প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্কুল-কলেজ বন্ধ, মোবাইল গেমসে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা

আশরাফ আহমেদ:[২] মহামারী করোনা প্রাদুর্ভাবে স্কুল -কলেজ দীর্ঘ’দিন ধরে বন্ধ থাকায় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে গ্রাম কিংবা শহরের শিশু-কিশোর ,তরুণ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ক্রমান্বয় আসক্ত হয়ে পড়ছে মোবাইল গেমসের প্রতি। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এন্ড্রয়েড ফোন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক চলছে ভার্চুয়াল ও অনলাইন ক্লাস।

[৩] যেখানে ঘরে বসেও যুক্ত থাকা যায় ঐ সকল ক্লাসে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির অবাধ অগ্রগতির যুগে করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ছাত্র-ছাত্রীর ইতিবাচক মানসিকতা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হওয়ার কারণে ওইসব অনলাইন ক্লাসে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়। তবে অধিকাংশ ছেলেমেয়েরা ক্লাসে যুক্ত থাকুক আর নাইবা থাকুক যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন মোবাইল গেমস।

[৪] তবে ছোট হোক আর বড়হোক সকলেই এখন ফ্রী ফায়ার গেমস নিয়ে ব্যস্ত।জানা যায় গত ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণার পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাধ্যতামূলক শুরু হয় ভার্চুয়াল ক্লাস। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের যুক্ত হতে বলা হয় ওইসব ভার্চুয়াল ক্লাসে। যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের এন্ড্রয়েড ফোনের ব্যবহার খানিকটা বাধ্যতামূলক করা হয়।

[৫] তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ভার্চুয়াল ক্লাসের পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন মোবাইল ভিত্তিক বিভিন্ন গেমসে। বর্তমানে যা রীতিমতো তাদের আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। বই খাতা তো দূরে থাক নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কখনো বা দিনের বেশিরভাগ সময় তারা পার করছে মোবাইল গমসে। কখনো বাড়ির নিরিবিলি পরিবেশ কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে চায়ের দোকান ,পরিত্যাক্ত ভবন, ফাঁকা মাঠ কিংবা শান্ত পরিবেশে তারা দলবেঁধে মেতে উঠছে মোবাইল গেমসে।

[৬] এ বিষয়ে দ্বীপেশ্বর গ্রামের অভিভাবক কামরুল ইসলাম জানান, এখন মোবাইলে কি পড়ানো হয় তা আমি জানিনা। হোসেনপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোছলেহ উদ্দিন খান জানান, ভার্চুয়াল ক্লাস নিলে ৮ থেকে ১০শতাংশ শিক্ষার্থীরা ক্লাশে যুক্ত থাকে। হোসেনপুর ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্ররা দামি মোবাইল গোপনে ব্যবহার করছে বলে জানান ওই স্কুলের শিক্ষকরা।

[৭] মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তানভির আহমেদ জামান বলেন, বর্তমানে ছাত্ররা আমাদের শিক্ষকদের সামনেই মোবাইল চালায় । অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা গেমসে আসক্ত তা দেখলেই বুঝা যায়। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, স্কুল-কলেজ খোলা হলে বিষয়টি দেখা হবে ।সেই সঙ্গে এ বিষয়ে পরিবারের মানুষদের সচেতন হতে হবে।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

 

 

সর্বাধিক পঠিত