প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‘লকডাউন নয় স্বাস্থ্যবিধি মানার দিকে মনোযোগ দিন’

সালেহ্ বিপ্লব: [২] এ পরামর্শ দিয়ে উত্তর আমেরিকার তিন বিশেষজ্ঞ বলেছেন,  কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণে অভ্যস্থ করে তোলার পদক্ষেপ নেয়া  জরুরী।

[৩]কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর এর সঞ্চালনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভে’ আলোচনায় তারা এই মতামত দেন। আলোচনায় তারা কোভিডের পরীক্ষা বাড়ানো এবং যতো দ্রত সম্ভব ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন।

[৪] স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ‘ভ্যাকসিন আর ভ্যারিয়েন্টের প্রতিযোগিতার শেষ কোথায়?’ শীর্ষক এই আলোচনায় অংশ নেন- বোষ্টনের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. রুহুল আবিদ, মন্ট্রিয়লের একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত অণুজীব বিজ্ঞানী ড. শোয়েব সাঈদ, এবং টরন্টো ভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত অণুজীব বিজ্ঞানী নিবেদিতা বিশ্বাস ।

[৫] তাঁরা বলেন, করোনা বিস্তার রোধে লকডাউন কার্যকর ব্যবস্থা। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোয় সেটি দীর্ঘসময় অব্যাহত রাখা যায় উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশে সেটি  বাস্তবসম্মত নয়। ফলে মাস্ক পরা, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা,হাত ধোয়া এই তিনটি বিধিকে জীবনের অনুসঙ্গ করে তোলার জন্য মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেয়া দরকার।

[৬] চলতি বছরে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশি  বংশোদ্ভূত আমেরিকান বিজ্ঞানী ড. রুহুল আবিদ  তাঁর আলোচনায় বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সবকিছু বন্ধ করে দিতে পারাটা কোভিডের সংক্রমণ রোধের জন্য  একটি আদর্শিক ব্যবস্থা। কিন্তু কানাডা আমেরিকা বা পশ্চিমা দেশগুলো যেভাবে কোভিড মোকাবেলা করবে, বাংলাদেশ বা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ সেভাবে তা করতে পারবে না। তাদের  নিজেদের পরিস্থিতি অনুসারে পদক্ষেপ নিতে হবে।

[৭] তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং গার্মেন্টসসহ স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের দ্রুত ভ্যাকসিনের আওতায় আনার তাগিদ দিয়ে বলেন, কোভিডের প্রথম ওয়েভে গার্মেন্টস, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে বড় কোনো বিপর্যয় দেখা দেয়নি। তাদের বয়স এই ক্ষেত্রে ভুমিকা রেখেছে বলে ধারনা করা হয়। কিন্তু  এবারের ভ্যারিয়েন্টটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাজেই এটি কিভাবে প্রতিক্রিয়া ঘটাবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। ফলে আগাম সতর্কতা দরকার। তিনি লক ডাউনের চেয়েও   অপ্রয়োজনীয়  এবং  সৌখিন  সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার  পরামর্শ দেন।

[৮] বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়ান অণুজীব বিজ্ঞানী ড. শোয়েব সাঈদ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করার  পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের লকডাউনের চেয়েও স্বাস্থবিধি মানার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়া দরকার। মাস্ক না পরে কেউ  বের হবে না এটা নিশ্চিত করা গেলেই করোনার সংক্রমণের গতিকে ধীর করে দেয়া যায়। তিনি  জাপানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মানুষ খেলা দেখছে, কিন্তু প্রত্যেকেই মাস্ক পরে আছে। ফলে বিশাল সমাগমেও কোভিড ভাইরাস ছড়াতে পারেনি।

[৯] ড. শোয়েব সাইদ বলেন,লকডাউনে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ দুর্বিপাকে পরে যায়। পেটে ক্ষুধা থাকলে কেউই ঘরে বসে  থাকার আগ্রহ পায় না। কাজেই লকডাউনের দিকে মনোযোগ না দিয়ে  মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে- সেটি কার্যকর  করার ব্যাপারে সরকারের কঠোর হওয়া উচিৎ।

 

[১০]  বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়ান অণুজীব বিজ্ঞানী নিবেদিতা বিশ্বাস বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য স্বাস্থ্য বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করাকেই কোভিড থেকে রেহাই পাওয়ার মোক্ষম দাওয়াই হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত এক বছরে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় লকডাউন দিয়ে সেগুলো যথাযথভাবে কার্যকর করতে পারেনি। তারচেয়ে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে সেগুলো অনুসরনে গুরুত্ব দেয়া গেলে ভিন্ন ফল পাওয়া যেতো বলে আমরা ধারনা করি।

[১১] বিজ্ঞানী নিবেদিতা বিশ্বাস ভ্যাকসিনের ব্যাপারে কোনো ধরনের সংশয়ে না ভোগার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভ্যাকসিন কোভিডের সংক্রমণ এবং  তার কারনে মারাত্মক অসুস্থতা ও  মৃত্যুরোধে কাজ করছে। বিজ্ঞানসম্মত নয় এমন গুজবের কারনে ভ্যাকসিনকে উপেক্ষা করার মানেই হচ্ছে নিজের জীবনকে বিপন্ন করা।

[১২] নতুনদেশ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর  তাঁর আলোচনায় ’জীবন এবং জীবিকার’ বিতর্ক তুলে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে মানুষের মনে অনীহাকে উসকে দেয়া হয়েছে। মহামারীর সময়ে মহামিারী থেকে বাঁচার উপায়  নিয়ে আলোচনাই গুরুত্ব পাওয়া উচিৎ। তিনি বলেন, মানুষকে সচেতন করে তোলার  ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি মিডিয়া এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক উদ্যোগকে সক্রিয় করা দরকার।

[১৩] তিনি ভারতের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে এখনি সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে কোভিডের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা দরকার।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত