প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ: করোনাকালে সন্তানের যত্ন নিন

খান আসাদ: আপনার কিশোর-কিশোরী সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। পিতা মাতার সঠিক ভূমিকার ওপর সন্তানের চরিত্র ও দক্ষতার বিকাশ নির্ভর করে। ব্যক্তির সামাজিকায়নে পরিবারের বা বাবা-মায়ের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সন্তান এই করোনাকালে বেশি সময় দিচ্ছে অনলাইনে। রাত জেগে ইউটিউব দেখছে, সামাজিক মাধ্যমে সময় দিচ্ছে বা ভিডিও গেম খেলছে। এটা খারাপ না, কিন্তু সব কিছুই মাত্রাছাড়া হলে, নেশা হয়ে যায়। সেটা সমস্যা। সে হয়তো মানসিক চাপে আছে, ফলে এই চাপ থেকে মুক্তির জন্য, অনলাইনে থাকছে। অথবা সে অনলাইনে থাকতে ভালো বোধ করছে, সুখের হরমোন কাজ করছে, বেশি সময় অনলাইনে থাকছে। অথবা সে কিছু অনুসন্ধান করছে। অনলাইনে সময় দিচ্ছে। সেজন্য প্যানিক হওয়ার কোনো কারণ নেই।  প্রথম কাজ, আপনার সন্তানের সঙ্গে চিন্তা ভাবনা বিনিময়ের, মন খুলে কথা বলার পরিবেশ বজায় রাখুন। মানসিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখুন। কী পড়ছে, কী দেখছে, কী ভাবছে, কী পছন্দ করছে, কী অপছন্দ করছে, ইত্যাদি শুনুন। প্রশ্ন করুন। প্রশ্নের রেডিমেড উত্তর বা সমাধান না দিয়ে ভাবতে বলুন। মোদ্দা কথা সন্তানের সঙ্গে আলাপ আলোচনার পারিবারিক সংস্কৃতি গড়ে তুলুন।

দ্বিতীয় কাজ, সন্তানকে ব্যক্তি হিসেবে ভালোবাসুন। এটা আবার কী রকম কথা, সন্তানকে ভালোবাসা? হ্যাঁ, ভালোবাসা মানে, অসম্মান না করা, অনুযোগ না করা, ছোট না করা, কথায় কথায় দোষ না ধরা। ভালোবাসা মানে এই না যে পছন্দের খাবার দিলেন আর যা ইচ্ছে তাই করতে দিলেন। তৃতীয় কাজ, সন্তানদের আচার-আচরণের সীমারেখা নির্ধারণ করতে সাহায্য করুন। কোনো ধরনের আচরণ বা চিন্তা গ্রহনযোগ্য ও কোনো ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। কঠোর শাসন যেমন ক্ষতিকর, অবাধ লাগামহীন আচরণ করতে দেয়াও তেমনই ক্ষতিকর। কখন ঘুমাতে যেতে হবে, কখন খেতে হবে, কখন পরিবারের সঙ্গে আড্ডা ও খেলাধুলা করতে হবে, কখন বাবা বা মাকে কাজে সাহায্য করতে হবে, তা স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে বলুন। একসঙ্গে আলাপ, কাজ ও খেলাধূলা করুন।

সন্তানের বেড়ে ওঠার ব্যাপারে, দুশ্চিন্তা বা অবহেলা কোনোটাই করার দরকার নেই। সন্তানকে বোঝানো খুব কঠিন কাজ না। শুধু জানুন তাদের কী ভালো লাগে ও কী পছন্দ নয়। তাদের সঙ্গে কথা বলুন। কথা বলা অব্যাহত রাখুন। বাবা মা হিসেবে সন্তানদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা একটি প্রধান কাজ। শুনে, যে বিষয় আপনার কাছে সমস্যা মনে হয়, সেই সমস্যা নিয়ে কথা বলুন। যদি মনে হয় সরাসরি সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাননা, তাহলে সন্তানদের সাথে তাঁদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে গল্প করুন। তাঁদের জীবন রূপকল্প নিয়ে কথা বলুন। তাঁরা ভবিষ্যতে কি করতে চায়, কি হতে চায়, সেই আলাপ করুন।  এখন অনলাইনেও সফল প্যারেন্টিং নিয়ে অনেক লেখা জোখা পাওয়া যায়। সেগুলো পড়ুন। সন্তানদের মনস্তত্ত্ব বুঝুন ও তাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করুন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত