প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ বি এম কামরুল হাসান: রাজপথে ডাক্তার বনাম পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট: বি স্মার্ট ইন ডিজিটাল বাংলাদেশ

বি এম কামরুল হাসান: এক যুগ প্রবাসে। অসংখ্যবার পুলিশের রোড ব্লকে পড়েছি। কখনো আইডি কার্ড দেখানো লাগেনি। ডাক্তার পরিচয়েই সালাম দিয়েছে। বাংলাদেশে এই চিত্রটি ভিন্ন। চলতি লকডাউনে চলতিপথে ডাক্তাররা হেনস্থা হচ্ছে পদে পদে।  সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন পুলিশ কর্তৃক রাস্তায় হয়রানির মাত্রা ছিল সর্বাধিক। জরিমানা হয়েছে। কড়া কথা শুনিয়েছে। জরিমানার টাকা ফেরতও দেয়া হয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের মুভমেন্ট পাস লাগবে না। তারপরও লকডাউনের পঞ্চম দিনে ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে ঘটে গেলো এক তুলকালাম কাণ্ড। ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব। একজন ডাক্তার বনাম পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট। অনাকাঙ্খিত। দুঃখজনক।

সবাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। সবাই কোভিড মোকাবিলার সামনের সারির যোদ্ধা। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে রাস্তাঘাটে এ দ্বন্দ্ব কোনোভাবেই কাম্য নয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া ভিডিও গুলো বারবার দেখেছি। দুঃখ পেয়েছি। মন্তব্যগুলো পড়েছি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দুপক্ষের মধ্যে প্রফেশনালিজমের নিদারুন অভাব লক্ষণীয় । কেউই দায় এড়াতে পারেন না । কিন্তু কেন এমন হলো? বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রথমেই বলেছি, গত বারো বছরে আমার আই ডি কার্ড দেখানো লাগেনি। আমার গাড়িতে রেডক্রস বা রেড ক্রিসেন্ট এর কোনো চিহ্ন নেই। নেই আমার হাসপাতালের কোনো স্টিকার। রাস্তা-ঘাটে গায়ে এপ্রোন চড়িয়ে ঘুরি না। শুধু মুখে বলেছি আমি ডাক্তার। হয়তো দুটো বাড়তি প্রশ্ন করেছে। তাও বিনয়ের সাথে। প্রশ্ন করার ভঙ্গি ছিল বন্ধুর মতো। কোন হাসপাতালে আছি? কোন বিভাগে ? ব্যাস। এ পর্যন্তই।

অথচ ভদ্র মহিলার গায়ে ছিল সাদা এপ্রোন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও লোগো খচিত। গাড়িতে ছিল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার। তারপরও তাঁর গাড়ি থামিয়ে আইডি কার্ড চাওয়ার প্রয়োজন ছিল কি? একথা সত্যি, এপ্রোন বা স্টিকার ডাক্তারের সার্বিক একটা পরিচয় বহন করে বটে। তবে সেটা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে চ্যালেঞ্জ করার মতো তেমন কিছু নয়। তাই তারা বলতেই পারেন যে, আমরা যা কিছু করেছি আইন মাফিক করেছি। কোনোপ্রকার হয়রানি করিনি। তারপরও কয়েকটি প্রশ্ন থেকে যায়।

একটি অনলাইন পত্রিকা লিখেছে, তিনি হাসপাতাল থেকে পাওয়া তাঁর লিখিত পাস দেখান। যদ্দুর জানি, ওই লিখিত পাসটি হাসপাতালের পরিচালক স্বাক্ষরিত। ডাক্তারের ছবি সম্বলিত। ছবির ওপর হাসপাতালের সিল। এরপরও পুলিশ তার কাছে আইডি কার্ড দেখতে চান। হাসপাতালের ওই লিখিত পাসটি ডাক্তারের পরিচয় এর জন্য যথেষ্ট নয়? লিখিত পাস দেখানোর পর পুলিশকে বলতে শোনা গেছে ‘এসব ভুয়া’। যাচাই না করে এ ধরনের মন্তব্য করা কি হয়রানি নয়? ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মুভমেন্ট পাস লাগবে না মর্মে আদেশ জারি হয়েছে। তারপরও পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মুভমেন্ট পাস চাওয়া হচ্ছে কেন? এটা কি হয়রানি নয়? তারা কি সবশেষ আদেশ সম্পর্কে অবহিত নন? ডাক্তার মহিলাকে জনৈকা পাপিয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটা কি হয়রানি নয়? অপমান নয়? সামাজিকভাবে হেনস্তা নয়? অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে, ঘটনাটি প্রজাতন্ত্রের দুটি শ্রেণির গত কদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ক্ষোভের কারণ অনুসন্ধান করে তা নিরসনে সংশ্লিষ্টদের জরুরি ভিত্তিতে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

কোনো ডাক্তারের পরিচিতি নিয়ে কোনো সন্দেহ হলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটা ছোট টিপস দিয়ে লেখাটি শেষ করবো। দেশের সকল ডাক্তারের একটি ডাটাবেজ রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে। এটি জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি অনন্য নিদর্শন। আপনার স্মার্ট ফোন থেকে বিএমডিসির ওয়েবসাইটে ঢুকুন। সন্দেহভাজন ডাক্তারের কাছ থেকে তাঁর বিএমডিসি নাম্বারটি জানুন। নাম্বারটি দিয়ে সার্চ দিন। ব্যাস। সাথে সাথে তাঁর নাম ঠিকানা ও ছবি চলে আসবে। পরিচিতি নিয়ে রাস্তা ঘাটে আর বাদানুবাদ করতে হবে না। আইডি কার্ড আনতে ভুলে গেছেন তো কী হয়েছে? বি স্মার্ট ইন ডিজিটাল বাংলাদেশ। লেখক : প্রবাসী চিকিৎসক ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত