প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাজী হানিয়াম মারিয়া: নিম্ন আয়ের মানুষদের জীবিকা : এই মুহূর্তে মানবিক হওয়াটাই বেশি প্রয়োজন

কাজী হানিয়াম মারিয়া : বরিশালে সাহসী একটা মেয়ে আছে, নাম মনীষা। এই ঘাড়ত্যাড়া সুন্দর মানুষটাকে দেখলেই আমার ভালো লাগে। কেমন গলার রগ উচিয়ে সুন্দর কিন্তু কঠিন ভাষায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে থাকে। পুলিশ যখন রিকশাগুলোকে জব্দ করছিলো, তখন মনীষা এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেছে। তাকে দেখে বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা যিনি এতোক্ষণ অসহায়ভাবে দেখছিলো, তিনিও প্রতিবাদ শুরু করে দিলেন। সাহস আসলেও সংক্রামক। আমি তরুণ নেতাদের মধ্যে এই একজনকে দেখলাম, কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করে, দলবল ছাড়াই ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। আর কোনো কোনো দলের ছাত্রনেতা তো কাউকে একটা কলা দিলেও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা এমন প্রচার করা শুরু করে যে, মনে হয় মাদার তেরেসা/হাতেম তাইয়ের পুনর্জন্ম বুঝি হয়েই গেলো।

একজন রিকশাওয়ালা লকডাউনে রিকশা নিয়ে কেন বের হয়েছে, এই প্রশ্নটা কীভাবে জিজ্ঞেস করতে পারে? হয়তো সবাই আমরা জানি যে নিজের রিকশা না হলে, প্রত্যেক রিকশাওয়ালাকেই দিনশেষে মহাজনকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। তারপর বাকি টাকা দিয়ে চলতে হয়। মাথায় এরকম একটা ডেডলাইন নিয়ে কীভাবে কতো কষ্ট করে চলে তারা। তারপরও রিকশাকে সুন্দর করে গাড়ি বলে। আপনি যখন সেই গাড়ির সামনে লাগানো সস্তা লাইট/হর্ণ বারি দিয়ে ভেঙে দিয়ে সেটাকে উল্টা করে রাখেন তখন আপনি মানবিকতার লেভেল থেকে টুপ করে নিচে পরে যান। যতোই দায়িত্ব পালনের কথা বলুন না কেন, রিকশাটা ভেঙে তাকে আরও কষ্টে ফেলে দিলেন। এমনিতেই ঘরে খাবার নেই, তারপর উপার্জনের উপায়টাও আটকে দিলেন। কোন ব্যারিকেড বা অন্যদিকে পাঠানো যেত না?

রিকশায় যাত্রী বসা থাকা সত্ত্বেও রিকশা থামিয়ে সেটার লাইট ভেঙে দিলো ট্রাফিক পুলিশ। নিউজে দেখলাম একটি প্রাইভেট কারে গাদাগাদি করে মানুষজন বসে বেড়াতে যাচ্ছে। আরেকটা ভিডিওতে দেখলাম পুলিশ অনুযোগ করছেন যে প্রিমিও গাড়িতে চড়ে একজন টিউশন দিতে যাচ্ছেন। মামলার পাশাপাশি ওই গাড়িতে লাঠির আঘাত করেছেন কি? নাকি সব নিয়ম গরিবের জন্য। একটি গোপন খবর দিই। বিজিএমইএ স্টিকার লাগানো গার্মেন্টসের চকচকে এসি মাইক্রোগুলো একটু চেক করবেন। ৯ সিটের মাইক্রোতে ৯ জনই বসেছে। দেখি সাহস থাকলে দেন গাড়ির সামনে একটা বারি আর দেন মামলা। তারপর প্যান্টের বেল্টটাও টাইট করে বসেন। আসছে ওপর থেকে…কোনো কোনো ছাত্রনেতাকে দেখলাম দল নিয়ে ইফতার দিচ্ছে। ওদের বোঝান যে দূরত্ব বজায় রাখুক। করেছেন ওদের মুভমেন্ট পাস চেক? নিয়ম তো সবার জন্য একই হওয়া উচিত, তাই না। এই কঠিন দিনগুলোতে একটু মানবিক হই আমরা। ধর্মকে তো আমরা নামাজ-রোজায় বেঁধে ফেলেছি, ধর্মে কিন্তু মানবিক সহমর্মী হতেও বলা হয়েছে। এই মুহূর্তে মানবিক হওয়াটাই বেশি প্রয়োজন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত