প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডে পুলিশ অফিসার ডেরেক চাউভিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত

আখিরুজ্জামান সোহান: [২]যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ হাতে মারা যাওয়া কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মিনিয়াপলিস শহরের বরখাস্তকৃত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিনের বিরুদ্ধে আরোপিত সবগুলো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। সিএনএন, বিবিসি, আল জাজিরা

[৩] ১২ সদস্যের প্যানেলের প্রায় ১০ ঘন্টা আলোচনা শেষে রায়ে পৌছেছেন হেনেনিপিন কাউন্টি আদালতের জুরিবোর্ড। মিনিয়াপোলিসের প্রাক্তন ওই পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিনের বিরুদ্ধে আনা ৩টি অভিযোগ আনা হয়েছিলো ।

[৪] আরোপিত তিনটি অভিযোগ ‌‌‘দ্বিতীয় ডিগ্রী’ অনিচ্ছাকৃত হত্যা, ‘তৃতীয় ডিগ্রি’ হত্যা এবং ‘দ্বিতীয় ডিগ্রি’ হত্যা সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। এখন তাকে সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হতে পারে, আরেকটিতে ২০ বছর এবং তৃতীয়টিতে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজা হতে পারে।

[৫] রায় ঘোষণার পর আদালতের ভেতরেই হাতকড়া পরানো হয় দোষী সাব্যস্ত পুলিশ অফিসারকে। তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

[৬] এই ঘোষণার পরে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং ভিপি কমলা হ্যারিস ফ্লয়েডের পরিবারের সাথে কথা বলেন। ফ্লয়েডের আইনজীবী বেন ক্র্যাম্প সংবাদটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং তাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

[৭] এদিকে, রায় ঘোষণার সময় আদালতের বাহিরে জড়ো হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। এ সময় তারা ‘ন্যায়বিচার’ এবং ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারস’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল।

[৮] ২০২০ সালের ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েড নামের ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানকে হত্যা করেন মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের অফিসার ডেরেক চাউভিন। পুলিশের দাবী, অবৈধ মুদ্রা রাখার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো ।

 [৯] গ্রেপ্তারের সময় হাতকড়া পরিয়ে শোয়ানো অবস্থায়  ফ্লয়েডের ঘাড়ে প্রায় ৯মিনিট ৩০ সেকেন্ড  হাটু গেড়ে বসেছিলেন চাউভিন।  এসময়  জে. অ্যালেক্সান্ডার কুয়েং এবং থমাস লেইন নামের দু’জন পুলিশ অফিসার তাকে। সহায়তা করেন। ট্যো থাও নামের অন্য একজন পুলিশ অফিসার উপস্থিত জনতাকে নিরস্ত করেন এবং হস্তক্ষেপ করতে বাধা দেন ।

[১০] মিনিয়াপোলিস অঙ্গরাজ্যের একটি রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তা কর্মী হিসাবে কাজ করতেন জর্জ ফ্লয়েড। ২৫শে মে সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন একটি প্রতারণার ব্যাপারে কল পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে।

[১১] ফ্লয়েডের মৃত্যুর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ঝড় ওঠে।

[১২] পুলিশের বর্বরতা ও অসদাচরণ রুখে দেওয়া, ঘাড়ে চাপপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করাসহ নাগরিক অধিকার ভঙ্গের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও বিচারের পথ সুগম করতে গত সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা পুলিশে আমূল সংস্কার আইনের প্রস্তাব পেশ করে। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত