প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নাজাতের মাস মাহে রমজান

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান: রমজান হলো পাপমুক্তির মাস। কল্যাণের মাস। এ মাসে মহান আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ লাভ করাই মানুষের অন্যতম কাজ। প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের একমাত্র চাওয়া এই মাসে নিজেকে পাপের বোঝা থেকে মুক্ত করা। রহমত ও মাগফিরাত শেষে এসেছে নাজাতের সময়। মুক্তির এই দশকে মানুষ নিজেকে মুক্ত করবে পাপ থেকে। গুনাহের প্রতি ঝুঁকবে না। আর গুনাহ করবে না। এটাই নাজাতের দশকের অন্যতম দাবি।

সে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে। জান্নাতের পথে ধাবিত হবে। নেক আমল করবে। পাপের প্রতি তার কোনো আকর্ষণ থাকবে না। সে আগ্রহী হবে নেক কাজ করতে। নাজাতের এই দশক থেকে ব্যক্তি যে শিক্ষা নিলো তাকে ধারণ করেই বছরের বাকিটা সময় কাটিয়ে দেবে। এভাবে উত্তম আমল নিয়ে সে তার সময়টাকে অতিবাহিত করবে। বছরের অন্যান্য সময়টাতে শয়তান ধোঁকা দিতে চাইলে সে তার ফাঁদে পড়বে না। নেক আমল ও দীনের হিকমত দিয়ে সে শয়তানকে পরাভূত করবে। এভাবে এক রমজান থেকে অন্য রমজান পর্যন্ত রমজানের অর্জিত শিক্ষাগুলোকে কাজে লাগিয়ে জীবনকে ছন্দময় করে তুলবে। গতিময় হয়ে উঠবে মুমিনের জীবন। ভালো কাজের মধ্যে সে আনন্দ খুঁজে পাবে। দু-চোখ জুড়ে তার যে মুক্তির স্বপ্ন, জান্নাতের বাসনা, অবশ্যই আল্লাহ তাকে কবুল করবেন। এভাবে কেউ একবার নেক আমলে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে, শয়তান তার ধারে-কাছে এসেও তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। কারণ এই ব্যক্তি মন্দ কাজে সবসময় নিরুৎসাহবোধ করবে।

নফসে আম্মারা কারণে মানুষ ধোঁকায় পড়ে। পাপ কাজ করে। এই অবাধ্য মানবসত্তার কাজই হলো মানুষকে খারাপের দিকে নিয়ে যাওয়া। যে নফস মানুষের মধ্যে বিদ্যমান। এই মন্দ আত্মাকে সক্রিয় হতে দেওয়া যাবে না। আর একে দমিত করার উপায় হলো- বেশি বেশি নেক আমল করা। যখন মানুষ বেশি বেশি নেক আমল করবে এই আত্মাটি মানুষের উপর আর কোনো প্রভাব খাটাতে পারবে না। যে ক্রমশ দুর্বল হয়ে আসবে। সুতরাং এই নফসে আম্মারাকে পরাজিত করতে হলে মন্দের ডাকে সাড়া না দিয়ে কল্যাণের পথে চলতে হবে। ইসলামের অনুশাসন মানতে হবে। আশা করা যায় শয়তান হেরে যাবে।

মানুষ অনেক সময় মন্দ কাজ করার পর সে নিজেই অনুতপ্ত হয়। নিজের ভুল বুঝতে পারে। এর কারণ হলো- মানুষের মাঝে যে নাফসে লাউওয়ামা তথা অনুতপ্ত সত্তা রয়েছে সে জেগে উঠে। যদিও সে নফসে আম্মারা, শয়তানের ধোঁকা বা পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত ও কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মন্দ কাজটি করে ফেলেছে। কিন্তু যখন এর রেশ কেটে যায় সে অনুতপ্ত হয়। নিজেই লজ্জা পায়। নাফসে লাউওয়ামা তাকে বলে যায় হে মানব! তোর ঐ কাজটি করা উচিত হয়নি। তুই অনুতপ্ত হয়ে তাওবা-এস্তেগফার কর। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নে।

নফস জগতে প্রশান্ত আত্মা হলো নফসে মুতমাইন্নাহ। যার আকর্ষণ থাকে নেক কাজের দিকে। সে সবসময় বান্দাকে ভালো কাজের দিকে ডাকে। মানুষের অন্তরে সার্বক্ষণিক এই নফসের প্রভাব ধরে রাখতে হলে তাকে আমলে সালেহ এর দিকে সবসময় রজ্জু থাকতে হবে। চিন্তা ও কর্মে ভালো হতে হবে। একবার নিজেকে এই আদলে গড়ে তুলতে পারলে এর বাইরে গিয়ে মন্দ কাজ করতে তার মোটেই ভালো লাগবে না।

যদিও ভালো-মন্দ নিয়েই মানুষ। তারপরেও মন্দকে ঘৃণা করা একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তার পরম চাওয়াই মহান আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য। আর যে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ করতে পারবে আল্লাহ নিজেই তাকে সম্মানিত করবেন। তার সব ধরণের সুখের ব্যবস্থাও তিনি করবেন। তাই নাজাতের এই দশকে মানুষের উচিত ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে যাবতীয় অন্যায়, অপরাধ ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেওয়া। কেউই জানে না দুনিয়ায় তার হায়াত কতদিন আছে। সুতরাং ভবিষ্যতে নেক আমলের কাজটি ফেলে রাখা যাবে না। প্রতিটি সময়ের হিসাব মানুষকে দিতে হবে। এ ধরণের চিন্তা মানুষের জন্য কখনোই শোভনীয় নয়। তাই মানুষকে মানুষের মতোই আচরণ করতে হবে। নিজের সীমাকে কখনোই ছাড়িয়ে যাওয়া যাবে না। সবসময় ভালোর পথে চলতে হবে । আর একবার ভালোর পথে পা রাখার পর মন্দের দিকে ধাবিত হবার কোনো সুযোগ মানুষের নেই। যদি সে এমনটি করতে চায়, সে তো নিজেকে নিজেই ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিলো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত