প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বহুমুখী চাপে কৌশলে হেফাজত, কার পর কে গ্রেফতার নিয়ে দুশ্চিন্তায় নেতারা

আতাউর অপু : এলোমেলো হেফাজতে ইসলামের সংগঠনের ভাবমূর্তি বাঁচিয়ে টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নেতাদের মুখে মুখে এখন একটাই আলোচনা কার পর কে গ্রেফতার হবেন। ২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে জনস্রোত দেখিয়ে দেশে-বিদেশে আলোড়ন তোলা হেফাজত এমন চাপে পড়েনি আগে। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসহ এত নেতা অতীতে কারাবন্দিও হননি। গ্রেফতার এড়াতে অনেকেই বদলে ফেলেছেন ব্যবহারিত ফোন ও ঠিকানা।

হেফাজতে ইসলাম নিজেরা মনে করছে, গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহ তাদের বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। পরিস্থিতিটা হেফাজত এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। বিবিসি বাংলা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে সংগঠনটি সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে নামে। পরে তাদেরই হরতাল ঘিরে ব্যাপক নাশকতার জেরে নেতাকর্মীর ওপর নেমে আসে শতাধিক মামলার খড়্গ। এর পরই যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ড। সংকটের এখানেই শেষ নয়, প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত হন বাবুনগরীসহ ৪৩ কেন্দ্রীয় নেতা। এ ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা ও বিতর্কের কারণে বিভক্তি এবং পাঁচ কেন্দ্রীয়সহ শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনায় হেফাজতে বিরাজ করছে এক রকম ‘শীতল’ পরিস্থিতি। কালের কণ্ঠ

হেফাজতের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা বলছেন, মামুনুলের গ্রেফতারের পর থেকে ঢাকার নেতারা অনেকটা গাঢাকা দিয়েছেন। নিজেদের ফোন বন্ধ রেখে যে যার মতো নিরাপদে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। বাংলাট্রিবিউনমামুনুল হক

হেফাজত ইসলামের বিব্রতকর অবস্থায় বা সংকটে পড়ার যে কথা তিনি বলছেন, তাতে তাদের কী সমস্যা হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাবে হেফাজত নেতা নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, “অসুবিধা না?—যদি আমাদেরকে সরকার প্রতিপক্ষ মনে করে, আমাদের কাজেতো বাধা আসতেছে। বাধা আসাটা একটা সংকট বা বিব্রবতকর পরিস্থিতি না?” সরকার এবং হেফাজতে ইসলাম হাত মিলিয়ে চলছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। কিন্তু কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি দৃশ্যমান হয়েছে। প্রায় এক দশকে এই প্রথম হেফাজতে ইসলাম বড় চাপের মুখে পড়েছে। হেফাজতে ইসলাম মনে করছে, সরকার তাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করছে এবং সেটাই তাদের জন্য নানামুখী সংকট তৈরি করছে। বিবিসি বাংলা

ঢাকা মহানগরের এক নেতা বলেন, ‘১৯৯৯ সালে ফতোয়া নিষিদ্ধের হাইকোর্টের রায়ের পর আন্দোলনের সময় ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা গণহারে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এর ২০ বছর পর আবারও সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা। তবে ধর্মভিত্তিক দল ও আলেমদের মধ্যে যূথবদ্ধতা না থাকায় সম্মিলিত প্রতিবাদ করতে পারছে না হেফাজত।’ ঢাকার কয়েকটি কওমি মাদ্রাসা ও নারী কওমি মাদ্রাসা থেকেও খবর পাওয়া গেছে, শিক্ষার্থীসহ এসব প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য চাওয়া হচ্ছে নিকটস্থ থানা থেকে। বাংলাট্রিবিউন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উগ্রপন্থী কর্মসূচিকে ভুল আখ্যা দিয়ে সংগঠনের একটি পক্ষ বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টাও করছে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ মূল নেতারা মামুনুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং সরকারবিরোধী বেপরোয়া কর্মসূচির নাশকতায় ভুল স্বীকার করার পক্ষে নন। তাঁরা ভাবছেন, এমন পদক্ষেপ নিলে সংগঠনটি জনপ্রিয়তা হারাবে। এমন উভয় সংকটের চাপে হেফাজতের নেতৃত্ব। অন্যদিকে নাশকতা এবং ব্যক্তিগত ঘটনায় নজরদারি করে হেফাজতের কয়েকজন নেতাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক সূত্র। এই প্রক্রিয়ায় আরো কয়েকজন নেতাসহ সংশ্লিষ্টরা হতে পারেন গ্রেপ্তার। কালের কণ্ঠBangladesch Narayanganj, Nähe Dhaka | Anlass Besuch Narendra Modi | Unruhen und Gewalt

সরকারের প্রভাবশালী একটি সংস্থার সূত্র জানায়, হেফাজতের নেতাদের ধরপাকড় প্রক্রিয়া আরও চলবে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনের সময় গত ২৫, ২৬, ২৭ মার্চ তিন দিন ধরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে নাশকতা চালানো হয়েছে, এর পেছনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যাদের ভূমিকা পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরই আইনের আওতায় আনবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাংলা ট্রিবিউন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আরও দুই ডজন শীর্ষ নেতা। তাদের সবাইকে গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা হেফাজতের সক্রিয় এই নেতাদের তালিকা তৈরি করেছে। তালিকাভুক্ত এসব নেতা সবাই বিভিন্ন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বাংলা ট্রিবিউন

কোণঠাসা হেফাজত, ৮ শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তারসম্প্রতি আলোচিত ‘শিশুবক্তা’ হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গ্রেপ্তারের পর জানানো হয়, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত রফিকুলও গোপনে বিয়ে করেছেন। শাপলা চত্বরের ঘটনার আট বছর পর হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গত রবিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর গ্রেপ্তার হয়েছেন কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, সহ-অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী কমিটির সহসভাপতি মুফতি ইলিয়াস হামিদী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফউল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুফতি বশির উল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতা। বিতর্কের জেরে গত মঙ্গলবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন সংগঠনের নায়েবে আমির ও বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান কমিটির কয়েকজন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংগঠনকে ব্যবহার করছেন।’ কালের কণ্ঠ

কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী বলেন, ‘গত চার-পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের দেড় শ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে এসব মামলা আমরা মোকাবেলা করব।’ কালের কণ্ঠমামুনুলের বিরুদ্ধে ১৭ মামলা, একটিতে ৭ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

হেফাজতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো হেফাজতে ভীতসন্ত্রস্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। কখন কাকে ধরবে পুলিশ, এ নিয়ে বিস্তর দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে সেখানে অবস্থানরত নেতাদের। স্থানীয় নেতারা ইতোমধ্যে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে গোপনে অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় দোকানদার, ছাত্রলীগ নেতা, শফীপন্থী সংগঠকদের গ্রেফতারের কারণে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়েছেন নেতারা। ফলে, কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তেই যেতে পারছেন না মাওলানা বাবুনগরী ও হেফাজতের শীর্ষনেতারা। তবে আজ বিবৃতির মাধ্যমে মামুনুল হকসহ অন্যদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাতে পারেন হেফাজতের আমির মাওলানা বাবুনগরী।Hefazot Mamunul Arrest

জানতে চাইলে হেফাজতের আমিরের প্রেস সেক্রেটারি মাওলানা ইনআ’মুল হাসান ফারুকী বলেন, ‘কর্মসূচি বা বিবৃতির বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা আমি জানি না। আমিরে হেফাজত পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কোনও সিদ্ধান্ত হলে আমরা জানিয়ে দেবো।’ বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত