প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আলী রীয়াজ: দফায় দফায়, ঢেউয়ের মতো এসে তা যেন জানান দেয় যে এখনো দুঃসময়

আলী রীয়াজ: এখন বড় দুঃসময়ের মধ্যে আছি আমরা সবাই; সুসংবাদের প্রত্যাশা প্রায় নেই-ই, শুধু প্রত্যাশা  যেন দুঃসংবাদ না শুনতে হয়। এই দুঃসময়ের সূচনা গত বছর, বিশ্বজুড়েই কিন্তু শেষ দেখতে পাই না; দফায় দফায়, ঢেউয়ের মতো এসে তা যেন জানান দেয় যে এখনো দুঃসময়। আমাদের মরণশীল জীবন, তার অস্থায়ীত্ব যে কতোটা সহজে দৃষ্ট সেটা আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। আহা! এই হচ্ছে জীবন। গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশ থেকে কেবল হারানোর খবর পাই- চেনা, পরিচিত, অর্ধ-পরিচিত মানুষের খবর আসে; তার সঙ্গে আসে আরও অনেক মৃত্যু সংবাদ। তরতর করে যা বাড়ছে তা তো সংখ্যা নয়, কেবল পরিসংখ্যান নয়, কারও না কারও আপনজন, আশ্রয়স্থল, ভরসার জায়গা, ভালোবাসার মানুষ। তাদের কাউকে কাউকে আমি বা আপনি ব্যক্তিগতভাবে চিনি, কাউকে চিনি না। কিন্তু তারা সবাই ছিলেন, এখন নেই। তাদের না থাকাগুলো আমাদের চারপাশে।

সাজেদুল আউয়াল শামীমের মৃত্যুর খবর দেখলাম। অনেক অনেক বছর  শামীমের সঙ্গে দেখা হয়নি, কিন্তু এক সময় আমাদের সময় কেটেছে একত্রে হাসি, ঠাট্টা, বিতর্কে। সত্তরের শেষ দিকের বছরগুলোতে শুরু হয়ে মধ্য-আশির দশক অবধি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্ত্বরে। দেখা হয়েছে কবিতা পাঠের আসরে আয়োজনে, দেখা হয়েছে লেখালেখির আড্ডায়। নির্বিরোধ শামীমের হাসির মধ্যে কী যেন একটা ছিলো যা অন্যদের মধ্যেই সহজেই সংক্রমিত হতো। যে বয়সে আমাদের হওয়ার কথা ছিলো রাগী, সেই সময়ে শামীম ছিলো সজ্জন।

যেন হাসির মধ্যেই সবকিছু ধারণ করা যায়। আমার স্মৃতি আমাকে প্রতারণা না করলে সেই সময়ে- সেটা ১৯৭৮/৭৯ সাল,  ‘নির্জন ক্রোধ’ নামে একটি সংকলন প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলো। সম্ভবত শামীম সম্পাদনা করেছিলো। কে জানে; হয়তো তা নয়। তারপরে কতোটা সময় চলে গেছে। কবিতা, নাটক কিংবা নেহাৎই অর্থহীন আড্ডার সেই সব সময় পেরিয়ে এসেছি অনেক দিন; শামীমের সঙ্গে দেখা হয়নি তাও এক যুগ তো হবেইÑতার চেয়েও বেশি। কিন্তু এখানে সেখানে নাম দেখি, স্মৃতি এসে হানা দেয়। এখন বড় দুঃসময়, যাদের চিনি তাদের হারাই, যাদের চিনি না তাদের হারানোর খবর এসে পৌঁছায়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত