প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাহবুব কবির মিলন: তরমুজে রঙ এবং কেমিকেল

মাহবুব কবির মিলন : ফুড সেইফটি অথরিটিতে থাকাকালীন তরমুজে রঙ মেশানোর বিষয়টি নিজেই অনেকবার পরীক্ষা করেছিলাম। আস্ত তরমুজ কেনা হলো। ইসলামপুর থেকে কাপড়ের রঙ এবং অনেকগুলো চিকন সিরিঞ্জ। এবার পরীক্ষার পালা।
প্রথমদিন বিকালে তরমুজে সুই ঢুকাবার পর রঙ আর সিরিঞ্জ থেকে বের হয় না। সুইয়ের মাথার ছিদ্রে তরমুজ ঢুকে পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারপর পথ পরিষ্কার করে এক সিরিঞ্জ রঙ ঢুকিয়ে বাসায় ফিরে গেলাম। সুই ফুটানোর ছিদ্র যাতে তরমুজে বুঝা না যায় সে জন্য তরমুজের ওই জায়গাটা নখ দিয়ে ঘষে সমান করে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন বিজয়ের হাসি হেসে তরমুজ কুরবানি করে দেখি রঙ এক জায়গায় লাল টকটকে হয়ে জমে আছে। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েনি। স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে আলাদা রঙ। একজনে পরামর্শ দিল, স্যার রঙ আরও পাতলা করেন। আনা হলো আবার তরমুজ। পাতলা করে রঙ বহু কসরত করে ঢোকানো হলো। পরেরদিন একই অবস্থা। রঙ একজায়গায় জমে আছে।

এক ইন্সপেক্টর সাহেব বললেন, চিনির সিরার সাথে রঙ মিশিয়ে তরমুজে ইঞ্জেকশন দিতে। আনা হলো চিনি। বানানো হলো সিরা। রঙ মিশিয়ে সিরা সমেত প্রবেশ করালাম। পরদিন কেটে ফলাফল একই। এক জায়গায় জমে থাকে। ছড়িয়ে পড়েনি। এবার আর একজনে পরামর্শ দিলো, স্যার এই কামের ওস্তাদ তো আপনি না। তরমুজ বেচ্ছেইননি কোনোদিন। তাহলে? তরমুজ বেঁচে এইরকম একটারে ধইরা আনেন অফিসে। লোক পাঠানো হল। অফিসের নাম শুনে আর কেউ আসে না। সবাই আল্লাহর নামে কসম করে আর বলে, স্যার আমরা এই কাম কোনদিন করিনি। একটারেও আনতে পারলাম না। পরীক্ষাটাও মনের দুঃখে ক্ষ্যান্ত দিলাম। প্রশ্ন থেকেই গেলো মনে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত