প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ: বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের পথ কী?

খান আসাদ : গণতন্ত্র নামে যা চালু আছে, তা দুই চরিত্রের। একটি হচ্ছে ভোটে জেতার প্রতিযোগিতা, শাসক হওয়ার জন্য। নাগরিকের জন্য শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার। আরেকটি হচ্ছে, আসল গণতন্ত্র, জনগণতন্ত্র, সমাজগণতন্ত্র বা সমাজতন্ত্র। জনগণতন্ত্র হচ্ছ, একটি ব্যবস্থা, যা সমাজের সকল নাগরিকের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সমানাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে আপনি কি ‘গণতন্ত্র’ চান? এখানে দুইটা প্রধান রাজনৈতিক অবস্থান আছে, শ্রেণি অবস্থানের ভিত্তিতে, মতাদর্শের ভিন্নতায়। একটি ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পালা বদল। যেটি আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বা পুঁজিবাদী লিবারেল গণতন্ত্র। আরেকটি আছে, সমাজতন্ত্রী সাম্যবাদীদের, জনগণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র। ক্ষমতার পালাবদলের বদলে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। এখন সমাজতন্ত্রী বা সাম্যবাদীদের সামনে একটি ডিলেমা উপস্থিত হয়। আপনি জনগণতন্ত্রের আলাপ তুলে চলমান স্বৈরাচার আড়াল করছেন, বৈধতা দিচ্ছেন? নাকি আপনার নীতিগত অবস্থান, সমাজতন্ত্র আড়ালে রেখে, চলমান স্বৈরাচার বিরোধিতা করে, ক্ষমতার বাইরের অংশকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে আসার কাজ করছেন? দুই দিকেই ঝামেলা আছে।

বাংলাদেশে বামপন্থীরা এই ঝামেলা প্রশ্নে বিভক্ত। দুই দলই চলমান স্বৈরাচার ও আগামী সম্ভাব্য ফ্যাসিবাদ সম্পর্কে সচেতন। আপদ ও বিপদ সম্পর্কে অবহিত। এক্ষেত্রে, একদল বামপন্থী যাচ্ছেন, সমদূরত্বে, আরেক দল যাচ্ছেন, মন্দের ভালোতে। (বাকি যারা অবিরাম প্রতিবাদী তারা শিশুসুলভ বালখিল্যতা করছে)। রাজনীতির ছাত্র হিসেবে যদি বলি, গণতন্ত্রের সংগ্রামে তিনটে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। প্রথমে আপনি কোন শ্রেণির রাজনীতি করতে চান? আপনার মতাদর্শ কী? যদি লিবারেল হন, ভোটের রাজনীতির সংস্কারের কথা বলুন। তবে বাংলাদেশে ভোটের গণতন্ত্র যেভাবে চান, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, এবং নাগরিকেরা অংশ নেবে, সেটা হবে কিনা ভাবুন। আর যদি, একটি জনগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চান, তাহলে তা পরিষ্কার করে বলুন। জনগণতান্ত্রিক সমাজের রূপরেখা বিস্তারিতভাবে জনসমক্ষে আনুন। আপনার নিজের রাজনীতি করুন। তার ফলে, বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে স্বৈরাচার না ফ্যসিবাদ উপকৃত হবে, সেটা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে সমান যুক্তি দেয়া যায়।

দ্বিতীয় আপনার লক্ষ্য যদি ঠিক থাকে, কর্মকৌশল কী হবে? লিবারেলদের জন্য এটা পরিষ্কার, প্রচলিত ভোটের গণতন্ত্র যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য স্বচ্ছ নির্বাচন অর্জনের জন্য জনমত ও শক্তি সমাবেশ করা। আর যদি, জনগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অর্জনের জন্য হয়, তাহলে প্রচলিত ব্যবস্থার প্রতিটি গণবিরোধী পদক্ষেপের বিরোধিতা করা বিশ্লেষণসহ, বিকল্প দিয়ে। যে বিশ্লেষণ আপনাকে শাসক শ্রেণির ক্ষমতার বাইরের অংশ থেকে আলাদা পরিচয় দেবে। আপনাকে কারো লেজুড় করবেনা। তৃতীয়, এলায়েন্স বা জোট কাদের সঙ্গে, কখন, কেন, কী রূপের? এই প্রশ্নের ওপর নির্ভর করবে আপনি রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকছেন কিনা। আপনি নীতি বিসর্জন দিয়ে, আপনার মৌলিক রাজনীতি বিসর্জন দিয়ে জোট (আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক) করছেন কিনা। তবে জোট বা এলায়েন্স না করে গ্যালারিতে বসা যায়, খেলোয়াড় হওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রূপরেখা পাই। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বুঝতে হলে, ১৯৫৪ এর ২১ দফা ও ১৯৬৯ এর ১১ দফা, ভালো করে পড়ুন। বাংলার জনগণ ভোটের গণতন্ত্র এর জন্য সংগ্রাম করেনি। একটি শোষণমুক্ত সাম্যের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সংগ্রাম করেছে। ফেসবুকত থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত