প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]জলদস্যু ক্যাপ্টেন হেনরী এভরির অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচনের পথ করে দিলো সপ্তদশ শতাব্দির আরবীয় মুদ্রা

সালেহ্ বিপ্লব: [২] সৌখিন ইতিহাসবিদ জিম বেইলি ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের একটি ফলবাগানে সপ্তদশ শতাব্দির একটি অ্যারাবিয়ান কয়েন খুঁজে পান। ইয়েমেনের এ মুদ্রাতে ১৬৯৩ সাল খোদাই করা ছিলো। স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন

[৩] গুপ্তধন শিকারীরা পরবর্তী কয়েক বছরে ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, কানেক্টিকাট ও উত্তর ক্যারোলিনায় একই সময়ের আরো কয়েকটি মুদ্রা খুঁজে পায়।

[৪] এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওইসব অঞ্চলে আরবীয় ব্যবসায়ীরা কখনোই যায়নি। সুতরাং এসব মুদ্রা কী করে এলো, এটা এখন মূল প্রশ্ন। আর এই নিয়েই গবেষণা করছেন সৌখিন ইতিহাসবিদ জিম বেইলি।

[৫] এই গবেষকের হাতে যে সূত্র আছে, তাতে করে আশা করা হচ্ছে, এসব তথ্যপ্রমাণ ও অনুমান দুয়ে দুয়ে মেলানো গেলে জানা যাবে, ব্রিটিশ জলদস্যু ক্যাপ্টেন হেনরী কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন। আর এসব কথাই তিনি তুলে ধরেছেন আমেরিকান নিউমিসম্যাটিক সোসাইটির জার্নালে।

[৬] এপির উইলিয়াম জে কোল তার রিপোর্টে জানান, জিম বেইলি প্রথম যে কয়েনটি পান, সেটি উত্তর আমেরিকায় পাওয়া প্রাচীন মুদ্রাগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে প্রাচীন।

[৭] গবেষক বেইলি বলছেন, তার শক্ত অনুমান ক্যাপ্টেন হেনরীর জাহাজ নর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ওই অঞ্চলে ভিড়েছিলো। জলদস্যু নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন দাস ব্যবসায়ী হিসেবে।

[৮] কানেক্টিকাটের স্টেট আর্কিওলজিস্ট সারা স্পোর্টম্যান বলেন, মনে হচ্ছে, জলদস্যুর কিছু নাবিক নিউ ইংল্যান্ড এলাকায় স্থায়ী হয়েছে।

[৯] সপ্তদশ শতাব্দিতে সবচেয়ে কুখ্যাত জলদস্যু ছিলেন ক্যাপ্টেন হেনরী এভরি। ১৬৫৩ সালে জন্ম নেয়া এই ব্যক্তি ব্রিটেনের রয়েল নেভীতে কাজ করেছেন। শিকারী হিসেবে কাজ করেছেন জাহাজে। এক সময় দাসবাহী জাহাজে কাজ করতে করতে ১৬৯১ সালে নিজেই জলদস্যু বনে যান।

[১০] ১৬৯৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ভারতবর্ষের সম্রাট আওরঙ্গজেবের ‘গঞ্জ-ই-সাওয়াই’ নামক জাহাজে হামলা করেন। হজ্জ্বযাত্রীদের নিয়ে জাহাজটি মক্কা থেকে ভারত ফিরছিলো। জাহাজে প্রচুর পরিমাণ টাকা পয়সা ও সোনাদানা ছিলো। লুটপাট ও খুনখারাবি করে জাহাজ নিয়ে বাহামা দ্বীপপুঞ্জের দিকে পালিয়ে যান হেনরী ও তার দল।

[১১] সম্রাট আওরঙ্গজেব বিষয়টি সহজভাবে নেননি। ইংরেজ বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জলদস্যু ও তার সহযোগীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালান। হেনরীকে ধরিয়ে দেয়ার জন্যে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।

[১২] হেনরীকে ধরা সম্ভব না হলেও তার ৬ সহযোগীকে ১৬৯৬ সালে আইরিশ উপকূল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতিহাসবিদ জিম বেইলি জানান, প্রমাণাদি থেকে জানা গেছে, সে বছরই হেনরী তার নতুন জাহাজ সী ফ্লাওয়ার নিয়ে রোডস আইল্যান্ডের নিউপোর্টে নোঙর করেছিলো। তথ্যপ্রমাণ ঘেঁটে আরো নিশ্চিত হলেই বলা যাবে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের জাহাজ লুটের পর হেনরী উত্তর আমেরিকায় চলে যান। হয়তো সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। আর সেখানকার ঔপনিবেশিক জনবসতিগুলোই যে জলদস্যুদের ঘাঁটি ছিলো, সেটিও প্রমাণ হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত