প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাবিনা শারমিন: যেন সস্তা বাংলা সিনেমা , ‘মা বড় না বউ’? ‘ডাক্তার বড় না পুলিশ’?

সাবিনা শারমিন: এই মহামারীরতে করোনা যখন মানুষের শরীরের ধমনী চিপে চিপে ফুস ফুস থেকে নিঃশ্বাস বন্ধ করে বের করে নিয়ে উদ্যত হয়, তখন কোন পেশার মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই অদৃশ্য দানবের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়? অবশ্যই ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা! এ কথা নতুন করে বলার কিছু আছে? আরে, এক একজন চিকিৎসকতো এখন মানুষের অমূল্য প্রাণের জন্য এক একজন দেবদূত! চারদিকের এই স্বজন হারানো সময়ে আমরা পলে পলে কী বুঝতে পারছি না যে একজন চিকিৎসকের মুল্য এখন ঠিক কতোটা? আমরা গত এক বছরে দেখতে পেয়েছি করোনা মোকাবেলায় সমগ্র বিশ্বে কতো অগণিত মূল্যবান ডাক্তার তাদের নিজেদের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে। অন্যান্য সকল পেশার মানুষ ঘরে বসে  নিজের ও অন্যান্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও ডাক্তারদের জন্য কিন্তু সেটি সম্ভব নয়।

তাই এই মহামারিতে স্বাস্থ্যসেবায় সবচেয়ে জরুরি পেশায় যারা সামনের সারীতে, সেখানে সবচেয়ে সামনের কাতারে ডাক্তার সেটি আমাদের সবাইকে মেনে নিতে হবে এবং মনেও রাখতে হবে। কারণ যমে মানুষে যখন জীবন নিয়ে টানাটানি তখন স্রষ্টাকে মানুষ দেখতে না পেলেও দেখতে পায় ডাক্তার। তখন জীবন ফেরত পেয়ে ডাক্তারদের রোগীর কাছে মনে হয় এক একজন অবতার। এরকম একজন অবতারের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দেখে মনে হলো আরে, অবতারেরাওতো আমাদের মতো ভুল-ভ্রান্তিতে ভরা রক্ত মাংসের সাধারণ মানুষ! যার নিজের আইডেন্টিটি নিজের সম্মান রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। মুক্তিযুদ্ধ, মন্ত্রী এসব পরিচয় টেনে আনতে হয়েছে অন্যান্য পুলিশকে ঘায়েল করার জন্য।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে এলিফেন্ট রোডে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট এক নারী ডাক্তারের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় মহিলা গাড়ী থেকে নেমে শারীরিক অঙ্গভঙ্গি সহ কলতলার ঝগড়াতে নারীদের মতো তুমুল উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় হুমকী ধমকী দিচ্ছেন। এক পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে তিনি পুলিশদের উদ্দেশ্য ‘হারামজাদা’ শব্দটিও উচ্চারণ করেছেন। শুধু তাই নয় উত্তপ্ত অবস্থায় এক পর্যায়ে ওই নারী নিজেকে শওকত আলী বীর বিক্রমের মেয়ে সাইদা শওকত বলে পরিচয় দেন। তিনি আরও বলেন ‘ডাক্তার বড় না পুলিশ বড়’ তা তিনি দেখিয়ে দেবেন! এক পর্যায়ে তিনি পুলিশদের উদ্দেশ্য করে বলছেন , আপনারা কতোজন মরছেন? আহ! কী অশ্লীল আর অমানবিক আচরণ।

মরা নিয়েও অহংকার! যাইহোক, পুরো ভিডিওটি দেখে সমগ্র পেশার প্রতি নয়; বরং ব্যক্তিগতভাবে ভদ্রমহিলাকে আমার ভীষণ অসহিষ্ণু মনে হয়েছে। ভাবুন একজন চিকিৎসক একজন রোগীকে বাঁচানোর জন্য কতোটা চাপ হজম করতে হয় ,কতোটা ধৈর্যশীল হতে হয় তাই না? কিন্তু এই ডাক্তার নারীকে দেখে মনে হলো তিনি একজন সস্তা রাজনীতিবিদ! যারা আঙুল উঁচিয়ে তুড়ি মেরে খেলা হবে বলে হুমকী দেয়! দেখিয়ে দিতে চায় ডাক্তার বড় নাকি পুলিশ বড়! যেন সস্তা বাংলা সিনেমার ডায়লগ, মা বড় না বউ বড়? ঠিক ওরম একটা কিছু! পুলিশ বড় না ডাক্তার বড়? আমার কাছে মনে হয় অবশ্যই আমাদের সকলের কাছে ডাক্তার বড়। তবে দুঃখিত, ব্যক্তি আপনি বড় হওয়ার সহনশীলতাতো দেখাতে পারেনই নাই। বরং একজন পেশাজীবী হয়ে অন্য পেশাকেও সম্মান দেখাতে পারেন নাই। নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে যদি শরীর ঝাকিয়ে আঙুল নাচিয়ে হুমকী দিতে হয়, তাহলে সেই পরিচয়টি প্রকৃত পক্ষে বড় বেশি অসম্মানের মনে হয় না? ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত