প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ: বাংলাদেশকে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে টিকতে হলে, এদেশে কোনো সরকারই মৌলবাদী মব-ভায়োলেন্স মেনে নেবে না

খান আসাদ: সরকারকে বা আরও স্পষ্ট করে বললে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে অনেকেই ধন্যবাদ দিচ্ছেন, কামেল মামুনুলকে গ্রেফতার করার জন্য। মনে হতে পারে, এটি যেন শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা কওমিদের একটু কড়কে দেওয়া, তাঁর পিতার ভাস্কর্য নিয়ে বেয়াদপি করা বা ম্যুরাল অসম্মান করার জন্য। এরকম ধারণা থাকলে, সেটি মনে করে আনন্দিত বা দুঃখিত হতে পারেন, কিন্তু রাজনীতি আরেকটু জটিল ব্যাপার।

বাংলাদেশকে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে টিকতে হলে, এদেশে কোনো সরকারই মৌলবাদী মব-ভায়োলেন্স মেনে নেবে না। কারণ রাষ্ট্রব্যবস্থা তার বৈধ ‘মনোপলি অব ভায়োলেন্স’ ক্ষমতা হারাবে। সেটা হলে, বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, ‘আন্তর্জাতিক কমিউনিটি’ থেকে, যারা আজকের বিশ্বায়নের যুগে গুরুত্বপূর্ণ, ব্যবসা ও ‘গণতন্ত্রের’ অংশীদার। ফলে আওয়ামী লীগ বা যে লীগই ক্ষমতায় থাকুক, রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনোভাবেই এই হেফ-জামাতি শক্তিকে ‘সীমা লঙ্ঘন’ করতে দেবে না। সেই যোগ্যতা বাংলাদেশ রাষ্ট্রপ্রশাসন অর্জন করেছে।

সারা দুনিয়ায়, শাসক শ্রেণি ধর্মকে ব্যবহার করে আসছে। ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মগুরুদেরও ব্যবহার করে আসছে, নিজেদের শাসনের ঐতিহ্য ও বৈধতার জন্য। জার্মানিতেও ক্ষমতায় থাকা দলটির নাম ক্রিশ্চান ডেমোকেটিক ইউনিয়ন। রাজা ও চার্চের ভূমিকা ও দ্বন্দ্ব সবাই জানি। সেকুলারাইজেশনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও ধর্ম, তথা শাসন ক্ষমতা ও ধর্মীয় ক্ষমতা আলাদা করা হয়েছে। বাদশাহ আর উলেমা, এই দুই ভূমিকা আমরা উমাইয়া, আব্বাসিয় ও অটোমান, তিন ইতিহাসেই পাই। ফলে হান্টিংটনরা যতই বলুক ‘ইসলাম মৌলিকভাবে রাজনৈতিক’, কথাটা ভুল। আরবিয় বা তুর্কিরাও ইউরোপীয়দের মতো সমান সেক্যুলার। বাদশাহী আর উলেমার ক্ষমতা আলাদা, ইতিহাস সাক্ষী।

সমস্যাটা অন্য জায়গায়। বাংলাদেশে, যারা বাদশাহী করতে চায়, তারা আবার উলেমাও পালতে চায়। এই বাদশাহী আওয়ামী লীগ বা বিএনপি না, সিনিয়র সামরিক বেসামরিক আমলারাও করতে চায়, এলিট শ্রেণির মানুষ হিসেবে। ফলে, এরা ‘ভালো উলেমা’ খোঁজে। কিন্তু যারা বাংলাদেশে বাদশাহী করতে চায়, তাদের দুর্ভাগ্য আমরা একটি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। ফলে প্রায় সব উলেমা রাজাকার আলবদর বা এদের সমর্থক হয়েছিল। ‘ভালো উলেমা’ পাওয়া মুশকিল।

এখন পুরো সেকুলারাইজেশন হবে, নাকি লিবারেল সেক্যুলারাইজেশন হবে এবং  ভালো উলেমা খোঁজা হবে, অভিভাবক বানানোর জন্য? এর উত্তর জানা দরকার। বাংলাদেশ এখন ক্রসরোডে। পুরো সেক্যুলারাইজেশনের দিকে যেতে পারে, অথবা বাদশাহী ও উলেমাদের ভূমিকা নির্ধারিত করে, সীমালঙ্ঘন না করার চুক্তিতেও যেতে পারে। আগে দেখেন কী হয়। তারপর না হয় ধন্যবাদ দিয়েন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত