প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এলপিজির দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা, আজ দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে

ডেস্ক রিপোর্ট: নতুন মূল্যহার ঘোষণার দুই সপ্তাহ না যেতেই দেশে এলপিজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন এ খাতের ব্যবসায়ী অপারেটররা। এ দাবি জানিয়ে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) চিঠি দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। আজ বৃহস্পতিবার এ মূল্যহার সংক্রান্ত ঘোষণা দেবে বিইআরসি।

গত ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির মূল্যহার ঘোষণা করে বিইআরসি। নতুন মূল্যহার ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে দাম বাড়াতে ১৩ এপ্রিলই আবেদন জানায় লোয়াব। এরপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায়েও তারা যোগাযোগ করেন। এ প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার এক অনলাইন বৈঠকে অপারেটরদের আবেদনের যৌক্তিকতা এবং ব্যাখ্যা শুনবে বিইআরসি। এরপর দুপুরে মূল্য সংক্রান্ত নতুন ঘোষণা দেবে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির উপাদান বিউটেন ও প্রোপেনের দাম কমায় দেশে এলপিজির দাম না বেড়ে বরং কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এলপিজি অপারেটরদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিইআরসি দর ঘোষণার সময়ে তাদের অনেকগুলো খাতের খরচকে বিবেচনা আনা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে অপারেটরের ৮৯ টাকা, ডিস্ট্রিবিউশন খরচ ২৫ টাকা। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার লাভ যথাক্রমে ২৪ টাকা ও ২৭ টাকা ধরা হয়েছে যা বাস্তবসম্মত হয়নি। এলপিজি শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের ঘোষিত দর ৯৭৫ টাকার সঙ্গে আরো ২৮৭ টাকা যুক্ত করার দাবি জানানো হয় চিঠিতে।

লোয়াবের দাবি-আবেদনের জবাবে গত ২৫ এপ্রিল এক চিঠিতে বিইআরসি বলে, আপনাদের দাবিকৃত ২৮৭ টাকা যুক্ত করলে ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ২৬২ টাকা। এই মূল্য যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত হবে না মর্মে কমিশন মনে করে। কমিশন বলেছে, মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক অনুসৃত নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এলপিজি বোতলজাত ও মজুতকরণ চার্জ ১৪৩ টাকা (১২ কেজি) নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসাবে কোম্পানি কর্তৃক দাখিলকৃত সর্বশেষ নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদনের (অডিট রিপোর্ট) তথ্যাদি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। মোট ছয়টি খাতে ব্যয় যুক্ত করা হয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং ওভারহেড ব্যয় ২২ টাকা, বিক্রয়, বিতরণ প্রশাসনিক ব্যয় ৪৬ টাকা, অবচয় ৪২ টাকা, ঋণের সুদ ২৩ টাকা, মুনাফা ১৫ টাকা করপোরেট কর পাঁচ টাকা ধরা হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, এপ্রিলে দর ঘোষণার পূর্বে মার্কেট যাচাই করে দেখা গেছে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার ৯৩০ থেকে ৯৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া কমিশন এনবিআর-এর সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিন ধাপের ১৫ শতাংশ মুসক কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। নতুন করে মুজতকরণ ও বোতলজাত পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বিইআরসির এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে অনেক অপারেটর কম দামেই বাজারে এলপিজি বিক্রি করছে। অথচ দর ঘোষণার পর বাড়তি চাওয়াটা বেশ রহস্যজনক। ভ্যাট কমে আসায় নতুন করে বাড়তি সুবিধা পাবেন অপারেটররা।

গত ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপি গ্যাসের দর ঘোষণা করে বিইআরসি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে প্রতি মাসের ভিত্তি মূল্য অর্থাত্ গ্যাসের নিট মূল্য ধরা হয়েছে। আরামকোর কন্ট্রাক্ট প্রাইস (পিসি) দর উঠা-নামা করলে প্রতিমাসে দর সমন্বয় করা হবে। এলপি গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারদর এপ্রিল মাসে আরো কমে গেছে। টন প্রতি প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকা কমে গেছে। এর ফলে আগামী মাসে এলপিজির দাম আরো কমতে পারে বলে জানা গেছে। সূত্র: ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত