প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফরিদ আহমেদ: কোন ভিত্তিতে লকডাউনকে শিথিল করা হলো?

ফরিদ আহমেদ: বাংলাদেশে লকডাউন, কঠোর লকডাউন, শিথিল লকডাউন, এই সিদ্ধান্তগুলো যারা নেয়, তারা ঠিক কোন বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে তার ব্যাখ্যা কখনোই দেয় না। এই যেমন গত চৌদ্দ তারিখ থেকে কঠোর লকডাউন করা হলো। রাস্তায় পুলিশ নেমে এর আইডি কার্ড চেক করে, ওকে ধরে, তাকে মারে, মুভমেন্ট পাস ছাড়া কাউকে রাস্তায় দেখতে চায় না, গরিব রিকশাওয়ালাদের রিকশা উল্টে ফেলে। ভাব দেখে মনে হলো ভয়ানক এবং ভীতিকর এক সময় পার করছে বাংলাদেশ। এগুলো না করলে করোনাকে আর থামানো যাবে না। মাত্র দশদিন পরে সেই অবস্থা আর নেই। এখন লকডাউনকে শিথিল করা হয়েছে। বলা হয়েছে, শপিং মল খোলা থাকবে, লোকজন আনন্দ-ফুর্তির সঙ্গে ঈদের কাপড়-চোপড় কিনতে পারবে। শপিং মলেতো আর মানুষ হেঁটে হেঁটে যাবে না। এর জন্য গণ-পরিবহণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে, রিকশা-সিএনজিকে রাস্তায় নামতে দিতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, মাত্র দশদিনে করোনা পরিস্থিতির কী এমন উন্নতি ঘটলো যে মারমার-কাটকাট কঠোর লকডাউন থেকে আনন্দ-উল্লাসের শিথিল লকডাউনে পরিণত হলো তা।

আমাদের আক্রান্তের সংখ্যা কি কমেছে? প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা কি কমেছে? যদি না কমে থাকে, তবে কোন ভিত্তিতে লকডাউনকে শিথিল করা হলো? কোন ভিত্তিতেই বা কঠোর লকডাউনে যাওয়া হয়েছিলো? একটা রাষ্ট্র কিছু মানুষের খেয়াল-খুশির সিদ্ধান্তে চলছে। রাষ্ট্রীয় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে যে তার পেছনে ব্যাক-আপ ডাটা থাকতে হয়, সেই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য কী, উদ্দেশ্য পূরণ হলো কিনা, সেগুলো মাপার ব্যবস্থা থাকতে হয়, এই বিষয়গুলো পুরোপুরি অনুপস্থিত বাংলাদেশে। যখন ইচ্ছা, যা ইচ্ছা হচ্ছে, তাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কিছু মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে। সেই সিদ্ধান্তের ফলে কী হচ্ছে বা হচ্ছে না, সেগুলো দেখার দায়িত্ব তাদের নেই, কোনো একাউন্টিবিলিটিও নেই। এখন ঈদের আগে জামাই আদর করে শপিং এ পাঠাচ্ছে যাদের, ইদের পরেই আবার পুলিশ দিয়ে তাদের পিটানো হবে রাস্তায় নামার জন্য। কী অদ্ভুত একটা দেশ, উদ্ভট উটের পিঠে সওয়ার হয়ে চলেছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত