প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ কেমন ধর্ম? প্রার্থনার জন্য লাগেনা মূর্তি, লাগেনা মন্দির, লাগেনা ফুল!

ডেস্ক রিপোর্ট : যারা মরক্কোর তাঞ্জির এলাকার ইবনে বতুতার সফরনামা বই পড়েছেন, আপনারা যখন সে বইয়ে ভারত সফরের অধ্যায় পড়েছেন তখন জানতে পেরেছেন আজ থেকে ৬৫০ বছর আগে ভারতের স্থানীয় বাসিন্দারা আরবীয় মুসলিম মুসাফিরদের সাথে কেমন ভাবে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করতো। যেহেতু সে সময় ভারতে মুসলিম সুলতানদের শাসনামল।

সে কারণে স্থানীয় ভারতীয়রা অভারতীয় মুসলিমদের দেখলে তেড়ে মারতে আসতেন না। বরং কোন পথ দিয়ে কোন মুসলিমকে আসতে দেখলে তারা জলদি করে রাস্তা ছেড়ে আইলে বা জমিনে বেশ কিছু দূরে সরে দাড়িয়ে থাকতেন। যখন মুসলিম লোকটা কিছুটা দূরে চলে যেতেন তখন তারা আবার রাস্তায় উঠে গন্তব্যে চলে যেতেন।

যদি কোন মুসলিম মুসাফির তৃষ্ণা ক্ষুধায় কাতর হয়ে ভারতীয় হিন্দুদের বাড়িতে সাহায্য চাইতেন। তখন হিন্দুরা সে ব্যক্তিকে দূরে দাড়িয়ে থাকতে ইশারা করতেন। কলাপাতা কিংবা অন্য গাছের পাতায় খাদ্য দিয়ে সে খাদ্য তাদের ঘর থেকে নিরাপদ দূরে মাটিতে রেখে আসতেন।

এমন তৃষ্ণার্থ ব্যক্তি যখন খাবার শেষে পানি পান করতে চাইতেন তখন মুসলিম ব্যক্তি দুই হাত একত্র করে আঁজলা পেতে রাখতেন, তখন হিন্দু ব্যক্তি গড়া থেকে উঁচু থেকে পানি ঢালতেন। খাবার পর যে পাতা মুসলিম মুসাফিরকে নিজের হাতে করে নিয়ে দূরে ফেলে চলে যেতে হতো।

ইসলাম যখন ভারতে আসে তখন এক নতুন বিপ্লবী জীবন ব্যবস্থা নিয়ে আসে যা তখনকার ভারতের মানুষের কাছে সম্পূর্ণ নতুনত্ব আর অভিনব ছিলো।
হাজার হাজার বছর ধরে জাতপাতের নিষ্পেষণে জর্জরিত ছিলো গোটা ভারত। এর থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য আকুলিবিকুলি করেছিলো জাতপাতের অভিশাপে বন্দী মানুষেরা। কিন্তু কোন পথ তারা পাচ্ছিলো না। এমন এক অন্ধকারময় সময়ে ভারতে ইসলাম নিয়ে আসে এক নতুন বৈপ্লবিক জীবন ব্যবস্থা। জাতপাতের বালাই নেই, আমীর গরিবের ব্যবধান নেই। তারা এক সাথে এক পাতে খায় পান করে, এক সাথে আবার প্রার্থনাও করে। প্রার্থনার জন্য লাগেনা মুর্তি লাগেনা মন্দির লাগেনা ফুল, লাগে না অর্ঘ্য। লাগেনা চাঁদা লাগেনা নজরানা। লাগেনা পুরহিত। যে কোন শ্রেণীর মুসলিম সে প্রার্থনার পৌরহিত্য করতে পারে।
আবার আরব মুসলিমদের সংস্পর্শে যে স্থানীয়রা কাজ করতে গেছে, সে মানবিক মর্যাদা এবং উত্তম পারিশ্রমিক লাভ করেছে। যার ফলে হিন্দুদের দ্বারা নির্যাতিত বৌদ্ধরা দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে যাচ্ছিলো, তাদের দেখাদেখি নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুরাও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা শুরু করে।

তখনই হিন্দু ধর্মগুরুরা প্রমাদগুণতে শুরু করেন, ভয় পেয়ে যান। বাপ দাদার ধর্ম থেকে যদি এভাবে ঝাকে ঝাকে মানুষ মুসলিম হয়ে যায়, তাহলে ভারতে আর হিন্দুধর্মের লোক খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

কাজেই যেমন করে হোক হিন্দুরা যাতে মুসলিমদের কাছে না যায়, না ভিড়তে পারে তার জন্য সাধারণ হিন্দুদের মনে এই ধারণা ঢুকিয়ে দেন যে, মুসলিম জাতির লোকদের স্পর্শ লাগলে বা ছায়া পড়লে তাদের ধর্মনাশ হয়ে যাবে। ধর্মনাশ মহাপাপ!
ঐযে ইবনে বতুতার আমলের সংস্কার তা এখনো অনেক হিন্দুরা পালন করে থাকেন।।

সূত্র- মুনিম সিদ্দিকী

যারা মরক্কোর তাঞ্জির এলাকার ইবনে বতুতার সফরনামা বই পড়েছেন, আপনারা যখন সে বইয়ে ভারত সফরের অধ্যায় পড়েছেন তখন জানতে…

Posted by Munim Siddiqui on Friday, April 23, 2021

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত