প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাজী হানিয়াম মারিয়া: আপনি শুধু চিতার আগুন দেখলেন, কবরগুলো দেখলেন না!

কাজী হানিয়াম মারিয়া: দিল্লিতে কোভিড সংক্রমণ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিউ ভ্যারিয়েন্ট মারাত্মক ক্ষতিকর। অবস্থা বেশ খারাপ। অনলাইনে বেশ কিছু ভয়ংকর ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাসপাতালের রোগী-ডাক্তারের কান্নার ছবি থেকে চিতার আগুন এবং কবর খোড়ার ছবিও আছে। কী ভয়ংকর। এরমধ্যে আজকে দেখলাম অমানবিক একটি পোস্ট এবং সেই পোস্টটি অসংখ্যবার শেয়ার হয়েছে। সমাজের কিছু মানুষ মনে করছে যে দিল্লীতে গজব পরেছে। কারণ দিল্লিতে মসজিদ ভাঙা হয়েছিলো, মুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছিলো, তারই ফলশ্রুতিতে আল্লাহ্ দিল্লিতে এই আযাব দিয়েছেন এবং পবিত্র কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের কথা আদতে মনের ময়লাকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করতে চাইছে। আফসোসের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে, আপনি কোরআন বুঝে পড়েননি। মুখস্থ করেছেন বা শেষ করার জন্য পড়েছেন, মানুষের কাছে নিজেকে ধার্মিক প্রমাণ করার জন্য পড়েছেন। কোরআন আপনার মনের অন্ধকার একটুও দূর করতে পারেনি, আপনার অন্তরে কোরআনের বাণী পৌঁছাতেই পারেনি। নবী লূত (আ.) এর সময় যখন আযাব এসেছিলো, আল্লাহর নির্দেশে সব আল্লাহর বান্দাদের নৌকায় নেওয়া হয়েছিলো কিন্তু তার সহধর্মিনীকে নেওয়া হয়নি। আবার নূহ (আ.) এর সময়  একজনের জন্য সুপারিশ করেছিলেন। কারণ তিনি তাকে মুমিন জানতেন। তাকেও নেওয়া হয়নি শুধু মুনাফিক বলে। এসব থেকে বর্ণনা থেকে আপনি আপনার মতো বুঝে নিয়েছেন যে আজাব শুধু অমুসলিমদের ওপর আসবে। কিন্তু বুঝতে চাননি যে আল্লাহ্ তার মুমিন বান্দাদের প্রতি কতোটুকু সদয় ছিলেন। একজন মুমিন বান্দাও যেন আজাবে না পরে সেটাও নিশ্চিত করেছেন।

দিল্লিতে কি শুধু অমুসলিমরা থাকে? হিন্দু অধ্যুষিত দিল্লিতে প্রায় ৭ শতাংশের মতো মুসলিম জনগোষ্ঠীও কি আল্লাহর আজাব সইছে? আপনি শুধু চিতার আগুন দেখলেন, কবরগুলো দেখলেন না! অমুসলিম বিপদে পরলে আল্লাহর গজব নেমেছে, আর মুসলিম বিপদে পরলে আল্লাহ ঈমান পরীক্ষা করছেন এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে মনের মধ্যে মানুষের প্রতি একটু ভালোবাসা বা সহমর্মিতা বাড়ানো যায় না? আদতে আসল মুসলিম কখনোই অন্যের বিপর্যয়ে খুশি হয় না। প্রথমবার ব্যাংলোর গিয়ে একজন দিল্লিবাসীর সঙ্গে পরিচয় হলো। পুরো ব্যাংলোর সে আমাদের কয়েকজনকে ঘুরে দেখালো। পরেরবার যখন ব্যাংলোর গেলাম সে সেই দিল্লি থেকে চলে আসলো দেখা করার জন্য। দিল্লি টু ব্যাংলোর অনেক পথ। আমি তো কখনোই চাইবো না আমার এই ভাই আল্লাহর গজবে পরুক। প্রতিবেশী দেশের এই বিপর্যয়ে এতো খুশি না হয়ে সাবধান হওয়ার পাশাপাশি আতঙ্কিত হন। কারণ তাদের যদি অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতি হয়, তাহলে আমরাও এই ঘাটতিতে পরবো। আমাদের অক্সিজেন সিলিন্ডার তাদের থেকেই বেশি আমদানি হয়। গজবটা না ভাসতে ভাসতে আপনার মতো মুমিনদের ওপর এসে পরে। এসব না লিখতে ভালো লাগে না। বেশ কজন ভারতীয় মানুষ আমার বন্ধু লিস্টে আছেন। যারা বাংলা পড়ে তাদের কথা নাই বা বললাম, অবাঙালি কয়েকজনও ট্রান্সলেট করে এসব পড়ে ফেলেন। তখন খুবই কষ্ট হয়। প্লিজ, মুসলিম হওয়ার আগে মানবিক হোন। যে কঠিন সময় আমরা অতিক্রম করছি, এখন আমাদের মানবিকবোধ থাকাটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। একটি বছরের বেশি সময় হয়ে গেলো এই অবস্থা। আমরা মানবিক তো দূরের কথা, সচেতনও হইনি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত