প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজশাহীর মাঠগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছে ভুট্টা চাষিরা, বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামও ভাল

মঈন উদ্দীন: [২] জমি থেকে ভুট্টা তোলার পর দানাগুলো আলাদা করার পর রোদে শুকাতে কৃষক-কৃষানীসহ পরিবারের সকলেই ব্যস্ত সময় পার করেছে।

[৩] তাদের ভুট্টা শুকাতে দেখে এখানেই ফড়িয়ারা কিনতে আসছেন। চলতি মওসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামও ভাল পাওয়া খুশি চাষিরা।

[৪] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় এবার গতবছরের চেয়ে এবার বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে। এ বছর জেলার ৯ উপজেলায় ভুট্টা চাষ হয়েছে ৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। হেক্টরপ্রতি সাগে ৯ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের জমিতে হেক্টরপ্রতি ভুট্টার উৎপাদন ৮ হেক্টরের নিচে নামে না। আর বরেন্দ্র এলাকার বিল এবং পদ্মা নদীর ওপারে চরের জমিতে উৎপাদন ১২ মেট্রিক টন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

[৫] জেলা গোদাগাড়ী উপজেলার হরিশংকরপুরের ভুট্টাচাষি পলাশ হোসেন (৪৫) সাংবাদকদের বলেন, এবার ভুট্টার ফলন ভাল। বাজারে দামও ভাল। এখন প্রতিমণ ভুট্টা ৭২৫ থেকে ৭৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। ভুট্টা বিক্রি করে তাঁর লাভ হবে। সকালেই তিনি বিক্রি করবেন।

[৬] গোদাগাড়ীর কাদিপুর এলাকায় শ্রমিকদের নিয়ে জমি থেকে ভুট্টা তুলছিলেন রাসেল আহমেদ (৪০)। তিনি জানান, নিজের আড়াই বিঘা জমিতে তিনি ভুট্টা চাষ করেছেন। শুরুতে তিন কেজি বীজ লেগেছিল। বীজের দাম ছিল ৬৫০ টাকা কেজি। জমিতে তিনবার সেচ দিতে হয়েছে, চারবার দিতে হয়েছে সেচ। এখন ভুট্টা তোলার সময় আটজন শ্রমিককে ৩৫০ টাকা করে পারিশ্রমিক দিতে হবে। সবমিলিয়ে তাঁর খরচ প্রায় ২৫ হাজার টাকা। তারপরও ভুট্টা বিক্রি করে তাঁর ভাল লাভ থাকবে।

[৭] গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহ গ্রামের ভুট্টাচাষি সারোয়ার শেখ জানান, চরে ৪৫ থেকে ৫০ মণ পর্যন্ত ভুট্টার ফলন হচ্ছে এক বিঘা জমিতে। তবে পদ্মা পার করে ফড়িয়ারা ভুট্টা নিয়ে যান বলে তাঁদের এলাকায় দাম একটু কম। তারপরও ফলন বেশি হওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে না। সারোয়ার বলেন, যে লাভ হচ্ছে তাতেই খুশি। তবে আরেকটু দাম বেশি হলে আরও ভাল হতো। আমরা আরও বেশি লাভ করতে পারতাম।

[৮] কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ ও গবাদিপশু লালন-পালন বেড়েছে। আর মাছের ও গবাদিপশুর খাবার তৈরিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পড়ছে ভুট্টার। তাই ভুট্টার চাহিদাও থাকছে সব সময়। এ কারণে দামটাও পড়ে যাচ্ছে না। চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। ভুট্টা চাষে আগ্রহও বাড়ছে।

[৯] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে জে এম আবদুল আউয়াল বলেন, রাজশাহীতে গেল কয়েকবছর ধরেই ভুট্টা চাষ বাড়ছে। তাই চাষিরা যেন ভাল বীজ পান, সেটা কৃষি বিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয়। আর ভাল বীজের কারণে ভাল উৎপাদন হয়।

[১০] তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে ভাল লাভ দেখেই চাষিরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। এ বছরও ভুট্টার বাজার ভাল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনও হয়েছে ভাল। আমরা আশা করছি আগামী বছর ভুট্টা চাষ আরও বাড়বে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত