প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পারমিতা হিম: মুভমেন্ট পাস ও ফ্রান্স

পারমিতা হিম: ফ্রান্স আমার প্রিয় দেশ। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলাম ফরাসি জাতি বড়ই বেয়াদব। আমেরিকা গেছি, এয়ারপোর্টে বেল্ট থেকে লাগেজ নামায়ে দিল এক ইহুদি বুড়ো মোল্লা, মুখে দাড়ি, মাথায় ইয়ামাকা। লন্ডনে লম্বা চওড়া পেটা শরীরের কালো যুবক কিংবা স্পেনে চোখ ফেরানো যায় না এমন সুদর্শন ছেলেটি। অথচ  ফ্রান্সে কি প্যারিস, কি নরম্যান্ডি, কি তুলুজ কোথাও কেউ আগায়ে এসে বললো না, তোমার কি লাগেজটা নামাতে কষ্ট হবে? একটু গোসসা করেই বললাম আমার ফরাসি বন্ধুকে, তোমার দেশের লোকজন এমন কেন হে? একটুও সাহায্য করে না। অন্য দেশে তো কাউকে সাধতেও হয় না, নিজেরাই এগিয়ে আসে। বন্ধু বললো, ওহে মেয়ে, আমরা নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাস করি। আর এ বিশ্বাস একদিনে তৈরি হয়নি। তুমি নারী, তুমি ক্ষীণকায় তাই বলে একজন শক্তিশালী পুরুষ এসে তোমার লাগেজ নামাবে, এইটা তোমারই অপমান। তাছাড়া আরেকটা সাংস্কৃতিক ব্যাপারও আছে। আমি চিন্তিত। কী সেই ব্যাপার। বন্ধু বললো, তোমরা ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি এবং বাংলাদেশিরা বড্ড বেশি গাট্টি বোঁচকা বান্ধ। যেটা তুমি নিজে বহন করতে পারবে না বা কষ্ট হবে তোমার সেই বোঝা তুমি বানবেই বা কেন? আমরা ফরাসিরা কি ছেলে, কি মেয়ে মনে করি আমাদের লাগেজ  ততোটুকুই হওয়া উচিত যতোটুকু আমরা বহন করতে পারি।

যেটা টানা আমার পক্ষে সম্ভব নয় সেটা নিয়ে আমি ভ্রমণেই যাব না। কক্ষনো আমার লাগেজ অতো ভারি করবো না হে বাঙালি মেয়ে। ফরাসি মুলুকে অনেক ছোট সংলাপও আমার কাছে বিশাল দার্শনিক ভাবনা নিয়ে হাজির হইছিল। এই কথোপকথনও তার একটা। মুভমেন্ট পাস বস্তুটা দেখে আমার এই কথাটা আবার মনে পড়ল। আমাদের জনগোষ্ঠীর  কতোজন ওয়েবসাইটে ঢুকে মুভমেন্ট পাসের আবেদন করতে পারার সক্ষমতা রাখে সেটা নিশ্চয়ই আমাদের সরকারের অজানা নয়। তার ওপর হোক রেজাল্ট ঘোষণা কিংবা হজ ফ্লাইটের নিবন্ধন দুজনের বেশি মানুষ সরকারি ওয়েবসাইটে একসাথে ঢুকলেই ওয়েবসাইটের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া যেখানে বন্ধ হয়ে যায়, সেইখানে কীভাবে সরকার মুভমেন্ট পাসের মতো একটা আইডিয়া সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে ভাবলো? এটা সেই ভারতীয় উপমহাদেশের অতিরিক্ত গাট্টি বাঁধার রোগ। জানি পারবো না, তবু করবো। সাধ্যের অতিরিক্ত বোঁচকা না বানলে জীবনে পরবর্তী ভজঘট লাগবে কেমনে বলুন?

১৭ এপ্রিল,২০২১। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত