প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] য‌শোর অঞ্চ‌লে পা‌নির স্তর নি‌চে নে‌মে যাওয়ায় খাবার পা‌নিসহ গৃহস্থ‌লি পা‌নির তীব্র সংকট দেখা দি‌য়ে‌ছে

র‌হিদুল খান : [২] সুপেয় পানির হাহাকার দেখা দিয়েছে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। তীব্র ক্ষরা আর ভূগর্ভস্থ থেকে অপরিকল্পিত পানি উত্তোলনের ফলে নেমে গেছে পানিস্তর। পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক চাপকলে। কিছু কিছু কলে পানি উঠলেও তা পরিমাণে এত নগন্য যে হ্যান্ডেল চেপে পানি তুলতে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। মাঠগুলোতে ডিপটিউবওয়েলগুলোরও একই অবস্থা। অনেক স্থানে লেয়ার না পাওয়ায় ডিপগুলো অকেজো পড়ে আছে।জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ বলছে অপরিকল্পিতভাবে নলকূপ স্থাপন করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

[৩] তবে পরিবেশবিদরা বলছেন অন্য কথা। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষ প্রকৃতির সাথে অনেকটা যুদ্ধ শুরু করেছে। কারণ প্রায় দেখা যায় কোনো প্রকার চিন্তা না করেই পুকুর, ডোবা, নালা ভরাট, অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পানির লেয়ারে সমন্বয়হীনতা দেখা যায়। যার ফলে একটু শুষ্ক মৌসুম এলেই এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।

[৪] খোঁজ নিয়ে গেছে, শুধু যশোর শহর নয়, বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়েও এ মৌসুমে পানির হাহাকার দেখা দিয়েছে। নলকূপে পাঁচ চাপ দিলেও পানি উঠছে না। অথচ আগে দু’চাপেই পানি পাওয়া যেতো।এ ব্যাপারে বাঘারপাড়া উপ‌জেলায় খোঁজ নি‌য়ে জানা‌গে‌ছে শুক‌নো মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি সংকট দেখা দি‌য়ে‌ছে । এ বছর এখনো পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির স্তর নীচে নেমে গেছে। পানির স্তর এলাকা ভেদে ২০ থেকে ৪০ ফুট নীচে নেমে গেছে।

[৫] বেশি সমস্যা হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের নলকূপগুলোতে। ১০-১২ চাপ দেয়ার পর একটু পানি উঠছে। অন্যদিকে, বাসাবাড়ির পাম্পগুলোতে পাঁচ মিনিটের জায়গায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট লাগছে এক একটি ট্যাংকি পূর্ণ হতে। উপজেলার রায়পুর, বন্দবিলা, নারিকেলবাড়িয়া, দরাজহাট, জামদিয়া, জহুরপুর ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য মিলেছে।

[৬] পৌর এলাকার আট নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রেহমান জেমাম জানিয়েছেন, তাদের বাসার ট্যাংকি ভরতে পাঁচ মিনিটের জায়গায় এখন লাগছে ৪৫ থেকে ৪৭ মিনিট।দরাজহাট ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন বাবলু জানান, তার ইউনিয়নের অনেক টিউবওয়েলে পানি উঠছেনা। অনেকবার চাপার পর একটু একটু করে পানি মিলছে।কেশবপুর থেকে কামরুজ্জামান রাজু জানিয়েছেন,কেশবপুর উপ‌জেলায়ও প্রায় ছয় মাস বৃষ্টির দেখা মেলেনি। ফলে প্রচন্ড খরায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।

[৭] এতে বাড়িতে বসানো সাধারণ নলকূপ থেকে পানি ওঠা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি গভীর নলকূপ থেকে পানি ওঠাতে পর্যাপ্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এছাড়াও গ্রামের অধিকাংশ পুকুরের পানি এখন তলানীতে।পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আস্তে আস্তে নীচে নামচে। গত নভেম্বর মাস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বৃষ্টি হয়নি বলে কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে।

[৮] এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, প্রায় ছয় মাস বৃষ্টি না হওয়ায় ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ত্রিমোহিনী, সাগরদাঁড়ি ও পাঁজিয়া ইউনিয়নে ধান খেতে সেচ দিতে বোরিং এর গোড়ার মাটি খুঁড়ে সেচযন্ত্র নিচে বসাতে হয়েছে। জমিতে পানি দিতে কৃষকের ভোগান্তির পাশাপাশি বেড়েছে সেচ খরচ।

[৯] উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রায়হান আহম্মেদ বাপ্পী বলেন, প্রচন্ড খরার কারণে কেশবপুরে গভীর নলকূপ থেকেও পানি ওঠাতে শক্তি প্রয়োগ করতে হচ্ছে। পানির লেয়ার নীচে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত