প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসিফ আকবর: আমার স্টাডি বলে করোনা ভ্যাকসিন যদি ফ্রি না দিয়ে বিক্রি করা হতো, এতেদিনে  ব্ল্যাক মার্কেট চালু হয়ে যেতো, মানুষও চড়ামূল্যে কেনার জন্য লাইন দিতো!

আসিফ আকবর: কোভিডের ডোজ নিয়ে আর দশজনের মতোই অনীহা ছিলো বেগমের। এজন্য বাধ্য হয়ে আমি একাই রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম নিজের নাম। পরে দেখি বেগমও নিজের নাম এনলিস্টেড করিয়েছে। জিজ্ঞেস করতেই বললো, বিদেশ ভ্রমণের সুবিধার্থে তার করোনার টিকার ডোজ নেওয়া প্রয়োজন। বেগম আবার পর্যটক ইবনে বতুতার বংশধর। তিনি প্রচুর ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। আমরা একসঙ্গে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি আর সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া কোথাও যাই না। ছোটবেলায় আম্মা আর বোনদের নিয়েও ঘুরতে যেতে চাইতাম না, বাধ্য হয়ে যেতে হতো নইলে মার খেতাম। মেয়েদের নিয়ে ঘুরতে আমার কখনোই ভালো লাগে না, আর এই এলো নিনোর প্রেশারটা পরেছে বেগমের ওপর। আমি দেশের বাইরে বা কোথাও সফরে গেলে বেগম তার গ্যাং নিয়ে আরেকদিকে রওনা দেয়। আমরা বাংলাদেশের মানুষ খুব কিউট ন্যাচারের। যেকোনো বিষয়ে কথা উঠলেই পক্ষ-বিপক্ষ দাঁড়িয়ে যায়। সেটা পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মূল প্রতিপাদ্য হয়ে দাঁড়ায়। আর এদেশের মানুষের মাথায় 24X7  দিনই রাজনীতি ঘুরপাক খায়। শাসকদলও মানুষের এই অতিরিক্ত রাজনীতি প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে ইস্যুর পর ইস্যু তৈরি করে জাতিকে কয়দিন পরপর মামু বানায়। ভুলে যাওয়া জাতি চোয়ালের জোর এবং ফেবুর কী-বোর্ডে আঙ্গুল দিয়ে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে যায়। দেশের রাজনীতি তো আছেই, দেশের বাইরে রাজনীতি করে একমাত্র বাংলাদেশিরাই।

পৃথিবীর কোনো জাতির মধ্যে এই ভয়ঙ্কর প্রবণতা নেই। দেশে জাতি হিসেবে আমরা বিভক্ত হয়েই আছি, বিদেশেও এটার প্রভাব আরো ভয়ঙ্কর। একজনের খুব মাথাব্যথা করছে। সঙ্গের জন তাকে কুসুম গরম পানিতে কাঁচামরিচ ভিজিয়ে পানিটা পান করালো, মাথাব্যথা গায়েব। ভুক্তভোগী এমন তড়িৎ সলিউশনে অবাক। কাহিনি জানতে চাইলে পরামর্শদাতা বললেন, এটা একটা মেন্টাল স্যাটিসফেকশনের ব্যাপার। আমি একটু পড়াশোনা করি। কারও কাছ থেকে জানার চেয়ে নিজেই পড়ে জেনে নিই যতোটুকু প্রয়োজন। কোনো প্যান্ডামিকের ভ্যাকসিন দশ থেকে চল্লিশ বছর গবেষণার আগে পারফেক্ট হয় না। তবে একসময় জীবন চলার আপনার কাছে প্রশ্ন আসবেই- আর ইউ ভ্যাকসিনেটেড? এই টিকা হয়ে যাবে আইডি কার্ডের মতো। সরকারের কাজই হচ্ছে সমালোচনায় থাকা। আর এ সরকারের জনপ্রিয়তাও তো সেই ধরনের।  আমার স্টাডি বলে এই ভ্যাকসিন যদি ফ্রি না দিয়ে বিক্রি করা হতো, এতেদিনে ব্ল্যাক মার্কেট চালু হয়ে যেতো, মানুষও চড়ামূল্যে কেনার জন্য লাইন দিতো। সমালোচনাও করুন ভ্যাকসিন ও নিন, এটাতো সায়ানাইড না অন্তত। সিস্টেমই যখন এমন তখন ভাতের সঙ্গে রাগ করে লাভ হবে না। মানসিক প্রশান্তিতে থাকুন, আর নইলে আল্লাহর ওয়াস্তে আলোচনা ভালোচনা বাদ দিন। ভালোবাসা অবিরাম…। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত