প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যশোরের চৌগাছায় গৃহবধূ আয়েশা খাতুনকে হত্যা,আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তার স্বামী

জাহিদুল কবির: যশোরের চৌগাছা মাঠপাড়ার গৃহবধূ আয়েশা খাতুনকে হত্যা কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছন স্বামী সোহেল রানা। মাকে নিয়ে স্ত্রীর সাথে গোলোযোগ বাধে এক পর্যায় বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে বলে স্বকিার করে। এরআগে রোববার রাতে স্বামী সোহেল রানা ও তার মা বিলকিসকে আটক করে পুলিশ। সোমবার তাদের আদালতে আদালতে সোপর্দ করা হলে হাফেজ সোহলে রানা স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

হাফেজ সোহেল রানা জানিয়েছে, সে পিতা মাতার এক মাত্র সন্তান। এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন তাকে আলাদা হয়ে সংসার করতে বলত। এ নিয়ে আয়েশা তার সাথে প্রায় গোলযোগ করত। কয়েকদিন আগে এ নিয়ে তার মা রাগ করে মামা বাড়ি চলে যায়। সোহলে রানা রোববার মাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে সে বাড়ি আসেনা। রাতে সোহেল বাড়ি ফিরলে স্ত্রীর সাথে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহেল নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে যায়। এ সময় তার স্ত্রী এসে বাধা দিলে সোলের তার গলা চেপে ধরে। আয়েশা খাতুন তার স্বামী সোহেলকে লাথি মেরে খাটের উপর ফেলে দিয়ে নিজে পড়ে যায়। সোহেলের কথার উত্তর না দেয়ায় সে আয়েশার মুখের উপর বালিশ চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। পরে সোহেল তার স্ত্রী আয়েশার শাড়ি ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছে চিৎকার শুরু করে। প্রতিবেশীরা এসে আয়েশার লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ এসে সোলের হোসেনকে তার মামাবাড়ি থেকে আটক করে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, যশোর সদরের দিয়াপাড়া গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের মেয়ে আয়েশা খাতুনকে এক বছর আগে হাফেজ হোসেন রানার সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সোহেল রানা ও পরিবারের লোকজন সাংসারিক কাজকর্ম নিয়ে প্রায় আয়েশা খাতুনকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করত। রোববার রাতে সোহেল রানা ও তার বাড়ির লোকজন সাংসারিক কাজ নিয়ে বকাবকির একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে সংবাদ পায় আয়েশার পরিবার। এ ব্যাপারে নিহত আয়েশা খাতুনের পিতা ইলিয়াস হোসেন স্বামী-শ্বশুর ও শাসুড়ীকে আসামি করে চৌগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক ( তদন্ত ) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া ঘটনার পরপরই সংবাদ পেয়ে নিহতের স্বামী ও শাশুড়ীকে আটক করেন।

সর্বাধিক পঠিত