প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পুরনো ভিডিও লাইভ প্রচার, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালো র‌্যাব

সুজন কৈরী: [২] বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে পুরনো ভিডিও ‘লাইভ’ আকারে ছড়ানোকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে গুজব রটানোয় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

[৩] র‌্যাব বলছে, সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তারের পর নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে সংগঠনের আইটি টিম পুরনো ভিডিও ‘লাইভ’ আকারে ছড়ায়। যারা এ ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে এমনটি করেছে, র‌্যাব তাদের শনাক্ত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে র‌্যাব অভিযান চালাবে এবং তাদের আইনের আওতায় আনবে।

[৪] বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের বলেন, পুরনো ভিডিও লাইভ করতো হেফাজতের আইটি টিম। যারা এ ধরনের আ্যপস ব্যবহার করতো তাদের র‍্যাব শনাক্ত করেছে। তারা বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দিয়ে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে দিতো। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে র‍্যাব অভিযান চালাবে।

[৫] তিনি বলেন, র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং সেল রয়েছে। আমাদের সাইবার মনিটরিং সেল শনাক্ত করেছে যে, পুরনো ভিডিও লাইভ আকারে ছড়িয়েছে।

[৬] কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী যে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছিল, ঠিক তখন থেকেই একটি কুচক্রী মহল দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। র‌্যাব এসব ব্যক্তি বা দলকে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও স্থির চিত্র দেখে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে। এসব অপরাধী শনাক্তে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা অভিযান চালাচ্ছে। এসব অপরাধী শনাক্তের পর আটক করে আইনের আওতায় আনছে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাবই প্রথম অভিযান চালিয়ে আটক করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সময়কালে ঘোড়ায় চড়ে বিক্ষোভ করা হেফাজতের এক কর্মীকে। শিশু বক্তাখ্যাত রফিকুল ইসলামকেও র‍্যাব গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছে।

[৭] র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, দল কিংবা গোষ্ঠী যারা নাশকতার চেষ্টা করেছে কিংবা নাশকতার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে, সবাইকেই ধাপে ধাপে র‍্যাব গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে। ইতোমধ্যে হেফাজতের ১২ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

[৮] গ্রেপ্তার ১২ জনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের বেশিরভাগেরই দেশের বিভিন্ন জেলায় নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন, যারা নাশকতা সৃষ্টিতে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তাদের আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করেছি।

[৯] র‌্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বেশিরভাগই নাশকতার জন্য অনলাইনে বক্তব্য দিয়েছেন। এ বিষয়েও র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা কাজ করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখেছি নেতৃস্থানীয় নেতা কেউ গ্রেপ্তার হলে তারা পুরনো ভিডিও ‘লাইভ’ বলে শেয়ার দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো।

[১০] কতোগুলো পেজ বা ওয়েবসাইট দিয়ে তারা এসব ‘লাইভ’ করতো, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র‍্যাব এখন পর্যন্ত শতাধিক পেজের সন্ধান পেয়েছে, যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ‘লাইভ’ করতো। আমরা একজন ব্যক্তির নামে একাধিক আইডি পেয়েছি, ওই আইডিগুলো দিয়ে এসব ‘লাইভ’ শেয়ার দেওয়া হতো।

[১১] গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের কোনো সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, র‍্যাব কোনো দল কিংবা ব্যক্তিকে টার্গেট করে অভিযান পরিচালনা করে না। যারা দেশব্যাপী নাশকতা সৃষ্টি করেছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে এবং যারা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

[১২] তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বেশিরভাগেরই নিজেদের শক্তি এবং রাজনৈতিক পরিচয় জানান দেওয়া ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। এটি হাসিল করতে জন্য ঢাল-তলোয়ার হিসেবে বিভিন্ন মাদরাসা বা এতিমখানার কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার করেছে তারা।

[১৩] মামুনুল হকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামুনুল হক যে দলের নেতা, সেই দলের কয়েকজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি বিভিন্ন মামলার আওতায়। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের মামলা রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতার জন্য মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ও মামুনুল হক একই দলের মতাদর্শের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত