প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক লকডাউনে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার জটিলতায় বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারে (বিইএফটিএন) প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই প্রতিবন্ধকতা কেটে গেছে। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে।

জানা গেছে, সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণার করার পর সকল ব্যাংক বন্ধ রাখা হবে বলে নির্দেশনা দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। পরবর্তীতে সীমিত আকারে ব্যাংকের কার্যক্রম চলবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ওই সময় অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল সার্ভারে কিছুটা জটিলতা দেখা দেওয়ায় আন্তঃব্যাংক চেক ক্লিয়ারিং বন্ধ ছিল। ফলে গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ে। যা ১৮ এপ্রিল পুরোপুরি সমাধান হয়। পরবর্তীতে ১৯ এপ্রিল ইলেকটনিক ফান্ড ট্রান্সফারে সমস্যা দেখা দিলে লেনদেনে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি হয়। পরে সে সমস্যারও সমাধান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এসব সমস্যা হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব সেসব সমাধান করা হয়েছে। এরপর থেকে লেনদেনে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তির নতুন সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে অনলাইনে নির্বিঘ্নে সেবা গ্রহণ করতে পারছেন গ্রাহকরা।’

এ বিষয়ে একাধিক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তারা জানান, সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দুয়েকদিন আন্তঃব্যাংক লেনদেন এবং ইলেকটনিক ফান্ড ট্রান্সফারে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সার্ভার জটিলতার বিষয়টি সমাধান করে। ফলে গ্রাহকরা এখন খুব সহজেই অনলাইনে লেনদেন করতে পারছেন।

তারা বলছেন, লকডাউনে ব্যাংকে উপস্থিত হওয়ার চেয়ে গ্রাহকরা অনলাইনে লেনদেনে বেশি নির্ভর করে। তাছাড়া বিইএফটিএন’র মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়।

ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট একেএম কাউছার আলম বলেন, ‘চেক ক্লিয়ারিং এবং বিইএফটিএন’র যে সমস্যা ছিল, তা সমাধান হয়েছে। একদিকে লকডাউন অপরদিকে সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ব্যাংকে উপস্থি হয়ে লেনদেন করছেন না। গ্রাহকরা অনলাইন নির্ভর হয়ে উঠেছেন।’

এদিকে, গতকাল বুধবার (২১ এপ্রিল) অনলাইনে লেনদেনের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) লেনদেন হয়েছে। এতে কোনো ধরনের জটিলতায় পড়তে হয়নি গ্রাহকদের।

ক্লিয়ারিং হাউজে লেনদেনে আন্তঃব্যাংকের চেক নিষ্পত্তির নতুন সময়সূচি ঘোষণা করে গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নির্দেশনা দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং ও পরিশোধ সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট বা আরটিজিএস, বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজ (বিএসিএইচ) এবং বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন)- এই তিন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমও সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। এসব সেবার মাধ্যমে এক শাখা থেকে অন্য শাখায় বা অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ ও স্বয়ংক্রিয় চেক নিষ্পত্তি করে থাকে।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজের (বিএসিএইচ) মাধ্যমে হাই ভ্যালু চেক (৫ লাখ টাকার বেশি) ক্লিয়ারিংয়ের জন্য বেলা ১১টার মধ্যে পাঠাতে হবে এবং এ চেক দুপুর ১২টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে।

রেগুলার ভ্যালু চেকের (৫ লাখ টাকার কম) ক্লিয়ারিংয়ের জন্য বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে পাঠাতে হবে এবং এসব চেক দুপুর দেড়টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের দিনগুলোতে এই সময়ে চেক ক্লিয়ারিং করবে বিএসিএইচ।

এছাড়া বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) সেবা আগের নিয়মে চলবে। তবে রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট- আরটিজিএস এর লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিইএফটিএন’র মাধ্যমে গ্রাহকের নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে অন্য যেকোনো ব্যাংকের গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যায়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যায়। গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ডিভিডেন্ট, ইন্টারেস্ট ইত্যাদি জমা করা যায়। এছাড়া গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বিল, ঋণের কিস্তি, বিমার প্রিমিয়াম ইত্যাদি আদায় করা যায়।

এ পদ্ধতিতে গ্রাহকের কোনো বাড়তি খরচের প্রয়োজন হয় না। তাই এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
– রাইজিংবিডি.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত