প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরিফ জেবতিক: গরীবের জন্য আসলে কোথাও কেউ নেই…

আরিফ জেবতিক: জীবনের একটা বড় অংশ আমি সরাসরি শ্রমিক শ্রেনীর সাথে কাজ করেছি। আমাদের পারিবারিক গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির ৩টি কারখানায় ২ হাজারের উপর শ্রমিক ছিলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলো আমি তত্ত্বাবধান করতাম। একটা জিনিস আমি যা শিখেছি, বাংলাদেশের শ্রমিকরা কখনোই মালিকের কিংবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে চান না। বিভিন্ন সময় শিপমেন্টের জন্য প্রেশার পড়েছে, রাত দিন একাকার করে তাঁরা কোম্পানির স্বার্থ দেখেছেন।

রমজান মাসে গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে সবসময়ই টাইম এডজাস্ট করতে হয়েছে আমাদের। কিন্তু শ্রমিকরা অনায্য দাবি করেন নি। তাঁরা লাঞ্চ আওয়ারের একঘন্টা বিরতিকে আধাঘন্টায় নামিয়ে এনে শুধু জোহরের নামাজ পড়েছেন, বিনিময়ে এই আধাঘন্টা সময় তাঁরা ইফতারের সাথে এডজাস্ট করেছেন। সকালে ৮টার শিফট ৭টায় শুরু করেছেন যাতে বিকেলের দিকে একঘন্টা আগে শিফট শেষ হয়।

রোজা রেখে শারিরীক পরিশ্রম করা সোজা কথা নয়। ডিহাইড্রেড শরীরে সারাদিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই গরমে কাজ করতে করতে সারাশরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ইফতারে একটু পানি খাওয়ার পরেই শরীর ছেড়ে দেয়। এই সময় প্রত্যেক ক্লান্ত মানুষেরই একটু বিশ্রাম প্রয়োজন।

এস আলমের শ্রমিকরা এই নায্য দাবিটুকুই করেছিলেন। তাঁরা লাঞ্চের সময়টাকে কমিয়ে এনে ইফতারে আধাঘন্টা বেশি সময় চেয়েছিলেন। তাঁরা এই রমজানের সময় ৮ ঘন্টার শিফট ৮ ঘন্টাই করতে চেয়েছিলেন।
বিনিময়ে পুলিশ আর মিলিশিয়া বাহিনী গুলি করে তাঁদেরকে শহীদ করে দিয়েছে।

আমি আজ সারাদিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কোনো এক প্রতিক্রিয়া দেখব। দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হবে আহত শ্রমিকদেরকে দেখতে যাবেন সরকারের বড় কোনো কর্তাব্যক্তি। কিছুই হয় নি।
যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে তারা এই শ্রমিকদের কাছে ছুটে যায় নি।

যারা তথাকথিত গণতন্ত্র আর অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির কথা বলে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে আছে তারাও ছুটে যায় নি।

গরীবের জন্য আসলে কোথাও কেউ নেই…

ফেসবুক থেকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত