প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চলনবিলে বোরো ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক

জাকির আকন: [২] চলনবিলের তাড়াশ ও সিংড়া উপজেলায় হঠাৎ বোরো ক্ষেতে দ্রত কারেন্ট পোকার আক্রমণ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় মাঠের পর মাঠের ধানের পাতা ও শীষ মরে যাচ্ছে। ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে কাঁচা ও পাকা ধান মরে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বালাই নাশক প্রয়োগ করেও কোনও প্রকার প্রতিকার পাচ্ছেন না।

[৩] চলনবিলের তাড়াশ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তাড়াশ উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২২ হাজার ৩’শ ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।

[৪] অপর দিকে, নাটোরের সিংড়া উপজেলায় কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলায় প্রায় ৩৬ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে বোরা ধান চাষ হয়েছে।

[৫] স্থানীয় কৃষকরা জানান, কারেন্ট পোকার আক্রমণে রাতারাতি মরে যাচ্ছে ধানের পাতা। ধানের গোড়ায় পচন ধরে শীষ মরে যাচ্ছে। একটি জমির ধানে এ পোকার আক্রমণ দেখা দিলে পাশের জমির ধানে ছড়িয়ে পড়ছে খুব দ্রত। হঠাৎ ফসলের এমন অবস্থা হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।

[৬] সরেজমিনে চলনবিলের তাড়াশ ও সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ঘুরে দেখা গেছে, কারেন্ট পোকার আক্রামণে মরে যাচ্ছে মাঠের পর মাঠ ধান ক্ষেত।

[৭] তাড়াশ সদর গ্রামের কৃষক শামিম হোসেন বলেন, ধান গাছ ভালো দেখাচ্ছিল, বাম্পার ফলনের আশা করছিলাম কিন্ত সেই স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কারেন্ট পোকা। হটাৎ করেই গত কয়েক দিন ধরে কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের পাতা মরে যাচ্ছে এবং গোড়ায় পঁচন ধরছে। এতে ধানের দানা নষ্ট হয়ে চিটায় পরিনত হচ্ছে।

[৮] তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়া গ্রামের কৃষক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগে হঠাৎ ধানের পাতা মরতে শুরু করে। এরপর দেখি গোড়ায় পঁচন ধরে মরে গেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে বালাই নাশক প্রয়োগ করেও কোনও প্রতিকার পাচ্ছি না।

[৯] সিংড়া উপজেলার ক্ষিদ্রবড়িয়া গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, আমার ৭ বিঘা জমির মধ্যে ৪ বিঘা জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিছে। কীটনাশক স্প্রে করছি কাজ হচ্ছে না। সব ধান মরে সাদা হয়ে গেছে।

[১০] আয়েশ গ্রামের কৃষক হাসমত বলেন, আগামী সোমবার থেকে ধান কাটার নিয়ত করেছি। আজ সকালে জমিতে এসে দেখি পোকা লাগিছে। কি করি ভেবে পাচ্ছি না। বাজার থেকে কীটনাশক এনে স্প্রে করছি।

[১১] ছাতার দিঘী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, আমার ১৩ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘা জমিতে পোকার আক্রমণে সব পাকা ধান সাদা হয়ে গেছে। আমি ওই ৮ বিঘা জমি থেকে ২মণ করে ধানও পাব না। এবারও আমার অনেক টাকার ক্ষতি হবে।

[১২] এছাড়া সিংড়া উপজেলার ছাতার দিঘী, চৌগ্রাম, ইটালী ও ডাহিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের এমন দুঃখ-দুর্দশার চিত্র দেখা যায়।

[১৩] তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা বলেন, দীর্ঘ দিন বৃষ্টিপাত নেই। অতি খড়ায় তাপদাহের ফলে ধানে এপোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কৃষি অফিসের সকল উপ- সহকারী মাঠে গিয়ে সরাসরি কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে । আশা করি ক্ষতির পরিমাণ কমে যাবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত