প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাকালে ছয় শিল্প এলাকায় বন্ধ ৬৩০ কারখানা

নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের ওপেক্স সিনহা গ্রুপের কারখানায় কাজ করেন ১৩ হাজার শ্রমিক। এর মধ্যে জরুরি রফতানি কাজে প্রয়োজনীয় তিন হাজার শ্রমিককে কাজে রেখে বাকিদের ছুটি দিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রম আইনের ১২ ও ১৬ ধারা অনুসরণ করে গত বছরের মার্চে বন্ধের এ ঘোষণা দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এখনো কারখানাটি বন্ধই রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প অধ্যুষিত এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত শিল্প পুলিশ। ওপেক্স সিনহা গ্রুপের মতো অনেক কারখানাই কভিডকালে বন্ধ ঘোষণা করেছে, গতকাল পর্যন্ত যার সংখ্যা ৬৩০।

আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনা—দেশের শিল্প অধ্যুষিত এ ছয় এলাকায় মোট কারখানা রয়েছে ৭ হাজার ৯৮২টি। শিল্প কেন্দ্রীভবনের কারণেই ছয় শিল্প এলাকায় একক খাতভিত্তিক কারখানার সংখ্যা বেশি। ছয় শিল্প এলাকায় শুধু পোশাক খাতের কারখানা আছে ২ হাজার ৩৮৬টি। এ খাতেরই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বস্ত্র শিল্পের কারখানা আছে ৩১৫টি। এছাড়া বেপজার আওতায়ও আছে বস্ত্র ও পোশাক খাতের কারখানা।

শিল্প পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ছয় শিল্প এলাকায় মোট ৭ হাজার ৯৮২টির মধ্যে পোশাক খাত-কেন্দ্রিক মোট কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ৭০১। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বেপজার আওতাভুক্ত বস্ত্র ও পোশাক কারখানার বাইরে চামড়াজাত পণ্য, আসবাব, সেলফোন সংযোজন, ওষুধসহ সব খাত মিলিয়ে অন্যান্য কারখানা আছে ৪ হাজার ৮১৬টি। মোট ৭ হাজার ৯৮২টির মধ্যে কভিডকালে বন্ধ কারখানার সংখ্যা ৬৩০। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্চে করোনা শনাক্তের পর কভিডকালেই কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছে।

শিল্প পুলিশের ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বন্ধ কারখানার মধ্যে বড় আকারের কারখানা খুব বেশি নেই। ঠিকায় কাজ করে এমন অনেক কারখানা আছে।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত বছর ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি নামে অঘোষিত লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। পরে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধির শর্ত মেনে পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু করোনার বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাবে পড়ে রফতানিমুখী কারখানাগুলো। যে দেশগুলোর কার্যাদেশে কারখানাগুলোর উত্পাদন সচল ছিল সেসব দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদায় পতন ঘটে। ফলে দেশের শিল্প অধ্যুষিত এলাকার কিছু কারখানা আর সচল হয়নি। শিল্প পুলিশের সর্বশেষ হিসাব বলছে, বর্তমানে বন্ধ রয়েছে ছয় শতাধিক কারখানা।

এদিকে বাংলাদেশে কভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ মোকাবেলায় ৫ এপ্রিল সার্বিক চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এরপর ১৪ এপ্রিল শুরু হয়েছে সার্বিক চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন। এখনো চলমান রয়েছে লকডাউন। তবে এবারো লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা সচল রাখার অনুমতি রয়েছে। ফলে সারা দেশে লকডাউন চলমান থাকলেও সক্রিয় আছে শ্রমঘন শিল্প-কারখানাগুলো।

গতকাল পর্যন্ত শিল্প পুলিশের হালনাগাদ তথ্য বলছে, শিল্প পুলিশের আওতাভুক্ত ছয় শিল্প এলাকায় খোলা রয়েছে এমন কারখানার সংখ্যা ৭ হাজার ৩৫২। এ হিসেবে মোট কারখানার ৯২ শতাংশ সচল আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কারখানাগুলো সচল আছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্প পুলিশের ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা পরিচালনা করছে। কারখানায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় জড়ো হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তত বেশি না। কোনো ঝামেলা ছাড়া কারখানা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

দেশের রফতানিমুখী প্রধান শিল্প খাত পোশাক। শিল্পসংশ্লিষ্ট মালিক সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য বলছে, গত বছর মার্চের দিকে যখন সবকিছু বন্ধ হলো তখন লোকবল কিছু কমাতে হয়েছিল সীমিত আকারে উত্পাদন পরিচালনার জন্য। প্রাথমিকভাবে কিছু লোকবল কমলেও পরে তারা আবার কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছেন। মোট ৩৭৪টি কারখানা কভিডকালে বন্ধ হয়েছে। ছোটা আকারের হলেও ব্যাকওয়ার্ড-ফরোয়ার্ড লিংকেজ অনেক সক্ষমতা তৈরি করেছিলেন শিল্পোদ্যাক্তারা। ওই সক্ষমতাগুলোই বন্ধ হয়ে যায়। এখন ওই সক্ষমতাগুলোর সব সক্রিয় করতে না পারলেও চাকরিচ্যুতদের কাজে নেয়া হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমরা এখন গুছিয়ে কাজ করছি। আমরা চাই কাজগুলো যেন চালু থাকে। যদি কাজ বন্ধ হয়ে যায় আর কর্মীরা বেকার হন তাহলে কভিড সংক্রমণ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ারও শঙ্কা থেকে যায়। কাজের মধ্যে থাকলে কর্মীরা অনেক শৃঙ্খল জীবনযাপনের মানসিকতায় থাকেন। সব দিক বিবেচনায় কারখানা সচল রাখা ভালো একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। -বণিক বার্তা

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত