতে সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত রোববারও দেশটিতে সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩২।

নেপালের এপিডেমিওলজি অ্যান্ড ডিজিজ কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ পাওদেল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি বার্তা সংস্থাকে জানান, দেশটিতে এরই মধ্যে করোনার ব্রিটিশ ধরন এবং ভারতে শনাক্তকৃত হওয়া ডাবল মিউট্যান্ট ধরনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় নেপালে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এরই মধ্যে এ কার্যক্রমের আওতায় ১৯ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। এসব টিকার উৎস ছিল মূলত ভারত ও চীন। বর্তমানে ভারত থেকে বন্ধ থাকায় নেপালের টিকা সরবরাহ কার্যক্রম চালু রাখা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মুহূর্তে যদি নেপাল অন্য কোনো উৎস থেকে টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশটিতে করোনা দুর্যোগ আরো ভয়াবহ রূপ নেবে।

নেপালের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র পাণ্ডে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমকে বলেন, ভাইরাসটি খুব দ্রুত মিউটেট করছে। ভারতে যা শুরু হয়েছিল, তা এখন নেপালেও প্রবেশ করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে হাসপাতালে কোনো নতুন রোগী ভর্তি হওয়ারই সুযোগ পাবে না।

তার এ উদ্বেগ এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠতে শুরু করেছে। পোখারার হাসপাতালগুলোয় ঘুরে ঘুরেও চিকিৎসা পাচ্ছে না কভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীরা। সেখানে এরই মধ্যে আসন সংকট প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।

নেপালে করোনা সংক্রমণের আরেকটি মারাত্মক দিক হলো, সেখানে শিশু ও তরুণদের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বেশি। এর আগে গত বছর করোনার প্রথম সংক্রমণপ্রবাহের সময়ে শিশু ও তরুণদের তেমন একটা সংক্রমিত হতে দেখা যায়নি। তবে এবার ভিন্ন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নেপালে এখন ২০-৪০ বছর বয়সসীমার মধ্যেই সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে ১৯-এর কম বয়সীদের মধ্যেও সংক্রমণের হার এবার অনেক বেশি।

এর কারণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের শেষ দিকে সংক্রমণ কমে আসার পর থেকে নেপাল গোটা বিষয়টিকেই বেশ সহজভাবে নিয়েছে। দেশটিতে সবকিছুই চালু করে দেয়া হয়। মহামারীকালের কোনো ছাপই দেশটিতে দেখা যাচ্ছিল না।

এ বিষয়ে দেশটির শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রিতা হামাল স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সবকিছু খুলে দেয়ার পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোও স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগের বিষয়ে বিন্দুমাত্র মনোযোগ দেয়নি। অন্যদিকে জনগণও বিষয়টি নিয়ে উদাসীন হয়ে পড়ে। ফলে সংক্রমণ এখন শিশুদের কাছেও পৌঁছে গিয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত