প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শ্রীমঙ্গলে করলা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন

মোঃ কাওছার ইকবাল: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নতুন জাতের করলা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার খোয়াজপুর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন লিটন। করলার বাম্পার ফলনে চোখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে রঙিন স্বপ্ন। এখন শুধু বাস্তবে দেখার প্রহর গুণছেন আর ক্ষেতের পরিচর্যা ও ফসল বিক্রয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আলী হোসেন লিটন।

কৃষক লিটন এবার তার ৪০ শতক জমিতে আগাম জাতের হাইব্রিড টিয়া করলা চাষ করেছেন।

বীজ বপণ করেছিলেন ফেব্রুয়ারি মাসে। মার্চ মাসেই গাছে ফুল আসে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফসল তোলা শুরু করেন। প্রথম এক মাসেই প্রায় ১ হাজার কেজি করলা বিক্রি করেছেন। এভাবে একটানা আগস্ট মাস পর্যন্ত তিনি করলা বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাছায় শত শত করলা ঝুলে আছে। একদিকে করলা পাড়া হচ্ছে, অপর দিকে নতুন ফুল দেখা যাচ্ছে। করলার আকারও বেশ বড়।
আনন্দে আত্মহারা হয়ে লিটন বলেন, এমন ফলন হবে তিনি কখনোই ভাবতে পারেননি। ক্ষেত থেকে প্রথম তোলা ৭৬ কেজি করলা বিক্রি করেছেন ৫০ টাকা কেজি দরে। দ্বিতীয় ধাপে ২৫০ কেজি করলা বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা, তৃতীয় ধাপে ১৭৪ কেজি করলা ৩৪ টাকা দরে। পরবর্তীতে একাধারে বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করা করলার সর্বনিম্ন দর ছিল ৩০ টাকা কেজি দরে।

করলা চাষে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে মোট ২৫ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত এ খরচ দাড়াবে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকার করলা।

আগস্ট মাস পর্যন্ত সব মিলিয়ে তিনি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার করলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, এভাবে অন্যান্য সব্জি চাষে ভাল ফলন হলে কোন কৃষকের আর দুঃখ থাকবে না। শুধুমাত্র সব্জি চাষ করেই আমরা স্বাবলম্বী হতে পারবো। এলাকার অধিকাংশ কৃষকের সাথে আলাপ করে জানা যায় কৃষি বিভাগের লোককে প্রয়োজনে পাওয়া যায় না। তারা আরো দ্বায়িত্বশীল হলে এলাকার কৃষকরা সব্জি চাষে এগিয়ে আসবে।
বিশেষ করে সব্জির বিভিন্ন রোগবালাই সম্বন্ধে কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি তাদের সমস্যা সমাধানে পাশে দাড়ালে তাদের উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।

জানা যায়, হাইব্রিড টিয়া জাতের করলা শুধু শীতকাল ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। জমিতে পানি নিষ্কাশন সুবিধা আছে এমন এটেল দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি এই করলা চাষে উপযোগী। প্রতি শতাংশ জমিতে ৮ থেকে ১০ গ্রাম বীজ লাগে। বীজ বপনের ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি শতাংশে ফলন হয় ১০০ থেকে ১২০ কেজি। একেকটির ওজন ৭৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর এই করলা খেতে মৃদু তিতা ও সুস্বাদু।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত